‘ডু অর ডাই ম্যাচ জিতবই’

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:৫৫

দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে জিম্বাবুয়ের কাছে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। সিলেট টেস্টে ১৫১ রানে হারের ক্ষত ভুলে দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া টাইগাররা। সিরিজ বাঁচাতে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে জয় পেতে চায় বাংলাদেশ। গতকাল শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন টাইগার অলরাউন্ডার আরিফুল হক।

সিলেটে প্রথম টেস্টে দলে ছিল না অভিজ্ঞ  কোনো পেসার।  দুই টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পেসার আবু জায়েদ রাহীকে নিয়ে সাজানো হয়েছিল একাদশ, যা নিয়ে ছিল প্রচুর সমালোচনা।  ঢাকা টেস্টে ফিরছেন দলের সেরা বোলার মোস্তাফিজুর রহমান। সিরিজ বাঁচাতে মরিয়া টাইগাররা মিরপুর টেস্টে কোনোরকম চাপ বা ঝুঁকি নিচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরিফুল হক বলেন, ‘দ্বিতীয় ম্যাচে কোনো চাপ নেই আমাদের। প্রথম ম্যাচে মূল বোলার মোস্তাফিজ খেলেনি। সে ব্যাক করলে আমরা জিততে পারব। এখন আমরা ইতিবাচক আছি। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে যেভাবেই হোক আমরা ম্যাচ জিতব।’

১৫১ রানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে কামব্যাক করাটা কতটা কঠিন? এমন প্রশ্নের জবাবে আরিফুল বলেন, ‘আমরা যদি আগের ম্যাচটা নিয়ে চিন্তা করি তাহলে খেলার আগেই চাপে পড়ে যাব। তাই আমরা সেটা নিয়ে চিন্তা করব না। ম্যাচ, বল টু বল নিয়ে ফোকাস করব। দল হিসেবে সবাই যদি ইতিবাচক খেলতে পারি তাহলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ জেতা কঠিন হবে না।’

সিলেট টেস্ট ছিল আরিফুলের অভিষেক ম্যাচ। হার দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হলেও ব্যাট হাতে একেবারে খারাপ কাটেনি তার। প্রথম ইনিংসে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যেও ৪১ রান করার পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন ৩৮ রানের ইনিংস।

অন্যরা ব্যর্থ হলেও আরিফুল তার প্রতিভার জানান দিতে পেরেছেন। সিলেটের সুখস্মৃতি নিয়ে আরিফুল বলেন, ‘প্রথম টেস্ট আমার ভালোই গিয়েছে। আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বোলাররা বাজে বল দেবে না, ওভাবেই আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললে চিন্তা-ভাবনায় পরিবর্তন আসে। সেটা আমার হয়েছে।’

দীর্ঘদিন জাতীয় দলে থেকেও মূল একাদশে সুযোগ পাননি আরিফুল। তবে সিলেট টেস্টে সুযোগ পেয়ে নিজেকে খানিকটা হলেও মেলে ধরতে পেরেছেন ২৫ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।

এই প্রসঙ্গে আরিফুল বলেন, ‘এখনো ওইভাবে কিছু করতে পারিনি। আমার চিন্তা বড় কিছু করার। চাইব শতভাগ দিতে। তা না পারলে ৯০ ভাগ যেন যেতে পারি। ম্যাচ না খেললে সবারই একটু মন খারাপ হয়। সেটা আমার হাতে নেই। আমি শুধু আমার কাজটা করে যেতে চাই।’

মূল একাদশে খেলতে না পারলেও দীর্ঘদিন জাতীয় দলের সঙ্গে থেকে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন আরিফুল। তিনি বলেন, ‘এটা সত্যি কথা। যদি নাও খেলেন জাতীয় দলে থাকলে অভিজ্ঞতা অর্জন হয়। বড় টিমের সাথে খেলা বা বড় বড় খেলোয়াড়দের সাথে ড্রেসিংরুম শেয়ার করা এটাতে বুঝতে অনেক সুবিধা হয়। বড় ভাইয়ারা যখন কিছু বলেন সেটা কাজে দেয়। আন্তর্জাতিক ম্যাচ কেমন হতে পারে তারা ধারণা দেন।’

জাতীয় দলে তাকে সীমিত ওভারে বেশি বিবেচনা করা হলেও তিন ফরম্যাটেই খেলে যাওয়ার ইচ্ছা আরিফুলের।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার আসলে স্বপ্ন ছিল টেস্ট খেলার। আমি চাই দীর্ঘদিন টেস্ট খেলতে, জাতীয় দলে থাকতে। সব ফরম্যাটে খেলার ইচ্ছা আমার। যে ফরম্যাটে যেভাবে খেলা দরকার সেভাবেই খেলার চেষ্টা করব। আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকব। নিজের কাজটা করে যাব কীভাবে ভালো করা যায়। রান করেছি ওটা ভুলে গেছি। সামনে কীভাবে ভালো করা যায় সেটা এখন মূল ভাবনা।’

জাতীয় দলে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেলেও এখন পর্যন্ত বোলিংয়ে তেমন সুযোগ পাননি। বোলিংয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে (বিপিএল) বেছে নিলেন আরিফুল। নিজের বোলিং নিয়ে তিনি বলেন, ‘বোলিং নিয়েও কাজ করছি। আসলে ওটা আমার বেজের উইকেট ছিল না। বোলিং নিয়ে কাজ করছি। আমার বেজের উইকেট হলে হয়তো আরো বল করতাম। ঘরোয়া ক্রিকেটে আরো ভালো করতে হবে। বিপিএলে যদি আরো ভালো করতে পারি তাহলে জাতীয় দলেও বোলিংয়ের সুযোগ পাব।’

(ঢাকাটাইমস/৯ নভেম্বর/এইচএ/ডিএইচ/এসইউএল)

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত