স্ত্রীর পরকীয়ায় বাধা, স্বামী জেলহাজতে

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৩১ | প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৫৫

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে স্ত্রীর পরকীয়ায় বাধা ও পরকীয়া প্রেমিককে ছুরিকাঘাত করে আহত করার ঘটনায় স্বামীকে বুধবার কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

জানা গেছে, গত রবিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নের খাসমহল বালুরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরকীয়া প্রেমিক আহত আমির হোসেনের স্ত্রী আছমা বেগম বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় স্ত্রীর পরকীয়ায় বাধা প্রদানকারী স্বামী আক্তার হোসেন বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খাসমহল বালুরচর গ্রামের আরব আলীর পুত্র আক্তার হোসেনের স্ত্রী ও মোল্লাকান্দি গ্রামের ধলু মিয়ার পুত্র আমির হোসেন কসাইয়ের পরকীয়া সম্পর্ক দীর্ঘদিনের চলছিল। গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে আক্তার হোসেনের বসতঘরে তার স্ত্রীর সাথে আক্তার হোসেন দরজা আটিকিয়ে ঘরে ছিল। বিষয়টি ওই গৃহবধূর ছেলে হাবিব দেখে বাবা আক্তার হোসেনকে ফোনে জানায়। আক্তার হোসেন বাড়িতে এসে তার স্ত্রী ও আমির হোসেনকে বসত ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে আটক করে সিরাজদিখান থানায় খবর দেয়। আমির হোসেন তার বসতঘর থেকে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায় ঘরে থাকা চাকুর উপর পরে আঘাতে আমির হোসেন গুরুতর আহত হয়। ঘটনাটি তাৎক্ষণিক এলাকায় জানাজানি হলে আমির হোসেনের ভাই আলতাফ হোসেন আলতুসহ তার পরিবারের লোকজন তাকে ছিনিয়ে নিয়ে ঢাকা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সাথে চলে যায় আক্তারের স্ত্রী।

সিরাজদিখান থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও উপ-পুলিশ পরিদর্শক সারোয়ার হোসেন ভুইয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্তার হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

ওই গৃহবধূ জানান, আমার সাথে কোন পরকীয়ার সম্পর্ক নেই। সে আমার ভাই, বালুচরে মারামারির ঘটনার পর থেকে আমাদের বাড়ি রাতে এসে থাকে। সে আমার স্বামীর বন্ধু। ওই দিন ঘটনার সময় আমার ঘরে আমির ভাই কথা বলতে ছিল, আমার স্বামীসহ কয়েকজন ঘরে প্রবেশ করে তাকে মারধর করে। কে চাকু দিয়ে আঘাত করেছে সেটা জানা নেই।

বালুরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলেক মুন্সী জানান, আমির হোসেন কসাই’র বিরুদ্ধে অসংখ্য মেয়েলি অভিযোগ আছে। খাসমহল বালুরচরের আরেকটি পরিবারকে ধ্বংস করেছে আমির হোসেন কসাই। আমরা এলাকার লোকজন এই আমির হোসেন কসাইর উপযুক্ত বিচার দাবি করছি এবং নিরীহ আক্তার হোসেনের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

সিরাজদিখান থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন জানান, ঘটনার সাথে সাথে থানা থেকে ফোর্স পাঠানো হয়। ঘটনার পর ১৪ তারিখ রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আক্তারকে থানায় নিয়ে আসা হয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। ১৬ অক্টোবর বাদী আসমা মামলা করলে আক্তারকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়। আহত আমির হোসেনের অবস্থা এখন উন্নতির দিকে।

(ঢাকাটাইমস/১৮অক্টোবর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত