ভোটে লোকসান দেখছে জামায়াত

রেজা করিম
| আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ২৩:৪৪ | প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:০০

সংলাপ কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। এই অবস্থায় ভোটে গেলে লাভ হবে না বলে মনে করছে বিএনপির শরিক জামায়াতে ইসলামী। তবে ২০১৪ সালের মতো ভোট বর্জন করা হবে কি না, এমন সিদ্ধান্তও এখনও নেয়নি তারা। বলছে, অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়ার।

নতুন জোট ঐক্যফ্রন্ট করার আগে জামায়াতকে বিএনপি যত পাত্তা দিত, এখন অবশ্য সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। ফলে জামায়াত আগের মতো বিএনপিকে প্রভাবিত করতে পারবে কি না, এই বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ এবং পরের নির্বাচনে বর্জনের সিদ্ধান্তের পেছনে জামায়াতের ভূমিকা রয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গণে প্রচার রয়েছে। তবে বিএনপি গত ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করেছে এরপর জামায়াতকে নিয়ে বিএনপির আগের জোট ২০ দলের নেতারা আড়ালে পড়ে গেছেন।

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি যে সংলাপ করেছেন, সেখানে ২০ দলীয় জোটের মধ্যে বিএনপি ছাড়া আর কেউ স্থান পায়নি। বিএনপি গেছে ঐক্যফ্রন্টের হয়ে।

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দুই দফা সংলাপ সফল হয়নি। দুই পক্ষ বিরপীতমুখী অবস্থানে। আওয়ামী লীগ বলছে, সংবিধানের বাইরে যাওয়া সম্ভবই না। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট সংসদ ভেঙে নির্বাচনের দাবিতে অটল। এই অবস্থায় দাবি আদায়ে আন্দোলনের কথাও বলছেন নেতারা।

জামায়াত কী করবে- এমন প্রশ্নে দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা নির্বাচন চাই। তবে সরকার যেভাবে নির্বাচনটা করতে চাচ্ছে, তাতে সে নির্বাচনে অংশ নিয়ে খুব একটা লাভ হবে না।’

বিএনপি কোনো কারণে নির্বাচনে না গেলে জামায়াত যাবে কি না- এমন প্রশ্নে জামায়াত নেতা বলেন, ‘তখন আমরা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেব। আমরা তো জোটের সঙ্গে আছি। ২০ দলীয় জোট একসঙ্গে নির্বাচন করার কথা। এ অবস্থায় অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলনে গেলে সমর্থন থাকবে জামায়াতের

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জামায়াতের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। ফ্রন্টের কর্মসূচিতে ঘোষণা দিয়ে যোগও দেয়নি দলটির নেতা-কর্মীরা। তবে ফ্রন্টের দেয়া সাত দফা দাবির সঙ্গে মিলে গেছে জামায়াতের আট দফা। আবার এখন ফ্রন্ট আন্দোলনে গেলে জামায়াতও কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামার কথা জানিয়েছে।

জামায়াত নেতা জুবায়ের বলেন, নানা দিক থেকে ভিন্নমত থাকলেও অধিকাংশ দলেরই কিছু অভিন্ন দাবি রয়েছে। এ দাবিগুলো আদায়ের সব আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াতের পূর্ণ সমর্থন থাকবে। তারা চান সরকার দাবি মেনে নিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করুক। তবে সরকারের এটা করবে বলেও আশা করেন না জামায়াত নেতারা। আর সে ক্ষেত্রে আন্দোলনকেই সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে দেখছেন তারা।  

তবে ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলনে গেলে জামায়াত কীভাবে সহযোগিতা করবে, সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করতে চান না দলের নেতারা। তবে জানিয়েছেন, যুগপৎ কর্মসূচিও হতে পারে আবার ঘোষণা না দিয়ে কর্মসূচিতে যোগও দিতে পারেন তারা।

ভোটের প্রস্তুতিও আছে

সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের দাবি নাকচ হওয়ার আগে নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। তবে একশটিরও বেশি আসনে জামায়াত নেতাদের ভোটের প্রস্তুতি রয়েছে। আর দলের কেন্দ্রের নির্দেশ ছাড়া নেতারা এই প্রস্তুতি নেন না।

জামায়াত নেতারা বলছেন, যদি শেষ পর্যন্ত বিএনপি ভোটে যায়, তাহলে তারাও যাবেন এবং তখন প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়ার কারণে ভোটে বাজে ফল করতে চান না।

জামায়াতের একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ১০১টি আসনে তাদের প্রাথমিক প্রার্থী থাকলেও তারা ৫০টির মতো আসনে ছাড় আশা করছেন।

জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলীয় প্রতীকে ভোটে যাওয়ার সুযোগ নেই স্বাধীনতাবিরোধী দলটির। সে ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই লড়বেন তারা। চাইলে জোটের কোনো শরিক দলের প্রতীকও ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখার পক্ষে তারা।

যেসব আসনে ভোটের প্রস্তুতি

ঠাকুরগাঁও-২: আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১: মোহাম্মদ হানিফ, দিনাজপুর-৪: আফতাব উদ্দিন মোল্লা, দিনাজপুর-৬: আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-২: মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩: আজিজুল ইসলাম, রংপুর-৫: শাহ হাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম-১: আজিজুর রহমান স্বপন, কুড়িগ্রাম-৪: নূর আলম মুকুল, গাইবান্ধা-৪: আবদুর রহিম সরকার, বগুড়া-৫: দবিবুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩: নুরুল ইসলাম বুলবুল, রাজশাহী-১: মুজিবুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৪: রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ-৫: আলী আলম, পাবনা-১: নাজিব মোমেন, পাবনা-৫: ইকবাল হুসাইন, ঝিনাইদহ-৩: মতিয়ার রহমান, যশোর-১: আজিজুর রহমান, যশোর-২: আবু সাইদ মুহাম্মদ সাদাত হোসাইন, বাগেরহাট-৩: আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪: শহীদুল ইসলাম, খুলনা-৫: মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬: শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুছ, সাতক্ষীরা-১: ইজ্জতউল্লাহ, সাতক্ষীরা-২: আবদুল খালেক ম-ল, সাতক্ষীরা-৪: গাজী নজরুল ইসলাম, পটুয়াখালী-২: শফিকুল ইসলাম মাসুদ, পিরোজপুর-১: শামীম সাঈদী, পিরোজপুর-২: মাসুদ সাঈদী, শেরপুর-১: হাসান ইকবাল, ময়মনসিংহ-৬: জসিমউদ্দিন, ঢাকা-১৫: শফিকুর রহমান, ফরিদপুর-৩: মোহাম্মাদ খালেছ, সুনামগঞ্জ-৫: আব্দুস সালাম আল মাদানী, সিলেট-৫: ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট-৬: হাবিবুর রহমান, কুমিল্লা-১৪: সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, চট্টগ্রাম ১৫: আ ন ম শামসুল ইসলাম, কক্সবাজার-২: হামিদুর রহমান আযাদ, পঞ্চগড়-১: আব্দুল খালেক, লালমনিরহাট-১: আবু হেনা মো. এরশাদ হোসেন সাজু, গাইবান্ধা-৩: নজরুল ইসলাম লেবু, গাইবান্ধা-৫: ওয়ারেছ আলম দুদু, বগুড়া-২: শাহাদুজ্জামান, বগুড়া-৪: তায়েব আলী, বগুড়া-৬: শাহাবুদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১: কেরামত আলী, রাজশাহী-৩: মাজিদুর রহমান, নাটোর-১: তাসনিম আলম, নাটোর-৪: দেলোয়ার হোসেন খান, পাবনা-৪: আবু তালেব ম-ল, সাতক্ষীরা-৩: রবিউল বাশার, কুষ্টিয়া-২: আব্দুল গফুর, বরগুনা-২: সুলতান আহমেদ, শরীয়তপুর-১: সাইফুল আলম খান মিলন, মৌলভীবাজার-১: আমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১০: শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১১: মুহাম্মদ শাহজাহান, চট্টগ্রাম-১৬: জহিরুল ইসলাম, কক্সবাজার-৪: শাহজালাল চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও-৩: আবুল কাশিম, রংপুর-২ ওবায়দুল্লা সালাফী, গাইবান্ধা-১: মাজেদুর রহমান, জয়পুরহাট-১: ফজলুর রহমান সাঈদ, জয়পুরহাট-২: এস এম রাশেদুল আলম সবুজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২: ইয়াহিয়া খালেদ, নওগাঁ-৪: খ ম আব্দুর রাকিব, পাবনা-২: হেসাব উদ্দিন, মেহেরপুর-১: ছমির উদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা-২: রুহুল আমিন, ঝিনাইদহ-২: নূর মোহাম্মদ, ঝিনাইদহ-৪: হাবীবুর রহমান, যশোর-৫: গাজী এনামুল হক, যশোর-৬: মুক্তার আলী, নড়াইল-২: মাহফুজুর রহমান, খুলনা-৪: কবিরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৫: আহসান হাবীব ইমরোজ, টাঙ্গাইল-৮: জাকারিয়া মুমেন, জামালপুর-২: সামিউল হক ফারুকী, ময়মনসিংহ-৫: মতিউর রহমান আকন্দ, নেত্রকোণা-৪: রুহুল আমীন, গাজীপুর-৪: এস এম সানাউল্লহ, নরসিংদী-১: আ ফ ম আব্দুস সাত্তার, নরসিংদী-৫: পনির হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-৫: সাইফুল ইসলাম, সিলেট-৩: লোকমান আহমদ, সিলেট-৪: জয়নাল আবেদিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪: কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম, কুমিল্লা-৯: এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী, চাঁদপুর-৫: আবুল হোসেন, ফেনী-৩: ফখরুদ্দিন মানিক, নোয়াখালী-১: মোহাম্মদ উল্লা, নোয়াখালী-২: আলাউদ্দীন, নোয়াখালী-৫: ফখরুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর-২: মাস্টার রুহুল আমিন, লক্ষ্মীপুর-৩: আনোয়ারুল আজীম, চট্টগ্রাম-১: সাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম-৪: আনোয়ার সিদ্দিকী চৌধুরী, কক্সবাজার-১: এনামুল হক মঞ্জু।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত