টাঙ্গাইল-৫ আসনে জাপা নেতা মোজাম্মেলের মনোনয়ন চায় তৃণমূল

রেজাউল করিম, টাঙ্গাইল
 | প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:১২

টাঙ্গাইল-৫ সদর আসন হওয়ায় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে এ আসনটির গুরুত্বও অনেকটা বেশি। নির্বাচনের আগে আলোচনায় থাকে সদর আসনে কোন দল কাকে মনোনয়ন দিচ্ছে। মনোনয়নের পর জেলার নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি থাকে কে হচ্ছেন সদর আসনের এমপি? এবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি জোট থাকলে সদর আসনটি আওয়ামী লীগ নাকি জাতীয় পার্টির প্রার্থী ভোটে আসবে?

আলোচনায় অনেকটাই উঠে এসেছেন আসনটিতে মনোনয়ন পাচ্ছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী। নির্বাচনের জন্য জাতীয় পার্টি থেকে পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। প্রচারে আর গণসংযোগেও এগিয়ে মোজাম্মেল হক। জাতীয় পার্টির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ধারণা মোজাম্মেল হক পাচ্ছেন জাতীয় পার্টির মনোনয়ন।

সম্প্রতি জাতীয় পার্টি থেকে এক শিল্পপতি মনোনয়ন পাচ্ছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। অনেকে রাজনীতি ছাড়ার কথার ভাবছে। দল ছাড়বে জেলা-উপজেলা জাতীয় পার্টির অনেক নেতাকর্মীই।

জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক উস্তাগীর হোসেন, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সম্পাদক আশাফুজ্জামান, টাঙ্গাইল পৌর শাখার সভাপতি আহসান খান, জেলা জাতীয় মহিলা পার্টির সভাপতি খন্দকার মনোয়ারা বেগম, সাধারণ সম্পাদক রোখসানা রহমান, মধুপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম হান্নান ইস্পাহানী, ধনবাড়ী উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক জীবন মাহমুদ শক্তি, কালিহাতী উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি (দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী) রেজাউল করিম মোজাফফর, ভূঞাপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সৈয়দ শামসুদ্দোহা যুবরাজ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রসমাজের সদস্য কৌশিক আহম্মেদ রাজু ঢাকাটাইমসকে জানান, মোজাম্মেল হক মনোনয়ন না পেলে আমরা জাতীয়পার্টি ছেড়ে দেব। মোজাম্মেল হক দল ও সাধারণ মানুষের জন্য একজন নিবেদিত নেতা। নির্বাচনের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলকে গুছিয়েছে। এই মুহূর্তে অন্য কেউ মনোনয়ন পেলে আমরা তার নির্বাচন করব না বলেও জানান ওইসব নেতারা।

নেতার আরও জানান, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা হস্তান্তরের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর মহড়ায় টাঙ্গাইল নিরালা মোড় সংলগ্ন জেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে চেয়ার-টেবিলসহ সবকিছু আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। জাতীয় পার্টির অফিস তালাবদ্ধ করায় জাতীয় পার্টির সকল কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছিল। তৎসময়ের সভাপতি ও সম্পাদক বুলবুল খান মাহাবুব, আব্দুস সালাম চাকলাদার ও বিগ্রেডিয়ার ফজলুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ মুহাম্মদ মোজাম্মেল হককে শহর জাতীয় পার্টির সভাপতির দায়িত্ব দেয়। সেই ভীতিকর অবস্থায় কাটিয়ে তুলতে বর্তমান জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পদক মোজাম্মেল হক সেসময় বিপুল সংখ্যক কর্মী বাহিনী নিয়ে দলে যোগদান করে জাতীয় পার্টির অফিসে তালা ভেঙে বজ্রকন্ঠে এরশাদ মুক্তির সংগ্রামের জন্য বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের মেইন রোডগুলো প্রদক্ষিণ করে। নতুন করে যাত্রা শুরু হয় টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির। ১৯৯৫ সালে আবুল কাশেমকেও তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগদান করতে অনুপ্রাণিত করেন।

এসব নেতারা আরও বলেন, প্রতিটি নির্বাচনী সময়ে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। তিনি নির্বাচনের সময়ে দলীয় প্রার্থীদের অর্থনৈতিকসহ কর্মী দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। এর আগে তিনি নির্বাচনী প্রচরণায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়। তখন তার বুকের হার ভেঙে যায়। ত্রিশ লাখ টাকার বিধ্বস্ত গাড়িটি বিক্রি করতে হয় ছয় লাখ টাকায়। তিনি দলের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তাই মোজাম্মেল হকের মনোনয়ন চায় জাতীয় পার্টির তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

২০ অক্টোবর শনিবার মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে টাঙ্গাইল জাতীয় পার্টির দশ হাজার নেতাকর্মী রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশে যোগ দিয়েছেন।

টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মনোনয়ন প্রত্যাশী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, আমি আশাবাদী দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিব আমার মনোনয়নের বিষয়ে সদয় সিদ্ধান্ত দেবেন। তাই গণসংযোগে আছি। সকলের দোয়া আর সমর্থন আমার মূল শক্তি। তার দাবি তার ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ হাজার রিজার্ভ ভোট রয়েছে। দল তাকে মনোনয়ন দিলে নিশ্চিত জয়লাভ করবেন। যা অন্য কাউকে দিয়ে সম্ভব হবে না। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও টাঙ্গাইলের বিশিষ্টজন থেকে সধারণ মানুষের অভিমত মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকের দাবি যুক্তিসঙ্গত বলে আমরাও মনে করি।

এ আসনে ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আবদুল মান্নান জয়লাভ করেছিলেন। ১৯৭৯ সালে বিএনপির আবদুর রহমান, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির মীর মাজেদুর রহমান, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান, ১৯৯১ সালে বিএনপির মে. জে. (অব.) মাহমুদুল হাসান, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির মে. জে. (অব.) মাহমুদুল হাসান, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন আওয়ামী লীগের আবদুল মান্নান, ২০০১ সালে বিএনপির মাহমুদুল হাসান, ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির আবুল কাশেম এবং ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের ছানোয়ার হোসেন সাংসদ নির্বাচিত হন।

টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ৮৮ হাজার ৫০৪ এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ১৪৮ জন।

(ঢাকাটাইমস/২১অক্টোবর/নিজস্ব প্রতিবেদক/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত