চলো বদলে যাই...

তায়েব মিল্লাত হোসেন
 | প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ১১:৩১

সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে

 

সেই আমি কেন তোমাকে দুঃখ দিলেম

কেমন করে এত অচেনা হলে তুমি

কিভাবে এত বদলে গেছি এই আমি।

বুকেরই সব কষ্ট দুহাতে সরিয়ে

চলো বদলে যাই...

― আইয়ুব বাচ্চু, এলআরবি, সুখ, ১৯৯৩

 

ছেলেবেলায় আমাদের ইংরেজি পাঠে একটা কবিতা ছিল ‘দ্য অ্যারো অ্যান্ড দ্য সং’। তীরের চেয়ে একটা গানের ক্ষমতা অনেক বেশি। সেই কথাই বলা হয়েছে এই কাব্যে। আসলেই তীরন্দাজের চেয়ে একজন গায়ক অনেক বেশি মূর্তমান। সেই কবে উপরের গানখানি শুনেছিলাম। ফিতে ক্যাসেটের আনপ্ল্যাগ্‌ড রেকর্ডখানি ঘর থেকে আর সব ক্যাসেটের সঙ্গে কখন কোথায় উধাও হয়ে গেছে, তা-ও অজানা। তবু পথেঘাটে, এফএম বেতারে, এমপিথ্রিতে কোথাও ‘সেই তুমি’ শুনলে একই রকম আবেগে ভেসে যাই। সেই একই কৈশোরের থরো থরো অনুভূতি হৃদয়ের অন্দরে এসে হাজিরা দিয়ে যায়। আবার থেকেও যায়।

এমন একটা গানের মানে অন্যরকম। এমন একটা সুর অন্য কিছু। সব এলোমেলো করে দেয়। মনে হয় গানই জীবন। গানে গানেই যেন যাপন। এমন একটা গানে গোছানো গদ্য খানখান হয়ে উন্মূল জোয়ারে ভেসে যায়। গানের দুনিয়া পাল্টে দেয়। সেই কাজটি যথেষ্টই করতে পেরেছে আইয়ুব বাচ্চুর সৃজনখানি। ‘সেই তুমি’ নিয়ে ঢাকাই ব্যান্ডসঙ্গীতের অন্যতম এই দিকপালের স্মৃতিচারণ হচ্ছে-

‘গানটি জন্মের দিনক্ষণ ঠিক মনে নেই। তবে ১৯৯৩ সালের কোনো একদিন হবে। আমি তখন পশ্চিম মালিবাগে থাকতাম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এক বসাতেই গানটির সৃষ্টি। আমারই লেখা। আমারই সুর করা। আমারই গাওয়া। এক লাইন লিখি আর গিটারে সুর করি। এভাবে গানটা তৈরি হয়। অবশ্য গানটি রেকর্ড করতে অনেক সময় লেগেছে। সংগীত আয়োজনে সময় লেগেছে দুই দিন। কণ্ঠ দিতে বেশি সময় লাগেনি। গানটি ছিল এলআরবির সুখ অ্যালবামে।’

বাংলার ব্যান্ডের মহীরূহ এলআরবির কাপ্তান আইয়ুব বাচ্চু বিদায় নিলেন। বড় অসময়ে এই বিদায়। বয়স মাত্র ছাপ্পান্নো। এতো অল্পতেই বিদায়! তবু বিদায় নয়। রইলো অনেক অনেক গান। যা অমৃত হয়ে অমরতার পথে এনে দিয়েছে তাকে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বয়ে নিয়ে যাবে তার সৃজনকর্ম। এই তো এখনি আমরা দেখছি কলকাতার চ্যানেল জি বাংলার সারেগামাপা সঙ্গীত প্রতিযোগে ঢাকার ছেলে মাইনুল ইসলাম নোবেল আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া ‘সেই তুমি’ দিয়ে মাত করে দিয়েছেন। এই গান হয়েছে সারেগামাপার প্রোমো। নোবেলের গায়কি নিয়ে দিন কয়েক আগেই বাচ্চুর মন্তব্য ছিলো, ‘এককথায় আমি মুগ্ধ।’

বাংলার ব্যান্ডপিয়াসীরাও বহুকাল ধরে মুগ্ধ-বিমুগ্ধ থেকে যাবে বাচ্চুর গানে; বাচ্চুর সুরে ও সৃজনে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত