সৌদি সম্মেলনে ছাপ ফেলছে খাশোগি ইস্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:০৮ | প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:০০

সৌদির নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিঁখোজের ঘটনা আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে রিয়াদে শুরু হওয়া সৌদির গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্মেলনে ছাপ ফেলেছে। দেশটির ভবিষ্যত উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন বিভিন্ন দেশ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

ব্রিটেনের বাণিজ্যমত্রী লিয়াম ফক্স এবং ফরাসি ও ডাচ অর্থমন্ত্রীরা ঘোষণা করেছেন, তারা সৌদির ওই সম্মেলনে যোগ দেবেন না। এই বিনিয়োগ সম্মেলনকে 'ডাভোস ইন দ্য ডেজার্ট' অর্থাৎ মরুভূমির ডাভোস উন্নয়ন সম্মেলন বলে অভিহিত করা হয়। একে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির একটি শোকেস ইভেন্ট বলে ধরা হয় একে।

কিন্তু বিশ্বের বাণিজ্য, মিডিয়া বা প্রযুক্তি জগতের বহু দিকপালই এখন এই সম্মেলন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

এখন পর্যন্ত জামাল খাশোগির বিষয়ে সৌদি স্পষ্ট কোনো কথা না বললেও তাদের আচরণে অনেকটা নিশ্চিত যে জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। এমতাবস্থায় বেশ চাপের মুখে রয়েছে সৌদি আরব।

নিখোঁজ সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগির সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তুরস্কের কাছ থেকে তথ্য প্রমাণ চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তুরস্কের গোয়েন্দাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের অডিও রেকর্ডিং এর সূত্রে তুরস্কের মিডিয়াগুলো দিনের পর দির ক্রমাগত খবর দিয়ে চলেছে যে, খাসোগিকে ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতাবাসে হত্যা করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন সেই প্রমাণ চাইছেন এবং একইসাথে মন্তব্য করেছেন কোন অডিও রেকর্ডিং রয়েছে কিনা, তা তার জানা নেই।

তবে জামাল খাসোগিকে যে হত্যা করা হয়েছে, এ নিয়ে তুরস্কের সরকারের মনে কোন সন্দেহ নেই। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সেটা না বললেও, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে বেনামিতে সেই হত্যাকাণ্ডের তথ্য-প্রমাণ দিয়েছে। বলা হচ্ছে, সৌদি সরকারেরই পাঠানো একটি ঘাতক দল ইস্তাম্বুলে গিয়ে তাকে হত্যা করেছে।

এমনকি যে সংবাদপত্রে খাসোগি নিয়মিত কলাম লিখতেন, সেই ওয়াশিংটন পোস্টও তার একটি কলাম বৃহস্পতিবার প্রকাশ করে বলেছে, এটাই জামাল খাসোগির শেষ লেখা।

কিন্তু সৌদি আরব এখনও বলে চলেছে, তারা এসব কিছুই জানেনা। মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে রিয়াদে পাঠিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নির্ভরযোগ্য মিডিয়ার খবরে জানা গেছে, তার কাছেও সৌদি বাদশাহ সালমান এবং তার ক্ষমতাধর ছেলে তাদের পুরনো অবস্থানই তুলে ধরেছেন যে খাসোগির সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই।

পম্পেও রিয়াদ থেকে বুধবার আঙ্কারায় গিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সাথেও কথা বলেছেন। পম্পেও আসছেন জেনেই হয়তো বুধবারই তুরস্কের অনেকগুলো মিডিয়ায় খাসোগিকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার বিস্তারিত বর্ণনাসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

অনেক পর্যবেক্ষক তাই বলছেন, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক টানাপড়েন আয়ত্তে রাখতে, জনমনে উদ্বেগ-ক্ষোভ কমাতে সৌদি আরব এবং তুরস্ককে নিয়ে যে চেষ্টা আমেরিকা করছে, তাতে তেমন কোন সুবিধা হচ্ছেনা।

রিয়াদ এবং আঙ্কারা থেকে পম্পেও তেমন কোন ইতিবাচক বার্তা নিয়ে যেতে পারেননি। আর সেই কারণেই হয়তো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন তুরস্কের কাছে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ চাইছেন। তবে তুরস্কের সরকারপন্থী একটি সংবাদপত্র লিখেছে, তুরস্ক এই মুহূর্তে সেই প্রমাণ আমেরিকার হাতে তুলে দিতে চাইছে না।

ঢাকাটাইমস/১৯অক্টোবর/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত