বিএনপি ভোটে এলে জোট বাড়াবে আ.লীগ

তানিম আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:১৭ | প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:১৬
১৪ দলীয় জোটের বৈঠক (ফাইল ছবি)

আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে বিএনপির মতো জোটের শক্তি বাড়াতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও। এ লক্ষ্যে চলছে আলোচনা। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য বিএনপির কার্যীক্রমের দিকে তাকিয়ে তারা।

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা জানান, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি ভোটে এলে তারাও জোটে নতুন দল নেয়া বা ২০০৮ সালের মতো মহাজোট করার সিদ্ধান্ত নেবেন।

আর বিএনপি আবার ভোট বর্জন করলে আওয়ামী লীগের আগ্রহ থাকবে যত বেশি সম্ভব দলকে ভোটে নিয়ে আসা। সে ক্ষেত্রে বিএনপির নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো শরিককে আনা না গেলেও বিএনপির আরেক জোট ২০ দলের শরিকদের ভোটে আনার চেষ্টা থাকবে ক্ষমতাসীন দলের। আর তখন সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি গতবারের মতো সীমিত সংখ্যক আসনে না লড়ে ভোট করবে ৩০০ আসনেই।

১৯৯৯ সালে জাতীয় পার্টি, জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয় বিএনপি। নাম রাখা হয় চারদলীয় জোট। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ছেদ হয়েছে। তবে এখন জোটে ছোট ছোট আরও নানা দল মিলিয়ে নাম হয়েছে ২০ দলীয় জোট।

তবে এই জোটেও আত্মবিশ্বাস না পেয়ে ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে গত ১৩ অক্টোবর জোটবদ্ধ হয়েছে বিএনপি। এই জোটের নাম জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ফ্রন্টে আরও দল নেয়ার আলোচনা চলছে। পাশাপাশি আছে ২০ দল।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগও বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে, যদিও তার বেশির ভাগ পর্দার আড়ালে। 

সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক না হলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই আগামী ডিসেম্বরের শেষে বা জানুয়ারির শুরুতে নির্বাচন হবে। আর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিবের তথ্যমতে তফসিল হতে যাচ্ছে আগামী মাসের শুরুতে। আর এর পরেই আওয়ামী লীগের কৌশল প্রকাশ পাবে বলে জানান নেতারা।

দলটির নেতারা জানান, বিএনপি নির্বাচনে এলে জাতীয় পার্টি, কয়েকটি ইসলামিক দলসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে গড়া হবে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী মহাজোট।

এই প্রক্রিয়ায় সিপিবির নেতৃত্বাধীন আট দলের বাম জোট, বিকল্পধারা এমনকি ২০ দলের শরিক এলডিপিকে নিয়েও চলছে নানা চেষ্টা। এলডিপি নেতা অলি আহমেদ বিএনপির নতুন বন্ধুদের পছন্দ করছেন না, আর সেটি খোলাখুলি তিনি একাধিকবার বলেছেনও।

অবশ্য সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়ার প্রস্তাবকে ‘না’ করে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা অবশ্য একেই শেষ বলছেন না।

বিএনপির সাবেক নেতা তৃণমূল বিএনপির সভাপতি নাজমুল হুদা আরও কিছু ছোট দল নিয়ে ১৪ দলে যোগ দেয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। দুই পক্ষ বসেছেও একাধিকবার।

আওয়ামী লীগ ভেঙে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গঠন করা আবদুল কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গেও আওয়ামী লীগের যোগাযোগ হচ্ছে। এরই মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বসেছেন তিনি।

গত ১৬ অক্টোবর ২০ দল ছেড়ে আসা বাংলাদেশ ন্যাপ এবং এনডিপিও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে আসনে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। আর আছে ইসলামিক ফ্রন্ট, জাকের পার্টি, যারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে।

আর আছে জাতীয় পার্টি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদ ভবনের কার্যালয়ে দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব সফর শেষে দেশে ফিরলে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

ঢাকাটাইমসকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস, নৈরাজ্যবিরোধী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব দলের সঙ্গেই আমরা জোট করতে পারি।’

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিপু মনি বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আমরা নির্বাচনের কৌশলগত কারণে মহাজোট করেছিলাম। এখন আগামী নির্বাচনে সেই মহাজোট হবে কি না, সেটা সময়েই বলে দেবে। নির্বাচনের প্রয়োজন হলে আমরা আবার মহাজোট করব। তবে যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, এমন কারও সঙ্গে আমরা অতীতেও নির্বাচনী জোট করিনি,  ভবিষ্যতেও করব না।’

২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নবম সংসদ নির্বাচন বাতিলের আগে ১৪ দল, বিকল্পধারা, এলডিপি ও জাতীয় পার্টিকে নিয়ে মহাজোট ছিল আওয়ামী লীগের। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে এলডিপি ও বিকল্পধারার সঙ্গে সমঝোতা না থাকলেও বাকিদের নিয়ে নির্বাচনে যায় আওয়ামী লীগ, পায় ভূমিধস বিজয়।  ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনের আগে মহাজোট ভেঙে বের হয়ে আসেন এরশাদ। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপি ভোটে না আসায় জাতীয় পার্টির মহাজোটে থাকা-না থাকার বিষয়টি আর গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তবে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ বা অন্য যেকোনো নামেই বিএনপি ভোটে এলে তাদের মোকাবেলাতেও আটঘাঁট বেঁধে নামতে হবে। এ কারণে জাতীয় পার্টিকে জোটে ফিরিয়ে এনে অন্য আরও দলকে যুক্ত করার উদ্যোগ থাকবে তাদের।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘জোট সম্প্রসারণের চিন্তাভাবনা আমাদের রয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করতে পারি নাই। আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। নির্বাচন এ নো দেরি আছে, নির্বাচনী পরিবেশ দেখেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

(ঢাকাটাইমস/২০অক্টোবর/টিএ/ডব্লিউবি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত