ভারত নিয়ে ‘আতঙ্কে’ পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:০৯

পর পর বেশ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করেছে ভারত। নীরবে সেরে ফেলা হয়েছে বাহিনীর কিছু জরুরি আধুনিকীকরণও। পাকিস্তানের অস্বস্তি বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক ছিল।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গেল, শুধু অস্বস্তিতে নয়, নয়াদিল্লির গতিবিধিতে আতঙ্কে রয়েছে ইসলামাবাদ। ভারতের ‘আক্রমণাত্মক আচরণ’ দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তান প্রেসিডেন্ট। কিছু দেশ ভারতকে অতিরিক্ত সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে বলেও প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির দাবি।

গত সোমবার ইসলামাবাদে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতা করেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট। পরমাণু অস্ত্রের প্রসার রোধ সংক্রান্ত বিষয়ে সম্মেলনটি আয়োজিত হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সেই সম্মেলনে সরাসরি নাম ভারতকে আক্রমণ করেন।

তিনি বলেন, ‘ভারত যে রকম আক্রমণাত্মক আচরণ করছে এবং যেভাবে (বাহিনীতে) নানা মারণাস্ত্রের অন্তর্ভূক্তি ঘটাচ্ছে, তাতে দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হয়ে পড়ছে।’

সামরিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু দেশ ভারতের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন পাকিস্তান প্রেসিডেন্ট।

তার কথায়, ‘ভারতকে পরমাণু প্রযুক্তি এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করার জন্য কিছু দেশ যে পক্ষপাতমূলক ছাড় দিয়েছে, তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিধির বিশ্বাসযোগ্যতাকে নষ্ট করেছে।’

কোনো কোনো দেশ ভারতকে ‘পক্ষপাতমূলক ছাড়’ দিচ্ছে, তা পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেননি ঠিকই। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্সের মতো দেশগুলির দিকেই যে পাকিস্তান প্রেসিডেন্ট আঙুল তুলতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট।

ন্যাটোর বাইরে যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সামরিক সমঝোতা রয়েছে, ভারত তারমধ্যে অন্যতম। ভারত মহাসাগরীয় এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌসেনা পরস্পরের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ শুরু করেছে।

ফ্রান্সের সঙ্গে রাফাল চুক্তি চূড়ান্ত করেছে ভারত। পৃথিবীর সেরা যুদ্ধবিমানগুলির অন্যতম রাফালকে আবার ভারতের কিছু বিশেষ প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে বিশেষভাবে তৈরি করা হচ্ছে।

২০১৯ সাল থেকেই একে একে ভারতের হাতে আসতে শুরু করবে রাফাল যুদ্ধবিমানগুলি। রাফালের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভারতীয় বিমানবাহিনীর হাতে এলে যে চীন-পাকিস্তানের যৌথ শক্তির মোকাবিলার প্রশ্নেও ভারত অনেকটা স্বস্তিদায়ক অবস্থানে চলে আসবে, তা সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন।

সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সমঝোতা হয়ে গেল ভারতের। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারত সফর করলেন চলতি মাসেই। তখনই ভারত-রাশিয়ার মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এস-৪০০ ট্রায়াম্প চুক্তি। অত্যাধুনিক এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতের আকাশসীমার নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে, রুখে দেবে ক্ষেপণাস্ত্র হানা। রাশিয়ার কাছ থেকে নৌ বাহিনীর জন্য বেশ কিছু স্টেলথ ফ্রিগেটও কিনছে ভারত। কথাবার্তা চূড়ান্ত হওয়ার পথে। সূত্র: আনন্দবাজার

(ঢাকাটাইমস/১৮অক্টোবর/এসআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত