পদ্মাসেতু ঠেকানোর চেষ্টায় ছিলেন একজন সম্পাদকও: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৮, ২১:২০ | প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০১৮, ২১:০৯

গ্রামীণ ব্যাংকে এমডি পদ টিকিয়ে রাখতে ড. মুহম্মদ ইউনূস পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করতে চেষ্টা করেন, আর ড. ইউনূসের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে লবিং করেন বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক।

এই তথ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তবে তিনি ওই সম্পাদকের নাম জানাননি, কেবল এটি বলেন, ওই সম্পাদক বেশ ভালো ইংরেজি জানেন।

শনিবার রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে কী কী বাধার মুখে পড়েছেন, তার উদাহরণ দিতে গিয়ে এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ ধরে রাখার জন্য ইউনূস একজন ভালো ইংরেজি জানা এডিটরকে আমেরিকায় নিয়ে গিয়ে লবিং করেন।’

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর পদ্মাসেতু নির্মাণে উদ্যোগ নেয়। ঋণচুক্তি হয় বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইডিবির সঙ্গে। তবে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ তুলে অর্থ ছাড় করবে না বলে জানায় বিশ্বব্যাংক। আর বেশ কয়েক বছরের টানাপড়েনের পর ২০১২ সালের ৩০ জুন এই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায় বিশ্বব্যাংক। পরে সরে দাঁড়ায় এডিবি ও আইডিবি।

তবে সরকার শুরু থেকেই এই অভিযোগকে বানোয়াট বলে আসছিল। আর নিজ অর্থে সেতুর কাজ এগিয়ে চলার সময় ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে কানাডার আদালতে চলা একটি মামলার রায় প্রকাশ হয়। সেখানে বিচারক এই অভিযোগকে ‘গালগপ্প’ বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করেন। 

আর এই রায়ের পর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৬৭ বছর হয়ে যাওয়ায় ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলার পর বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নিয়ে সংকটের শুরু হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলা হয়, ড. ইউনূসকে এমডির পদ থেকে সরিয়ে দিলে পদ্মাসেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মাসেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক অর্থ বন্ধ করে দিলে, আমি বিশ্বের অনেক দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তারা আমাকে সহায়তা দিয়েছে। দেশের মানুষ আমার সঙ্গে ছিল। ফলে পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে করতে পারছি।’

‘পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক যাতে অর্থ সহায়তা না করে এ জন্য একজন লবিং করেছিল। ইউনূস সাহেবকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে রাখার জন্য তৎকালীন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ফোন করেন। তাকে আমি বলেছি, এটা আদালতের বিষয়। এটাতে আমার কিছু করার নেই। পরে আরও অনেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে কিন্তু আমি আর তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি নাই।’

ঢাকাটাইমস/২০অক্টোবর/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত