ভোলা-১

শক্তিশালী অবস্থানে তোফায়েল

ইকরামুল আলম, ভোলা
 | প্রকাশিত : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:২৪

বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ এবার ভোলা সদর আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অতীতে জেলার একাধিক আসনে তিনি ভোটের লড়াইয়ে নামলেও এবার ভোলা-১ কেই বেছে নিয়েছেন।

২০০১ সালে ভোলার তিনটি আসন থেকে দাঁড়িয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ এই নেতা। তবে ২০০৮ সালে তিনি নির্বাচন ভোলা-২ আসন থেকে নির্বাচন করেন। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পান ভোলা-১ আসনে। এবারও এখান থেকেই রয়েছে ভোটের প্রস্তুতি।  

জনগণের মধ্যে প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। ভোলার চিত্র পাল্টে দিতে যে কয়জন অবদান রেখেছেন তিনি তাদেরই একজন। আর এ কারণে ভোটের ময়দানে তিনি বরাবর থাকেন শক্তিশালী অবস্থানে।

ভোলার অন্যতম প্রধান সমস্যা নদীভাঙন রোধে গত পাঁচ বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে তোফায়েলের প্রচেষ্টায়। ইতিমধ্যে ইলিশা ও রাজাপুরে নদীভাঙন রোধে সিসি ব্লকের কাজ চলছে। ভোলা-বরিশাল সড়ক পথে যাতায়াতের জন্য তেঁতুলিয়া নদীর ওপর নির্মাণ হচ্ছে সেতু। এরই মধ্যে যাচাই হয়েছে সম্ভাব্যতা। আর এসব উদ্যোগের সুফল পাওয়ার আশা করছে আওয়ামী লীগ।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলাম জানান, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলীয় নেতাকর্মীরা। আর সেই লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি গঠন এবং পুনর্গঠনের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে মহিলা সমাবেশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

এই আসনে অতীতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও বিজেপি জিতেছে একাধিকবার। তবে এবার ক্ষমতাসীন দল আশা করছে, তোফায়েলে বাজিমাত করবে তারাই।

১৯৭৩ সালে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তৎকালীন যুবলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ। ১৯৭৯ সালে আসনটি চলে যায় এ অঞ্চলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম মোশারেফ হোসেন শাজাহানের দখলে।

এরশাদ শাসনামলে ১৯৮৬ এবং ১৯৮৮ সালে নির্বাচিত হন সাবেক মন্ত্রী জাতীয় পার্টির তৎকালীন মহাসচিব নাজিউর রহমান মঞ্জু।

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে আবার নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। ওই সময় তোফায়েল ভোলা-২ আসনেও জিতেন। ১৯৯৬ সালেও জয়ের মালা পরেন তিনি। ওই দফায়ও দুটি আসনে জয়লাভ করেন তোফায়েল।

২০০১ সালে আবার জিতেন বিএনপির মোশারেফ হোসেন শাজাহান। ২০০৮ সালে চার দলীয় জোটের শরিক দল বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ নির্বাচিত হন।

আসনটিতে এবার ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৬৮ হাজার ৮২৫ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৮৫ হাজার ৮৩০ এবং নারী ৮২ হাজার ৯৯৫ জন।
বিএনপি না বিজেপি?

১৯৯৯ সালে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোট মিলে গঠন হয় চারদলীয় জোট। তবে ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে এরশাদ জোট থেকে বেরিয়ে যান। তবে তার দলের একাংশ বিজেপি নামে আলাদা দল গঠন করে জোটে থেকে যান নাজিউর রহমান মঞ্জু। তবে আসনটিতে সে সময় মনোনয়ন পায় বিএনপি।  

যদিও নাজিউরের মৃত্যুর পর ২০০৮ সালে তার ছেলে আন্দালিব রহমান পার্থকে আসনটি ছেড়ে দেয় বিএনপি আর তিনিই সে সময় ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে জিতেন।

এবারও পার্থ ছাড়ের আশা করছেন। তবে স্থানীয় বিএনপি আবার নিজেদের প্রার্থী দেয়ার দাবিতে সোচ্চার। জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর এবার ধানের শীষ পাওয়ার প্রত্যাশায়। কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হায়দার আলী লেলিনও মনোনয়নের জন্য লবিং করছেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান বলেন, ‘আগামী নির্বাচন নিয়ে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। ইতিমধ্যে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি গঠনও করা হয়েছে। এ আসন থেকে আমরা গোলাম নবী আলমগীরকে প্রার্থী চাই। তাকে কেন্দ্র করেই দলীয় কর্মকা- এগিয়ে চলছে। তাকে ছাড়া অন্য বিকল্প কোনো প্রার্র্থীর কথা তারা চিন্তা করছিন না আমরা।’

তবে বিজেপি পার্থকে ধরেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুব সংহতির ভোলা শাখার সহ-সভাপতি অনুপম দত্ত বলেন, ‘বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ২০০৮ সালে ২০ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আগামী নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়ন পাবেন। এটা প্রায় নিশ্চিত। তারা সেই লক্ষ্যেই কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন।’

এটা স্পষ্ট যে বিএনপি ও বিজেপিতে এক ধরনের দ্বন্দ্ব-বিভেদ আছে। শেষ পর্যন্ত বিএনপি যদি ২০০৮ সালের মতোই পার্থকে বেছে নেয়, তাহলে তাকে বিএনপির পূর্ণ সহযোগিতা দরকার পড়বে।  আর সেটা এবার তিনি পাবেন কি না, সেটাও দেখার অপেক্ষা।

অন্য দলের প্রস্তুতি

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সম্প্রতিক ভোলা সফরে গিয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। দলটির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আজিম গোলদারের নাম উঠে এসেছে আলোচনায়। যদিও দলটি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হলে তোফায়েলকেই সমর্থন দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধান দলগুলো ছাড়াও সম্প্রতি আলোচিত হয়ে উঠা ইসলামী আন্দোলন ইয়াসিন নবীপুরীকে মনোনায়ন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচারপত্র ঝুলিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম জানান, আগামী নির্বাচনে ভোলার চারটি আসনেই এককভাবে নির্বাচন করবেন তারা। সব প্রার্থীই স্থানীয়ভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন শুধু কেন্দ্রের অনুমোদনের অপেক্ষা।

ঢাকা টাইমস/১১ নভেম্বর/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত