শ্যালিকার সঙ্গে পরকীয়ায় প্রাণ গেল গৃহবধূর

চাঁদপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:৪৮

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব হাটিল ইউনিয়নের পূর্ব হাটিলা গ্রামে প্রবাসী ভগ্নিপতির সাথে পরকীয়া প্রেমের কারণে ছোট বোন আইরিন আক্তার ও স্বামী হযরত আলীর হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন নাসরিন আক্তার রিভা (২০) নামে গৃহবধূ। এ ঘটনায় আইরিন আক্তার ও হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির এ চাঞ্চল্যকর হত্যার বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
হত্যার শিকার আইরিন সুলতানা রিভা হাটিলা গ্রামের বেপারী বাড়ির প্রবাসী আব্দুর রহিমের কন্যা। তিনি হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পাস করেন। হত্যায় অভিযুক্ত স্বামী হযরত আলী চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের মনিহার গ্রামের তোরাব আলী মুন্সি বাড়ির রুহুল আমিন মাস্টারের ছেলে। তিনি দুবাই প্রবাসী ছিলেন। হত্যাকা- ঘটানোর লক্ষ্যে চলতি মাসের ৮ তারিখে দেশে আসেন। গত ৬ মাস আগে মার্চ মাসে নাসরিনের সাথে হযরত আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পরে তিনি দুবাই চলে যায়।

অপর অভিযুক্ত নাসরিনের ছোট বোন আইরিন আক্তার রেখা (১৬) স্থানীয় টঙ্গিরপাড় হাটিলা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যায়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।
প্রেসব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ৯ অক্টোবর ওই গ্রামের বেপারী বাড়িতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নাসরিনের ছোট বোন আইরিন ও স্বামী হযরত আলী রাতে নাসরিনের পায়ে উড়না পেচিয়ে পা চেপে ধরে এবং হযরত আলী মুখে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। ওই সময় নাসরিন সজাগ হয়ে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হযরত আলী বালিশ ফেলে দিয়ে নাসরিনকে গলা চেপে ধরে এবং বুকে আঘাত করলে তার বুকের পাজর ভেঙে যায়। ওই অবস্থায় নাসরিন চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এ অসময় অভিযুক্তরা মনে করে নাসরিনের মৃত্যু হয়। নাসরিনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হযরত আলীকে অপর দরজা দিয়ে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে ছোট বোন আইরিন এবং বাড়ির লোকজনকে ভেতরের আরেকটি দরজা খুলে দিয়ে সেও অজ্ঞান হওয়ার ভান ধরে পড়ে থাকে।

এরপর ওই বাড়ির বাসিন্দা ফেরদৌসী আক্তার মিনুসহ লোকজন নাসরিন ও আইরিনকে প্রথমে হাজীগঞ্জ বিসমিল্লাহ হসপিটালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরবর্তীতে তাদের কুমিল্লা সিটি প্যাথ হসপিটালে নিয়ে যায়। ওই হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ অক্টোবর রাতে নাসরিনের মৃত্যু হয়। ওই রাতেই কুমিল্লা হসপিটাল থেকে নিহত নাসরিনের মরদেহ ও ছোট বোন আইরিনকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

ঘটনার রাত (৯ অক্টোবর) নাসরিনের মা নিলুফা ইয়াছমিন ঢাকা চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছিলেন। আর পিতা আব্দুর রহিম ঘটনার সংবাদ পেয়ে পরদিন দেশে চলে আসেন।

পুলিশ জানায়, মৃত্যুর খবর পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে পুলিশ নাসরিনের মরদেহ উদ্ধার, সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। এই ঘটনায় নিহতের পিতা আব্দুর রহিম ১৪ অক্টোবর মামলা করেন।

ওই মামলার তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক ফারুক আহম্মদকে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় একই উপজেলার বাকিলা বাজার থেকে অভিযুক্ত হযরত আলীকে আটক করেন। তার কথানুযায়ী ঘটনার সাথে জড়িত আইরিনকেও পুলিশ আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদে হযরত আলী পুলিশকে জানান, ঘটনার পূর্বে সে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। ওই রাতে পরকীয়া প্রেমিক শ্যালিকা আইরিনের সাথে যোগাযোগ করে ওই বাড়িতে আসেন। এর পূর্বে থেকে আইরিনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক এবং শারীরিক সম্পর্ক হয়।

পরে পুলিশ হযরত আলী ও আইরিন আক্তারকে চাঁদপুর আদালতে পাঠালে অভিযুক্ত হযরত আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

(ঢাকাটাইমস/১৮অক্টোবর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত