প্রতিরোধ কমিটি সদস্যের বাল্যবিয়ের আয়োজন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
 | প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:৪৯

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত বাল্যবিয়েবিরোধী সংগঠন ‘শুকতারা’। ‘যেখানেই বাল্যবিয়ে সেখানেই প্রতিরোধ’ স্লোগান নিয়ে গত ৩ মার্চ থেকে কাজ শুরু করে আসছিল সংগঠনটি। কিন্তু বৃহস্পতিবার বড় বোনের নিবন্ধন জাল করে সেই সংগঠনের সদস্য ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষার্থী রোজিনা আক্তারের বিয়ে চলছিল। রোজিনা উপজেলার সরইকান্দা গ্রামের প্রবাসী আ. লতিফের মেয়ে। বর আনসারুল (১৮) পাশের সালটিয়া ইউনিয়নের আব্দুল খালেকের ছেলে।

খবর পেয়ে এসিল্যান্ডের গাড়ি নিয়ে পুলিশসহ সেখানে হাজির হন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ সময় বর-কনের পরিবারের লোকজনসহ নিকাহ রেজিস্টার (কাজি) পালিয়ে যান। পরে সেখান থেকে বর-কনেকে আটক করে নিয়ে আসা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমানের কার্যালয়ে।
জানা গেছে, বাল্যবিয়েবিরোধী সংগঠন ‘শুকতার’র সদস্য জেএসসি পরীক্ষার্থী রোজিনা আক্তারের বিয়ে বৃহস্পতিবার চলছিল। সে অনুযায়ী কনের পরিবার বড় আয়োজন করে দুপুরে বরযাত্রাও আসে। দুপুরের খাবারের পর যখন বিয়ের আয়োজন চলছিল, তখন উপজেলা পরিষদ ভাইস-চেয়ারম্যান রেশমা আক্তার বাল্যবিয়ের খবর দেন মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা খালেদা আক্তারকে। পরে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম রহমানের নির্দেশে গফরগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক খায়রুল ইসলামকে সাথে নিয়ে বিয়ে বাড়িতে হাজির হন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বর ও কনের পরিবারের লোকজনসহ কাজি পালিয়ে যান। পরে সেখান থেকে বর কনেকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেশমা আক্তার, এসিল্যান্ড আশরাফুল সিদ্দিক, সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দ, সালটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হক ঢালী প্রমুখ।

পরে সেখানে বর কনেকে জেরা শেষে সন্ধ্যা ৭টায় মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা খালেদা আক্তার তাদের থানায় নিয়ে যান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডা. শামীম রহমান বলেন, বাল্যবিয়ে সামাজিক ব্যধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা ও পুলিশের সহায়তায় এ বিয়ে বন্ধ হয়েছে। এছাড়াও তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ‘শুকতার’ গঠন হওয়ায় আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু আজ সেই কমিটির এক সদস্যের বাল্যবিয়ের বিষয়টি আমাকে ব্যথিত করেছে। গফরগাঁও উপজেলাকে বাল্যবিয়ে মুক্ত করতে তিনি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সুশীল সমাজের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

(ঢাকাটাইমস/১৮অক্টোবর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত