সফলতার সঙ্গে দুঃখও ছিল: আইয়ুব বাচ্চু

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৪৪

বাঙালিদের প্রিয় রক ব্যান্ড এলআরবি। আর এলআরবি মানেই আইয়ুব বাচ্চু। প্রায় ২৭ বছর ধরে প্রথিতযশা এই ব্যান্ড দলটি দেশের শ্রোতাদের মন ভরিয়েছে। এই চলার পথে শ্রোতাদের উপহার দিয়েছে অসংখ্য জনপ্রিয় গান। জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ চলো বদলে যাই’, ‘ঘুমন্ত শহরে’,‘ রুপালি গিটার’, ‘ঘুম ভাঙ্গা শহরে’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘হাসতে দেখো’ ইত্যাদি। এসব গান এলআরবির কান্ডারি আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠে গাওয়া। আজ সকালে রুপালি গিটার ছেড়ে চলে গেছেন আইয়ুব বাচ্চু। 

সেই শুরু থেকে এপর্যন্ত স্টুডিও অ্যালবাম করেছে দলটি মোট ১১টি, সংকলিত অ্যালবাম দুইটি এবং মিক্সড অ্যালবাম প্রকাশ করেছে  ৯টি।

এদীর্ঘ সময়ের পথ চলা নিয়ে আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে কথা হয় ঢাকাটাইমসের সাথে।  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহজালাল রোহান। সাক্ষাৎকারটি আবার পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো। সাক্ষাৎকারটি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নেয়।

কেমন আছেন? দীর্ঘ পচিঁশ বছর জনপ্রিয়তার সঙ্গে। এ নিয়ে কিছু বলুন।

আইয়ু্ব বাচ্চু: আলহামদুলিল্লাহ। শ্রোতা বন্ধুদেরও ধন্যবাদ দীর্ঘ সময় আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য। আমাদের গান শোনার জন্য।

এলআরবি ব্যান্ড দলের যখন সূচনা হয় তখন কি ভেবেছিলেন এই ব্যান্ড দলটি রজতজয়ন্তী উৎসব করবেন?

আইয়ুব বাচ্চু: মানুষ তার স্বপ্নের চেয়ে বড়। স্বপ্ন দেখেছি বলেই আজ এলআরবি। আমরা জন্মেই স্বপ্ন দেখেছি মানুষ হবো। আর মানুষ হতে হতে শুরু করলাম ব্যান্ড দল। শুরু করেই দেখি এটি একটি অফুরন্ত জার্নি। এর কোন শেষ নেই। এই ২৫ বছরে পাওয়া না পাওয়া মিলে যা আছে সব মিলিয়ে আমরা খুশি। তবে এই  ২৫ বছরের সফলতার সঙ্গে অনেক দুঃখও ছিল।

এলআরবি রজতজয়ন্তীর উৎসব করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শ্রোতারা কি ব্যান্ড দলটির সুবর্ণজয়ন্তীর আশা করতে পারে?

আইয়ুব বাচ্চু: দর্শক শ্রোতারা এমন আশা করলে আমরা খুব খুশি। আমিও আশা করছি ৫০ বছরেও দর্শকরা আমাদের পাবে।

নতুনদের জন্য কি বলবেন? এখনতো অনেক ব্যান্ড দল আছে?

আইয়ুব বাচ্চু: নতুন প্রজন্ম যারা আছে তারাও এভাবে রজতজয়ন্তী, সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব করুক, আমি সেই দোয়াই করি। তাদের জন্য পরামর্শের কথা বলা হয় তবে বলবো, একজন দলনেতার ভূমিকা অনেক। অনেক কিছু দেখেও না দেখার ভান করতে হবে, শুনেও না শোনা ভান করতে হবে। এভাবে একসঙ্গে ব্যান্ড টিকে থাকলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। সবমিলিয়ে দল নেতাকে আত্মত্যাগ করতে হবে।

এবারের এ রজতজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে  দর্শক-শ্রোতাদের জন্য কি থাকবে?

আইয়ুব বাচ্চু: দর্শক বন্ধুদের জন্য ১৯৯১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত কি কি গান করেছি, তা সব একসঙ্গে থাকবে। কনসার্টে এই গানগুলো গাওয়া হবে।এতো বছর আসতে পথে পথে কি বাঁধা ছিল তাও জানা যাবে কনসার্টে। সব মিলিয়ে একাধারে ৪০টির মতো গান থাকবে। যা দর্শকরা উপভোগ করবে। আরো গান, ফান সবই হবে। পুরো লাইভ। আমাদের ব্যান্ড স্পেসশিপে চড়ে সবাই একসঙ্গে উড়বো। আবার নিচে নামবো। আরো অনেক চমক রয়েছে শ্রোতা বন্ধুদের জন্য। 

এলআরবি এ পর্যন্ত যেসব গীতিকারের লেখা গান গেয়েছে। সবাইকে এক করার কি কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?

আইয়ুব বাচ্চু: এলআরবির প্রথম গীতিকার আমি আইয়ুব বাচ্চুই। এছাড়াও যারা এ পর্যন্ত এলআরবির জন্যযারা গান লিখেছেন তাদের অনেকেই এখন প্রবাসী। তাই এদের সবাইকে এক করা সম্ভব না। এছাড়াও তারা সময়ও বের করতে পারবেন না। তাই সবাইকে এক করা সম্ভবও নয়। আর যেহেতু এটা পূর্ণমিলনী নয় তাই এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। তবে সবাই দাওয়াত পাবে।

(ঢাকাটাইমস/১৮অক্টোবর/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত