মইনুলের মুক্তি দাবি বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:৫৩

নারী সাংবাদিককে কটূক্তির মামলায় গ্রেপ্তার নবগঠিক জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা মইনুল হোসেনের মুক্তি চেয়েছে বিএনপি। দলের  সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে ব্যাহত করতেই তাকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান রিজভী।

টেলিভিশন লাইভে এসে নারী সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলার প্রতিক্রিয়ায় করা মামলায় সোমবার রাতে মইনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠায়।

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন গত ১৩ অক্টোবর গঠন করা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন। ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন ওই সরকারের কঠোর সমালোচনা করলেও মইনুলকে জোটে নিতে আপত্তি করেনি বিএনপি।

এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘মানহানি মামলায় মইনুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা নজিরবিহীন ঘটনা।...মইনুল হোসেন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন ব্যক্তি। অপশাসনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে তার কথা বলাটাকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করছে সরকার।’

মইনুলের গ্রেপ্তারকে  ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ দাবি করে রিজভী বলেন, ‘মানহানি মামলায় প্রথমেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নজির নেই। প্রথমে সমন জারি করে আসামিপক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়। আসামিপক্ষ উপস্থিত না হলে পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।’

‘ব্যারিস্টার মইনুল জামিনে ছিলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন ব্যক্তিও। শুধুমাত্র অপশাসনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলাটাকেই অপরাধ হিসেবে গন্য করছে সরকার। রাতে কোর্ট বসিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে সরকারের উচ্চ মহলের নির্দেশে যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা সকলের কাছে পরিষ্কার।’

এই গ্রেপ্তারের পেছনে প্রধানমন্ত্রীর হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা। বলেন, “গতকাল প্রধানমন্ত্রী যখন সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন-‘মইনুল হোসেন একটি মামলায় জামিন পেয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আরও মামলা করেন বাকিটা আমরা দেখছি। এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলো, তাকে গ্রেপ্তার করা হলো’।”

প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারে বর্তমান মন্ত্রিসভা বহালের যে ইঙ্গিত দিয়েছেন তারও সমালোচনা করেন রিজভী।

সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তার এই অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, সরকার অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এখন মন্ত্রিসভা ছোট করলে সেগুলোর কাজে ব্যাঘাত ঘটবে। তবে সংসদে বিরোধী দলগুলো চাইলে মন্ত্রিসভা পাল্টানো হবে।

রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাসই হলো ভোট ডাকাতির নির্বাচন, ভোটারবিহীন নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কার তিনি সুষ্ঠু ও সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চান না, গায়ের জোরে নির্বাচন করতে চান। জোর করে ক্ষমতাকে আকঁড়ে ধরে রাখতে চান। এ সরকারের আমলে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, হবেও না।’

প্রধানমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমি পরিষ্কার বলে দিতে চাই আরেকটি একতরফা নির্বাচন হবে না, এদেশের মানুষ হতে দিবে না। সিটি নির্বাচনের স্টাইলে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।’

নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘চূড়ান্ত ক্র্যাকডাউন’ শুরু করেছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘এ যেন বাতি নিভে যাওয়ার আগে হঠাৎ জ্বলে উঠা। গুপ্তহত্যা, বিচারবর্হিভূত হত্যা, গুম, খুন, বিরোধী মত দলন-নিপীড়নের সঙ্গে দেশজুড়ে চলা গণগ্রেপ্তারের গতি এখন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।’

“বন্ধুরা আমরা গতকালই বলেছিলাম দেশজুড়ে ফের গুপ্তহত্যা শুরু করেছে সরকার এবং নারায়ণগঞ্জে চার জনকে হত্যার পর গুলিবিদ্ধ লাশ ফেলে রাখা হয় সড়কের পাশে। আজকে গণমাধ্যমের শিরোনাম হলো- ‘রাতে ফাঁড়িতে, সকালে সড়কে লাশ’। চার জনকেই ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। ফাঁড়িতে গিয়ে তাদের স্বজনরা তাদের খাবারও দিয়ে এসেছিল। সকালে গুলিবিদ্ধ, থেঁতলানো লাশ মিলল সড়কের পাশে। এটা কতটা মর্মান্তিক ও বীভৎস ঘটনা!’।”

(ঢাকাটাইমস/২৩অক্টোবর/বিইউ/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত