মাদারীপুরে টেন্ডার ছাড়াই সরকারি গাছ কর্তন!

মাদারীপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৪৯

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সরকারি নয়টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই গাছগুলো কেটে ফেলা হলেও এ ব্যাপারে কিছুই জানে না পৌর কর্তৃপক্ষ। কেটে ফেলা এ গাছগুলোর কোনো হদিস মিলছে না।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রাজৈর পৌরসভার দীঘিরপাড় এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য একটি পাকা সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করে পৌর কর্তৃপক্ষ। এজন্য কৃষি অফিসের পুরোনো একটি বিল্ডিং ভেঙে ও ৯টি গাছ কেটে সড়ক নির্মাণ শুরু করে।

তবে এই স্থান থেকে মাত্র তিন থেকে চার ফিট পশ্চিম পাশ দিয়ে সড়কটি নির্মাণ করা হলে ৯টি গাছ   কেটে ফেলতে হতো না। এ গাছগুলো কাটতে কোনো টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই গাছগুলো কেটে ফেলে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

এতে উপজেলার সরকারি কৃষি অফিসের ৭টি রেইট্রি ও পোড়াহল থেকে টেকেরহাট শাহ সুফি জোনাব আলী রোড়ের সামনে প্রায় অর্ধশত বছর পুরোনো আরো ২টি গাছ কাটা হয়েছে।

এর মধ্যে দুটি গাছ নিজেদের বলে দাবি করছে অরুপ ঘোষ নামের এক ব্যক্তি। সেই গাছ হরিলুট হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে কিছুই জানে না বলে দাবি করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে রাজৈর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদুল মিরাজ বলেন, ‘এই গাছগুলো মাপামাপি করে আমাদের ভেতর পড়ে নাই। সেই হিসেবে চেয়ারম্যান, ইউএনও, মেয়র সবাই রাস্তা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গাছগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পরে হবে। গাছগুলো পৌরসভার পক্ষ থেকে কাটা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে রাজৈর বন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত মাসিক মিটিংয়ে রাস্তার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে ইউএনও স্যার ও কৃষি অফিসার ভালো বলতে পারবেন।’

জানতে চাইলে রাজৈর পৌর মেয়র শামীম নেওয়াজ বলেন, ‘এই গাছ কাটছে কৃষি অফিস। তবে গাছগুলো অরুপদের। গাছ আমাদের না, তাই আমরা কাটবো না। আমি এসব বিষয় জানি না।’

তবে রাজৈর উপজেলা চেয়ারম্যান শাজাহান খান বলেছেন, আমরা গাছ কাটার কথা কেউ বলিনি, আমরা সরজমিনে গিয়ে, কৃষি অফিসের ভবন থেকে ৩ ফিট রেখে রাস্তা করার কথা বলেছি।’

গাছ কাটার বিষয়টা জানা নেই বলে জানিয়েছেন রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিন।

(ঢাকাটাইমস/২২অক্টোবর/প্রতিনিধি/ওআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত