ঘাটাইলে স্কুল মাঠে পশুর হাট, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

রেজাউল করিম খান রাজু, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল)
 | প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:০৯

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কদমতলি হাসান পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ৩০ বছর ধরে প্রতি রবিবার গবাদিপশুর হাট বসে। পশুর হাট বসার কারণে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে কদমতলি হাসান পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৭ শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য ঝুঁকিসহ যাতায়াত ও খেলাধুলার ব্যাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কদমতলি হাসান পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়- টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেঁসে কদমতলী এলাকায় ১৯৭২ সালে কদমতলি হাসান পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টিতে প্রায় সাত শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ১৯৮৬ সাল থেকে বিদ্যালয়ের মাঠে সপ্তাহে রবিবার পশুর হাট বসা শুরু হয়। এই এক দিনের জের থাকে সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতেও। ওই বিদ্যালয়ের মাঠে বিশাল মাঠজুড়ে বসেছে গবাদিপশুর হাট। মাঠজুড়েই গরু ছাগলের বর্জ্য ও রকমারি গর্ত, নালা-নর্দমার সৃষ্টি হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পশুর মল ও খড়কুটার স্তূপ। ফলে পরদিন অর্থাৎ সোমবার স্কুল খুললেই শিক্ষার্থীদের জন্য রীতিমতো কষ্টকর হয়ে উঠছে স্কুলে আসা। খেলাধুলা তো দূরের কথা, মাঠ পার হয়ে স্কুলের বারান্দাতেও স্বাভাবিকভাবে হাঁটা চলাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে তাদের জন্য। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমসহ স্বাভাবিক নিয়মেই চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, এই এলাকার সবচেয়ে বড় পশুর হাট ওই কদমতলি স্কুল মাঠ। যে কারনে অনেক গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া ওই হাটে কেনা বেচা হয়। এ কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশেও বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।

কদমতলি হাসান পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র মিয়াদ মন্তব্য করে, মাঠের মধ্যে কাঁদা থাকায় আমরা খেলাধুলা করতে পারি না। ১০ম শ্রেণির ছাত্র সানোয়ার হোসেন সানি বলে, কাঁদা ও পশুর মলের দুর্গন্ধে ক্লাসে থাকা খুব কঠিন।’

শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, অনেক সময় পশু শ্রেণি কক্ষের বারান্দায় রাখা হয়। কিন্তু পশুর মল ও আবর্জনা ঠিকমতো পরিষ্কার না করায় বিদ্যালয়ে ক্লাস করতে কষ্ট হয়। মাঠে কাঁদার কারণে স্কুলে আসতে কষ্ট হয়। তাদের দাবি, অতি তাড়াতাড়ি এই হাটটি অন্য কোথাও সরিয়ে নেয়া হোক।

কদমতলি হাসান পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম¥দ আলী জিন্নাহ বলেন, ১৯৮৬ সালে কদমতলী হাটটি প্রতিষ্ঠিত হয়। হাট প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিয়মিত বিদ্যালয় মাঠে পশুর হাট বসছে। এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে হাট পরিচালনা করে। ২০১৫ সালের ৪ মার্চ হাট স্থানান্তরের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছিলাম। কিন্তু বিষয়টির অগ্রগতি হয়নি।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ বলেন, স্কুল মাঠে হাট বসানোর কোন যৌক্তিকতা নেই। বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/২১অক্টোবর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত