ঐক্যফ্রন্ট যেকোনো মূল্যে শেখ হাসিনাকে থামাতে চায়

শেখ আদনান ফাহাদ
 | প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:৫৪

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম নির্দেশদাতা সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের দল, স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধী রাজনৈতিক অপশক্তি জামাতের দোসর বিএনপি, যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের আইনজীবী, ইহুদি ডেভিড বার্গম্যানের শ্বশুর ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের অনুকূল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টিতে অন্যতম ভূমিকা পালনকারী আ স ম আব্দুর রবের জেএসডি আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলে দেয়ার ষড়যন্ত্রকারী মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যের তালগোলে জন্ম নিয়েছে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’।

কিছু কিছু পত্রিকা ব্যাপক কাভারেজ দিচ্ছে এই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে। এক কলামের নিউজকে লিড স্টোরি করছে দেশের একটি শীর্ষ পত্রিকা। সাংবাদিকতা যখন হয় ফরমায়েশি তখন বুঝি এমনই হয়। ঢাকা-কেন্দ্রিক কিছু পথচ্যুত রাজনীতিবিদ বাংলাদেশের অগ্রগতিকে থামিয়ে দিতে একটি প্ল্যাটফর্ম করেছেন। এর পেছনে স্থানীয় ও বিদেশি বিশেষ শক্তির আশীর্বাদ রয়েছে এটি আমরা বুঝতে পারি।

১/১১ এর অন্যতম কুশীলব, জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবিরের বহু প্রোগ্রামে ‘অনুপ্রেরণাদায়ী’ ভাষণ প্রদানকারী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনও খুব সরব হয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট দাওয়াত খাওয়ার নামে দেখা করে চলেছেন সরকারের কট্টর সমালোচকদের সাথে। এদিকে বাগদাদে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা মার্কিন মেরিন আর্থার মিলারকে বাংলাদেশকে এই জটিল সময়ে রাষ্ট্রদূত করে পাঠাচ্ছে ট্রাম্প সরকার। ১৯৭৫ সালের সেই অভিশপ্ত সময়ে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা নিশ্চয় জাতি ভুলে যায়নি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পুরো পরিকল্পনার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পদ্মা সেতু ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও আমরা দেখেছি।

দেশের জনগণ যতই আওয়ামী লীগের সাথে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সাথে থাকুক, এতে কিছু যায় আসে না এই ষড়যন্ত্রকারীদের। যেকোনো মূল্যে এরা শেখ হাসিনাকে পরাজিত দেখতে চায়, যেমনটা দেখতে চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা। শেখ হাসিনাকে পরাজিত করার জন্য এই ষড়যন্ত্রকারীরা কী পরিমাণ মরিয়া সেটি আমরা ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম কুশিলব জাফরুল্লাহর আর্মি চিফ সংক্রান্ত মন্তব্য থেকে অনুধাবন করতে পারি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আদালতের রায় মেনে নিতে না পেরে সেনাবাহিনীর বর্তমান প্রধানকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ মিথ্যাচার করেন জাফরুল্লাহ। শুধু তিনি নন, সুলতান মনসুরসহ অন্য সরকার-বিরোধী নেতারাও গ্রেনেড হামলার রায় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে প্রতিরক্ষাবাহিনীকে জড়িয়ে কথা বলছেন।

সরকার এবং সাধারণ মানুষকে এই স্পর্শকাতর ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। সরকার-বিরোধিতার নামে রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং রাষ্ট্রবিরোধিতা করার কোনো সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে গিয়ে বাংলাদেশকে আবারও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়ার প্রক্রিয়া গোপনে এবং প্রকাশ্যে চলছে। দেশবাসীকে সদা সর্বদা সজাগ থাকতে হবে সামনের কয়েকটি মাস। না হলে অশুভ শক্তি চরম প্রতিশোধ নিয়ে বাংলাদেশের সমস্ত সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দেবে।

পুরো বিশ্ব জানে বাংলাদেশ গত ১০ বছরে অবিশ্বাস্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশ ক্রমাগত এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশ নানা ক্ষেত্রে পাশের দেশ ভারতকে পর্যন্ত পেছনে ফেলেছে। দেশের মানুষ শেখ হাসিনার সেবা পেতে চায়, কিন্তু কামাল হোসেন আর আ স ম আব্দুর রবেরা কোনোমতেই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় থাকতে দিতে চায় না।   

দ্রুততম প্রবৃদ্ধির রাষ্ট্র ভারতকেই দক্ষিণ এশিয়াতে পাওয়ার হাউজ হিসেবে দেখা হয়, তবে এই পরিস্থিতি পরিবর্তিত হবে শিগগির। ইতিমধ্যেই সামাজিক নানা সূচকে ভারতকে পেছনে ফেলা প্রতিবেশী বাংলাদেশ অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রেও শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছে যাচ্ছে।

এশিয়ান ডেভেলাপমেন্ট ব্যাংক এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৫ শতাংশ; অন্যদিকে এই সময়ে ভারতের প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৩ শতাংশ হারে। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭.২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি; অন্যদিকে সে অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.১ শতাংশ।

বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়ও ভারতের তুলনায় তিনগুণ বেশি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলনে প্রদত্ত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল সময়ে ভারতের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৩.৮ শতাংশ হারে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩৯ শতাংশ হারে।

 হিসেব কষে দেখা গেছে, পরবর্তী দুই বছর বাংলাদেশ যদি বর্তমান হারে গ্রস ন্যাশনাল ইনকাম (জিএনপি) এবং গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাকশন (জিডিপি) অব্যাহত রাখতে পারে তাহলে ২০২০ সালেই মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে ভারতকে পেছনে ফেলবে। 

পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চল থেকে জন্ম নিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র। ১৯৭১ সালে পাওয়া স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৭২ সালে স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটির প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাইনাস ১৪ শতাংশ। দুই বছরেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিবিড় পরিচর্যায় দেশটি উন্নয়নের পথে অগ্রযাত্রা শুরু করে জোরেশোরে। তখন প্রবৃদ্ধির হার ছিল রেকর্ড ৯.৬ শতাংশ। কিন্তু এক বিপর্যয়কারী দুর্ভিক্ষে দেশটির অর্থনীতি আবার ভেঙ্গে যায়। সে দুর্ভিক্ষে ১.৫ মিলিয়ন মানুষ মারা যায়। দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে দেশটির অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় মাইনাস ৪ শতাংশে। সবাই জানে, সেই দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরির পেছনে কারসাজি ছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের। ঘোলাটে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলে স্বাধীন বাংলার সোনার বাংলায় পরিণত হওয়ার সব সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যায়।  ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা শুধু আওয়ামী লীগকেই বাঁচাননি, বাংলাদেশকেও উন্নয়নের পথে ধাবিত করেছেন। 

‘মানব পুঁজি’ শীর্ষক একটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে মেডিক্যাল জার্নাল ‘দ্যা ল্যানসেট’ এ। এই জার্নালে দেখানো হয়েছে বাংলাদেশ কীভাবে ভারতকে বিভিন্ন মানব ও সামাজিক উন্নয়ন সূচকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৭ সালে বাংলাদেশে প্রতিহাজারে শিশু মৃত্যুর হার ছিল ২৭। ঐ একইসময়ে ভারতে শিশু মৃত্যুর হার ছিল ৩২।  বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু যেখানে ৭২.৫৮ শতাংশ, ভারতের মানুষের গড় আয়ু ৬৮.৮ বছর। সম্প্রতি জনগণের জন্য স্বাস্থ্য সেবা ও খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদনেও ভারতকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ।

শেখ হাসিনা এখন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও প্রাচ্যকে গর্বিত করলেও পশ্চিমা পুঁজিবাদী ব্লক এবং এর দেশীয় দালালদের হতাশ করেছেন। সবাই মিলে টার্গেট করেছে শেখ হাসিনাকে। সব রাগ এদের শেখ হাসিনার উপর। এই অশুভ শক্তি জানে, শেখ হাসিনাকে থামিয়ে দিতে পারলে বাংলাদেশ থেমে যাবে। ঘুরে ফিরে সেই ১৯৭১ ও ১৯৭৫ সালের পরিস্থিতি। তবে আশার কথা হলো দেশের মানুষ আগের থেকে অনেক বেশি সচেতন এবং কর্মমুখী। শেখ হাসিনাই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি আস্থাভাজন রাজনীতিবিদ। তিনি সফল রাষ্ট্রনায়ক। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে নিষ্কণ্টক করতে হলে দেশবাসী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

 লেখক: শিক্ষক সাংবাদিক

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত