সংলাপে সাফল্য দেখছে আওয়ামী লীগ

তানিম আহমেদ
| আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ১২:০৩ | প্রকাশিত : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:০৮
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে চলমান সংলাপ নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপি হতাশ হলেও চাঙ্গা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে বিএনপির সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ভোটে আসার ইঙ্গিত দেয়ায় উৎফুল্ল আওয়ামী লীগ নেতারা। ঐক্যফ্রন্ট নেতারা আলোচনার টেবিলে জোরাল বক্তব্য দিতে পারেনি বলেও মনে করেন তারা।

এরই মধ্যে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন আবার আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের আলোচনায় বসতে আপত্তি নেই। তবে গত ১ নভেম্বরের সংলাপ থেকে অবস্থান এতটুকু পাল্টানোর সম্ভাবনা নেই বলেও জানান ক্ষমতাসীন জোটের নেতারা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে অনেক দলই দোটানায় ছিল। কিন্তু সংলাপের মাধ্যমে অনেক দলই একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হবে। সংলাপ আগামী নির্বাচন একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করার পথ সুগম করেছে।’

‘দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক দলগুলো চাচ্ছিল সরকারের সঙ্গে বসতে, তাদের মনের কথা বলতে। এটা হয়েছে। এ সংলাপের মধ্য দিয়ে সেই অস্বস্তিটা কেটে গিয়েছে। এতে বলা যেতে পারে সংলাপটা অবশ্যই সফলতার পথে এবং একটা স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপের প্রসঙ্গটি আসে হঠাৎ করেই। গত ২৮ অক্টোবর কামাল হোসেনের পক্ষ থেকে চিঠি পান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মাধ্যমে তিনি জানান, বৈঠকে বসতে আপত্তি নেই।

সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সাত দফা ও ১১টি লক্ষ্য পাঠ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর একে একে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বক্তব্য দিতে শুরু করেন।

আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, বিএনপির নেতারা মাঠে যেসব বক্তব্য রাখেন, আলোচনার টেবিলে একই বক্তব্য দিয়ে বিপাকে পড়েছেন। আইনি ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নিয়ে যুক্তির বিপরীতে পাল্টা বক্তব্য দিতে পারেননি।

আর সংলাপের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের কথা সরাসরি জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধানমন্ত্রী তাদের কোনো দাবি মেনে নেননি জানিয়ে হতাশার কথা জানান তিনি।

কিন্তু কী করবে বিএনপি- এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এর মধ্যে গতকাল ফ্রন্ট নেতা কামাল হোসেন আবার সংলাপে বসতে চিঠি দেন সরকার প্রধানকে।

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপের পরদিন যুক্তফ্রন্ট নেতা বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে বসে আওয়ামী লীগ। আর আলোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে আশাবাদের কথা জানান বি. চৌধুরী।

ওবায়দুল কাদেরও বলেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তারা (যুক্তফ্রন্ট নেতারা) অত্যন্ত গঠনমূলক ও ইতিবাচক কথা বলেছেন। এতে আমরা মনে করছি তারা নির্বাচনে আসবেন।’

সংলাপের তৃতীয় দিন গতকাল আওয়ামী লীগ বসে তার জোটের শরিক ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে। সেখানে আলোচনায় ঐক্যফ্রন্ট আর যুক্তফ্রন্টের দাবি নিয়ে কোনো কথা হয়নি। 

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন এবং বিএনপি নেতাদের কথার ধরন আলাদা ছিল। জোটের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবির বিষয়ে তারা একমত হলেও তাদের বক্তব্য উপস্থাপনে ভিন্নতা ছিল। কামাল হোসেন সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানের কথা বলেছেন। অন্যদিকে বিএনপি কারাগারে থাকা তাদের দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়কে মুখ্য হিসাবে দেখেছেন। এ কারণে তাঁরা সংলাপে সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘একটা বিরাট দূরুত্ব ছিল। সেটা কিছুটা হলেও কমে আসছে। আমরা তাদের বুঝাতে পেরেছি আমরা সঠিক পথে আছি। আমরা যা করছি তা সংবিধান ও আইনসম্মত। এর মধ্যে আমাদের কোন দূরুভিসন্ধি নাই।’

সংলাপ বিএনপির অসন্তুষ্টি প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেন, ‘বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া জেলে তাকে রেখেতো তাঁরা সন্তুষ্টির কথা বলতে পারে না। সে জন্যই তারা এমন প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।’

আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ বিষয়ে বলেন, ‘ড. কামাল চান সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাক। তিনি নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার একটা দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পক্ষে। তার কাছে একাদশ সংসদ নির্বাচনই শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয় এর পরবর্তী নির্বাচন নিয়েও ভাবনার কথা জানিয়েছেন, এটাই আমাদের সাফল্য। বিএনপি তো তাকে নেতা মেনেছে। এখন তার মতের বাইরে কীভাবে যাবে?

ঢাকাটাইমস/০৫ নভেম্বর/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত