শ্যামলী হাউজিং বস্তির আগুন

পোড়া ছাইয়ের থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

কাজী রফিকুল ইসলাম
| আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:২৩ | প্রকাশিত : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:১৯

আগুনে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন মোহাম্মদপুরের শ্যামলী হাউজিং বস্তির ক্ষতিগ্রস্তরা। সাহায্য, সহযোগিতা না পেয়ে পোড়া টিন দিয়েই ঘর তুলেছে বস্তির বাসিন্দারা। কেউবা এখনও পোড়া ছাইয়ের মধ্যে খুঁজে ফিরছে চেনা স্মৃতি।

গত ২৮ অক্টোবর রাতে আগুন লাগে বস্তিতে। পুরোপুরি পুড়ে যায় দুই শতাধিক ঘর। প্রাণ ছাড়া কেউ কিছুই বাঁচাতে পারেননি। আগুনে যখন বস্তিবাসী সর্বশান্ত, তখন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাহায্য সংগঠনগুলো।

খাবার, পানি, পোশাকসহ নানা সহযোগিতা মিললেও আবার ঘর তোলার মত সাহায্য কেউ করেননি বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তাই মাথার গোঁজার ঠাঁইটুকু তৈরি করতে এবার উঠেপরে লেগেছেন বস্তিবাসীরা।

বস্তির ১৫২ টি ঘরের মালিক ছিলেন রাশিদা বেগম। ধার করা টাকা দিয়ে ঘরগুলো তুলেছিলেন, যা এখনও পরিশোধ হয়নি। তার উপর আবার ধার করে আপাতত নিজেদের মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করছেন।

রাশিদা বেগম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আগুনে তো আমার ১৫২ ডা ঘরই পুড়ছে। খালি আমার ঘরডা কিছুডা বাকি আছিল। বাকি থাইকাও লাভ অয় নাই। মানুষ সাহায্য করতে আইসা ভালো সাহায্য কইরা দিয়া গেছে। যে যা পারছে নিয়া গেছে। টাকা, গয়না কিচ্ছু নাই।’

‘আবার টাকা ধার নিছি। একটা ঘর তো লাগবে, থাকা তো লাগব। তারপর দেখি আস্তে আস্তে যে কয়ডা পারি ঘর উডামু।‘

রাশিদা বেগমের চার মেয়ে। সবাই কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া। বস্তির এই ঘরগুলোই ছিল আয়ের একমাত্র উৎস। কিন্তু এক রাতের আগুনে সব শেষ।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরুষদের পাশাপাশি ঘর তৈরি এবং নানা কাজে সমানতালে কাজ করে যাচ্ছে নারীরা।

আগুনে অধিকাংশ বই খাতা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ পুড়ে গেছে নাজমা আক্তারের। মোহাম্মদপুর মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির এই ছাত্রী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বই খাতা অনেক কিছু পুড়ছে। এখন তো কলেজেও যাওয়া হয় না। আপাতত থাকার ঘরাটা বানানো দরকার। তারপর বন্ধুদের থেকে বই নিয়ে পড়াশোনা শুরু করব।’

গণমাধ্যমের উপর আক্ষেপ আছে বস্তিবাসীর। আগুনের ঘটনার পর বেশ কিছু টেলিভিশনে বলা হয়েছে, বস্তিটিতে ঘর পুড়েছে ১০টি। গণমাধ্যমের এমন বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে সরকারের থেকে সেভাবে সহযোগিতা পাননি বলে ধারণা বস্তিবাসীরা।

বস্তির বাসিন্দা আসমা আক্তার বলেন, ‘অনেক গণমাধ্যম ঘটনাস্থলে না এসেই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।  সেই সাথে অনেক ভুল তথ্য পরিবেশন করেছেন।’

ইডেন মহিলা কলেজের স্নাতকোত্তর বিভাগের এই শিক্ষার্থী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আগুন লাগার পরদিন আমরা কিছু টেলিভিশনের খবরে দেখলাম আমাদের নাকি ১০টা ঘর পুড়ছে। এই ধরনের নিউজ কেন করা হয়? এখানে ১০টা ঘর ছিল? তারা আমাদের সাথে কথা বলার প্রয়োজন মনে করে নাই। নিজেরা যা ইচ্ছা বলে দিছে।’

আগুন লাগার ওই রাতেই বস্তি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান বাসিন্দাদের একাংশ। আবার অনেকেই চলে গেছেন পরদিন। একেবারেই যাদের যাওয়ার জায়গা নেই তারাই কেবল রয়ে গেছেন। যুদ্ধ করেছেন পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়াবার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত