এজিদের ভূমিকায় সরকার: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:২৪
ফাইল ছবি

বর্তমান সরকারকে আরবের ইতিহাসের কুখ্যাত শাসক এজিদের সঙ্গে তুলনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বলেছেন, ‘সরকার পুনরায় একতরফা নির্বাচন করার জন্য এখন এজিদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।’

রবিবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন বিএনপি নেতা। এ সময় তিনি উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।

রিজভী বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন নিয়ে চারদিকে নৈরাশের ছবি। সরকার পুনরায় একতরফা নির্বাচন করার জন্য এখন এজিদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি হচ্ছে।’

কারবালার যুদ্ধে মহানবী (সা.) এর নাতি ইমাম হোসাইনকে হত্যার নির্দেশদাতা ছিলেন এজিদ। এ কারণে তাকে মুসলমানরা এখনও তীব্র সমালোচনা করেন। 

রিজভী বলেন, ‘ইইউ ইসিকে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে তারা আগামী সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। অন্যান্য দাতা ও সাহায্য সংস্থা, বিদেশি মিশন থেকেও নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যাত্রার পেছনে ‘রহস্য’ দেখার কথাও জানান রিজভী। এই কমিশনার ব্যক্তিগত কারণে ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে গেলেও রিজভীর আশঙ্কা তাকে বাধ্য করা হয়েছে।

মাহবুব তালুকদার সম্প্রতি কমিশনে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে দুটি কমিশন সভা বর্জন করে আলোচিত হয়েছেন। আর ক্ষমতাসীন ১৪ দল তাকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।   
রিজভী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সাহেবকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা যেভাবে আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছেন তা সন্ত্রাসী আচরণ এবং তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কেন ছুটি নিয়েছেন নাকি নিতে বাধ্য করা হয়েছে তাও রহস্যজনক। ইসিকে সর্বোচ্চ চাপে রেখে কাজ করাচ্ছে সরকার।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কতিপয় কমিশনার ও কর্মকর্তারা নিজেরা যে আচরণবিধি তৈরি করছেন তা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী বলেও দাবি করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘এই কমিশনের কয়েকজন আধিকারিক কমিশনের ক্ষমতা কমিয়ে সরকারকে দিতে চান।’

‘সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করার নজির পৃথিবীর কোথাও নেই। অথচ প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের সময় সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করতে আইন করতে চাচ্ছেন।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না অভিযোগ করেন রিজভী। বলেন, ‘সরকারি ইচ্ছাধীন চিকিৎসায় দেশনেত্রী যে সুচিকিৎসা পাবেন না সেই আশঙ্কাটি আমরা পূর্বেই করেছিলাম। এ বিষয়ে বারবার আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে অবহিত করা হয়েছে।’

‘সর্বাধিক জনপ্রিয় বিএনপি চেয়ারপারসনকে বন্দি করে রাখা হয়েছে তো কষ্ট দেয়ার জন্য। সেখানে উন্নতমানের চিকিৎসার প্রশ্নই আসে না। বিএসএমএমইউতে শুধুমাত্র যে ফিজিওথেরাপি দেয়া হয় সেটিও পর্যাপ্ত নয়। তার ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। অথচ এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ছিল।’

আগামী ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার তারিখ দেয়ারও সমালোচনা করেন রিজভী। বলেন, ‘বিবাদীর অনুপস্থিতিতে মামলার রায় নির্ধারণ পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। সরকার প্রধানের নির্দেশেই সম্পূর্ণ প্রতিহিংসামূলকভাবে এ রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। সেজন্যই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে রায়ের দিন ধার্য করে নিয়েছে।’

‘আরেকটি ফরমায়েশি রায় হতে যাচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য দেশবাসী প্রহর গুণছে। এ আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে কি না সেই প্রশ্নও মানুষের মনে জেগে উঠছে।’

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/২১অক্টোবর/বিইউ/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত