ইউএনওর হাতে ব্যবসায়ী ‘লাঞ্ছিত’, আটক ১৭

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ২২:০৯ | প্রকাশিত : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ২১:০১

সুনামগঞ্জে তাহিরপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ৫৫জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে ১৭জনকে।

রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদরের বাজার সংলগ্ন পাঠলাই নদীর তীরে তাহিরপুরের ব্যবসায়ী বেলায়েত হোসেনের অটো রাইসমিল রয়েছে।

শনিবার (৩ নভেম্বর) রাতে মিলের মাঠে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাথর ও বালু এনে রাখছিলেন। এ সময় বেলায়েত হোসেনের অনুপস্থিতিতে তার শ্রমিকদের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের শ্রমিকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে তারা রাতে এসে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে এসে বিষয়টি জানায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্ণেন্দু দেব রাইস মিলের মালিক বেলায়েত হোসেনকে ডেকে এনে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এই ঘটনা জানাজানি হলে
রবিবার সকাল ১১টায় জনতার ঝাড়– মিছিল করেন। মিছিলটি উপজেলা সদরের আব্দুজ জহুর চত্বর থেকে শুরু করে তাহিরপৃুর বাজার ঘুরে এসে উপজেলা পরিষদে আবারো জড়ো হয়।

সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল, তাহিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ নন্দন কান্তি ধর, উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আলী মর্তুজা, তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিনসহ এলাকার গণ্যমান্যসহ অনেকেই।

তারা উত্তেজিত জনতাকে স্বান্তনা দিয়ে এই বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির করার জন্য আশ^স্ত করে তাদের শান্ত করেন। পরে উল্লেখিত ব্যক্তিদের উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী ইউএনওর বাসভবনে বসে এর মীমাংসা হয়। আর ভুলের জন্য ইউএনওর দুঃখ প্রকাশ করেন।

তবে পুলিশ জানায়, রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। এ ঘটনা সমাধান হলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্ণেন্দু দেবের বিরুদ্ধে তার বাস ভবননে হামলার পরিকল্পনা করে। এ অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল, সদর ইউপি চেয়ারম্যান বুরহান উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান উজ্জলসহ ৫৫জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে ১৭জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল অভিযোগ করে বলেন, ঐ ঘটনায় আমাকে ও আমাদের দলের নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে মামলায় জড়িয়েছে পুলিশ। মিছিল করেছে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। সেসময় আমিসহ আ.লীগের অনেক সিনিয়র নেতাকর্মীরা এসে সবাইকেই শান্ত করি।

চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি মীমাংসা করার আশ্বাস দেই এবং সেই অনুযায়ী কাজ করি। মীমাংসা হলে পরিবেশ শান্ত হয়। কিন্তু যারা মিছিল করেছে তাদের আটক ও মামলা না দিয়ে আমাকেসহ সবাইকে হয়রানি করা হচ্ছে।   

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নন্দন কান্তি ধর জানান, সরকারি বাসভবনে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগেই তাদের বিরুাদ্ধে এসআই র্পাডন কুমার সিংহ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিদের মধ্যে ১৭জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদেরও আটকের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানান ওসি।  

ঢাকাটাইমস/০৫নভেম্বর/প্রতিনিধি/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত