স্বস্তির আশা নাগরিক সমাজে

মহিউদ্দিন মাহী
 | প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:০০

তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির নমনীয় প্রতিক্রিয়ায় কিছুটা স্বস্তি বোধ করছেন নাগরিক সমাজের সদস্যরা। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো মধ্যে বিভেদের অবসান ঘটিয়ে ভোটের পথে আসবে বলে আশা করছেন তারা।

এর মধ্যেই খবর এসেছে, ভোটে আসা, না আসার বিষয়ে বিএনপি পাঁচ বছর আগের পরিস্থিতিতে নেই। দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও ভোটে আসার ক্ষেত্রে ইতিবাচক মত দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। আবার দলের স্থায়ী কমিটি এবং নির্বাহী কমিটির সদস্যেরও একটি বড় অংশই ভোটে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নেতাদের।

আওয়ামী লীগ তার মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরুও করে দিয়েছে। জাতীয় পার্টিও শুরু করতে যাচ্ছে। বিএনপি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দিতে শনিবার দলের শীর্ষ নেতাদের এবং পরে দুই জোট ২০ দল এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনায় মন স্থির করেছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে বসেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো। আলোচনায় তর্কবিতর্কের পাশাপাশি অতীতের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ধরে নানা খুনসুটিও হয়েছে। এর মধ্যেও উদ্বেগের খানিকটা অবসান হয়েছে বলে মনে করেন ঢাকা টাইমসের সঙ্গে কথা বলা নাগরিক সমাজের বেশ কয়েকজন সদস্য।

জানতে চাইলে রাজনীতি বিশ্লেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দেশে এখন নির্বাচনের একটা আবহ তৈরি হয়েছে। সব দলই নির্বাচন আসুক আমি সেটাই চাই। আর যদি কোনো দূরত্ব থাকে সেটা নিরসনে এখনো পথ আছে। তফসিল ঘোষণা হলেও সংলাপ চলতে পারে। সুতরাং একটা প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ নির্বাচন হউক সেটা আমি প্রত্যাশা করি। সব বড় দলই নির্বাচনে আসুক।’

সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সবাই আসলে তো নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়, উৎসবমুখর হয়। সেদিকেই যাচ্ছে পরিবেশ। এখন দেখার বিষয় হলো নির্বাচন কমিশন কতটা শক্তভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি হ্যান্ডেলিং করতে পারে।’

এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘সবাই নির্বাচনে আসছে এমন খবর তো অবশ্যই রাজনীতির জন্য ইতিবাচক। তবে সামনে নির্বাচনী প্রচারণার দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। তারা কে কীভাবে বিষয়গুলো প্রচারণা নিয়ে আসে।’

বেসরকারি সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচনে বিএনপি আসবে। না এসে তো লাভ নেই। আবার নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন এসেও তো বিএনপির লাভ নেই।’

সব দল এলে তো নির্বাচন উৎসবমুখর হবে, এমন মন্তব্যে বদিউল বলেন, ‘বিএনপি নেতারা তো পলায়নপর হয়ে পড়ছে। তাদের নামে হাজারো মামলা। তারা যদি ভোটকেন্দ্রে না যেতে পারে, এজেন্ট না দিতে পারে তাহলে নির্বাচন তো উৎসবমুখর হবে না। এই দিকটাতেও নজর দিতে হবে।’

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ অবশ্য রাজনীতির গুণগত মান বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমি এই নির্বাচনের বিষয়ে খুব বেশি আশাবাদী নই। কারণ যেভাবে তফসিল ঘোষণা হলো, আর সংলাপও ব্যর্থ হলো- সব মিলিয়ে তো আশাবাদী হওয়া যায় না।’

সার্বিক পরিস্থিতি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দিকেই আগাচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে তোফায়েল বলেন, ‘এটা ঠিক। নির্বাচন একটা হবে হয়তো। তবে নির্বাচন হলেই তো আর সব ঠিক হয়ে যায় না। উন্নত গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হলে আমাদের অনেক কিছু করতে হবে।’

ঢাকাটাইমস/১০নভেম্বর/এমএম/জেবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত