রাবি শিক্ষার্থী লিপু হত্যার বিচার মেলেনি দুই বছরেও

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাবি
| আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৮, ১৪:০১ | প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর ২০১৮, ১১:৩৮

দুই বছর আগে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী লিপু। এরই মধ্যে তিনবার পরিবর্তন হয়েছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। মামলা এখন সিআইডিতে। এভাবেই পেরিয়ে গেছে দুই বছর। এই দীর্ঘ সময় পার হলেও রহস্য উদঘাটন হয়নি সেই হত্যাকাণ্ডের।

প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড হিসেবে ধারণা করা হলেও কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তার কিছুই জানাতে পারেনি পুলিশ। আদৌ সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার পাবে কি না, এ নিয়ে আশঙ্কা লিপুর পরিবার, সহপাঠী ও বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। তারা এ মামলার তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

লিপুর বাবা বদরউদ্দীন বলেন, ‘এক বছর আগে ফোন দিয়েছিলাম এক পুলিশকে। তিনি বললেন, আমার কাছে এ মামলা নাই। তারপরে আর কোনো খোঁজ নেইনি। এখন বিচার পেতে টাকা লাগে। আমার বাবা জানো তো, টাকা নাই। আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রাখছি। তিনিই এর বিচার করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলের নামে কোনো খারাপ রির্পোট ছিলো না। আমি তো আর কিছু জানতে চাইনি। আমি শুধু জানতে চেয়েছি, তারা আমার বাবারে কেনো মারলো’?

জানা যায়, প্রথমে লিপু হত্যা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) অশোক চৌহান। মামলার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ‘মামলার তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে, অল্পদিনের মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করা যাবে।’

পরে ওই বছরের ডিসেম্বরে অশোক চৌহান বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেলে মামলার দায়িত্ব পান মতিহার থানার নতুন ওসি (তদন্ত) মাহবুব আলম। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার এক মাসের মধ্যেই ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তরের আদেশ আসে।

সিআইডিতে মামলাটির দায়িত্ব পান রাজশাহী সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক আসমাউল হক। তিনি পৌনে দুই বছর ধরে এই মামলার তদন্ত করলেও মামলাটির সম্পর্কে কোন অগ্রগতি জানাতে পারেননি।

গত বছরের এইদিনে বলেছিলেন, ‘লিপু হত্যার তদন্তে এখানো কোনো অগ্রগতি নেই। আসামি শনাক্তে কোন ক্লু পাওয়া যায়নি। আমরা তদন্ত করছি। একটু সময় লাগবে।’

পরে দুই বছরের মাথায় তিনি বলেন, আমি তো ওখান থেকে বদলি হয়েছি। এ সংক্রান্ত আমার কোনো বক্তব্য নেই। এখন যে নতুন দায়িত্বে আছেন, তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমি তো ওই দায়িত্ব দিয়ে চলে আসছি। আমি সেটা সিআইডি অফিসে দিয়ে এসেছি।’

এক সপ্তাহ আগে লিপু হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া আজিজুর রহমান (পরিদর্শক) বলেন, ‘আমি সপ্তাহখানেক হলো এ মামলার দায়িত্ব পেয়েছি। এখনো কিছু বুঝে উঠতে পারিনি। তবে মামলার তদন্ত চলছে।’

এদিকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আল-মামুন বলেন, ‘আমাদের মন ভার হয়ে আছে। দুই বছর পার হয়ে গেল! এখানে যারা দাঁড়িয়েছি তারা লিপুর সহপাঠী। তারা দেখেছে হলে লিপুর লাশ পড়ে আছে, লাশের গায়ে ক্ষত চিহ্ন আছে। যখন লাশে ক্ষত চিহ্ন থাকে তখন এটা কিলিং। এটা কোন সুইসাইডাল অ্যাটেম্পট না। এটা মার্ডার, যখন জানি এটা মার্ডার তার তদন্তে কেন দুই বছর লাগবে? এটা বড় প্রশ্ন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ে এরকম প্রশ্ন অনেক, অনেক ছাত্র-শিক্ষক মারা গেছেন। কিন্তু বিচার হয় না। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি আর কতদিন? বিশ^বিদ্যালয়ে কেন? আমাদেরকে কেন এই চর্চা চালিয়ে যেতে হবে?

শনিবার সকালে বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সেই মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি।

লিপুর সহপাঠী হুসাইন মিঠু বলেন, ‘এই মামলার তদন্তে আমরা পুলিশের অনীহা লক্ষ্য করেছি। পুলিশ চাইলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই এর প্রতিবেদন দিতে পারতো। পরবর্তীতে সিআইডিতে মামলাটি গেলে তারাও পুলিশের মতোই এ মামলাটি নিয়ে অবহেলা করেছে। তারা আমাদের হতাশ করেছে গত দুই বছর ধরে।’

২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের ড্রেন থেকে লিপুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লিপুকে হত্যা করা হয়েছে বলে ওই সময় পুলিশ ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ওইদিন বিকালে লিপুর চাচা মো. বশীর বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

ঢাকাটাইমস/২২অক্টোবর/প্রতিনিধি/ওআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত