ক্রেডিট কার্ডে সুদহারের তথ্য দেয়নি ২৫ ব্যাংক

রহমান আজিজ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:১৭
ফাইল ছবি

ক্রেডিট কার্ডে আগ্রাসীভাবে বেপরোয়া সুদ আদায়কারী ব্যাংকগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে দুই দফা চিঠি পাঠালেও এখনো তথ্য দেয়নি ২৫ ব্যাংক। বাকি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ১৮ ব্যাংকের  সুদহার অনেক বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট কার্ড ঋণের সুদের হার জানতে চেয়ে প্রথম ধাপে (২৮ জুন) পাঠানো চিঠির কোনো উত্তর না পেয়ে দ্বিতীয় ধাপে (১৪ আগস্ট) পুনরায় তাগাদাপত্র পাঠানো হয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ২৫ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সুদের কোনো তথ্য জানায়নি। পূবালী, রূপালী, অগ্রণী, বেসিক, বিডিবিএল, সীমান্ত, শাহজালাল, বিকেবি, আল আরাফা, ফারমার্স, ফার্স্ট সিকিউরিটি, আইসিবি, এনআরবি গ্লোবাল, ইউনিয়ন, উত্তরা, আল ফালাহ, সিটি এনএ, হাবিব, এইচএসবিসি, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, উরি ব্যাংকসহ আর কয়টি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড ঋণ সুদহারের কোনো তথ্য জানায়নি।

৩২ ব্যাংক তথ্য দিলেও ১৮ ব্যাংকের ক্রেডিটকার্ডেও সুদহার অনেক বেশি। এদের মধ্যে জনতা, ঢাকা, ইস্টার্ন, এক্সিম, মিডল্যান্ড, মধুমতি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, ন্যাশনাল, এনসিসি, এনআরবিসি, প্রাইম, স্ট্যান্ডার্ড, ইউসিবি, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলোন এবং আরও কয়েকটি ব্যাংক গ্রাহকদের কাছ থেকে চড়া সুদ আদায় করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রথমবার চিঠি পাঠানোর পর এক্সিম ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল ব্যাংক ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়াসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক উত্তর না করলেও দ্বিতীয় তাগাদাপত্রের সাড়া দিয়েছে এসব ব্যাংক। তাদের এসব পাঠানো উত্তর এখন বাংলাদেশ বাংকে জমা রয়েছে। পূজার ছুটির পর এগুলো বিস্তারিত পরা হবে। কোন ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের ওপর কি পরিমাণ সুদ বেশি নিচ্ছে এবং কেন নিচ্ছে এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, আর তাগাদাপত্র পাঠানো হবে না।  এরই মধ্যে দুইবার পাঠানো হয়েছে। পূজার ছুটির পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ ছাড়া ব্যাংক সুদের হার এক অঙ্কে রাখার ব্যাপারটি মাথায় রেখে সব বাণিজ্যিক বাংকে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ‘ইলেক্ট্রনিক মানি’ খ্যাত ক্রেডিট কার্ড বর্তমান আধুনিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত আর সহজ লেনদেনের সুবিধা ছাড়াও এ কার্ড দিয়ে বাকিতে জিনিসপত্র কেনা যায়। তাছাড়া নানান লোভনীয় অফার যেমন ‘ক্যাশ ব্যাক অফার’, ‘স্পেশাল ডিসকাউন্ট’, প্লেনের টিকিট কাটতে বিশেষ মূল্যছাড়, এমনকি দেশের বাইরেও রয়েছে এর হরেক আকর্ষণ। কিন্তু এগুলোকে এখন প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে চড়া সুদ আদায় করার কৌশল বলে মনে করছেন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, ক্রেডিট কার্ডে ব্যাংকগুলো ইচ্ছেমতো সুদ নিচ্ছে; যা বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ক্রেডিট কার্ডের সুদের উপরে যে সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এগুলো মানা হচ্ছে না। এ অবস্থায় ক্রেডিট কার্ডের সুদহারের লাগাম টেনে ধরতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুস্পষ্ট নির্দেশনা বা গাইডলাইন থাকা দরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন অনুযায়ী কোন ব্যাংকের অন্য ঋণের মধ্যে সর্বোচ্চ সুদের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি হতে পারবে এসব কার্ডের সুদ হার। কিন্তু এ নীতিমালা অমান্য করে ব্যাংকগুলো তাদের ইচ্ছা মাফিক সুদ ও অন্যান্য ফি আদায় করছে যা গ্রাহকদের জন্য আতঙ্কের বিষয়। জানা গেছে, বর্তমান ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডে ১৬ থেকে ৩৬ শতাংশ হারে সুদ নেওয়ার কথা বললেও নিচ্ছে ৩০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত।

ঢাকাটাইমস/১৮অক্টোবর/এআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত