নারায়ণগঞ্জের চারজনের মৃত্যু মাথায় শটগানের গুলিতে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৮, ২৩:৪৩ | প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০১৮, ২২:৪২

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে যে চার যুবকের লাশ পাওয়া গেছে তারা মারা গেছেন শটগানের গুলিতে। আর গুলি করা হয়েছে মাথার পেছনে।

নিহতদের প্রত্যেকের মাথায় গুলিবিদ্ধ ছিল বলে ময়নাতদন্ত শেষে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার  (আরএমও)আসাদুজ্জামান। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বিদ্ধ হওয়া গুলিগুলো বের করা হয়েছে। এছাড়াও লাশের মাথার পেছনের অংশ ও মুখ থেঁতলানো রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শনিবার দিবাগত মধ্যরাতের পর তাদের মৃত্যু হয়েছে।’

সকালে জেলার আড়াইহাজারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অজ্ঞাত চার যুবকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সেগুলোকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে কারও পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে পরে হাসপাতালে গিয়ে লুৎফর রহমান মোল্লা নামে এক গাড়ি চালকের মরদেহ শনাক্ত করেন তার স্ত্রী রেশমা বেগম। বাকি তিনটি লাশের পরিচয় এখনও জানাতে পারেনি পুলিশ।

রেশমা সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার বিকেলের দিকে তার স্বামী লুৎফর বাসা থেকে বের হন। সর্বশেষ ওইদিন দিবাগত রাত ১টার দিকে স্বামীর সঙ্গে মোবাইলে কথা হয় তার। এরপর থেকে তিনি লুৎফরের মোবাইল ফোন বন্ধ পান। তাদের ছেলে রিশাদ অষ্টম শ্রেণি ও মেয়ে লিজা চতুর্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করে।

স্বামীর নিখোঁজ থাকার বিষয়ে শনিবার ঢাকার রামপুরা থানায় একটি জিডি করেছিলেন জানিয়ে রেশমা বলেন, ‘আমার স্বামী কোনো বাজে কাজে জড়িত না। আমার দুইটা ছেলেমেয়ে স্কুলে পড়ে। যারা আমার স্বামীকে এইভাবে হত্যা করল আমি তাদের বিচার চাই।”

পুলিশের ধারণা, অন্য কোথাও হত্যা করে লাশগুলো এখানে ফেলে রাখা হয়। লাশগুলোর পাশে পড়ে থাকা দুটি দেশীয় পিস্তল ও একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ হক ঢাকা টাইমসকে বলেন, ভোরে এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশগুলো উদ্ধার করেন তারা। প্রতিটি লাশ ক্ষত-বিক্ষত ও মাথায় আঘাত রয়েছে।

ঘটনাস্থলে এক রাউন্ড গুলিসহ দুটি পিস্তল এবং একটি মাইক্রোবাস পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়ার তথ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, ডাকাত বা সন্ত্রাসীদের ‘কোন্দলে’ ওই চারজন নিহত হয়েছেন বলে তারা ধারণা করছেন।

তবে স্থানীয় এক যুবক জানান, গত রাতে তিনি চারটি গুলির শব্দ পেয়েছিলেন। কিন্তু তখন আর বাসা থেকে বের হননি। ভোরে সড়কে এসে চারটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তারা মাইক্রোবাসের মালিকানা যাচাই করতে বিআরটিএতে যোগাযোগ করেছেন। লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঢাকাটাইমস/২১অক্টোবর/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত