চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩

আবার তিন দলের লড়াই

জহুরুল ইসলাম জহির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
 | প্রকাশিত : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৪৪

সবশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে যে কয়টি আসনে ত্রিমুখী লড়াই হয়েছিল, তার একটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসন। সে সময় বিএনপি ও জামায়াত সারাদেশে জোটবদ্ধ নির্বাচন করলেও চারটি আসনে দুই দলের প্রার্থীই ছিল উন্মুক্ত, যার একটি ছিল উত্তরের এই আসনটি। আর বিএনপি এবং জামায়াতের ভোট ভাগাভাগির সুযোগে জয় পায় আওয়ামী লীগ।

২০০১ সালেও আসনটিতে বিএনপি এবং জামায়াত একে অপরকে ছাড় দেয়নি। এবারও দুই পক্ষই লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই আসনটিতে ক্ষমতাসীন দলের অবস্থান ১৯৯১ সাল থেকেই ছিল দুর্বল। তবে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়েছে অবস্থান। আর ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি থেকে আসা আব্দুল ওদুদ চমক দেখান। ১৯৭৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরে ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেন তিনি।

জোটের দুই শরিক বিএনপি ও জামায়াতের সম্মিলিত ভোট এই আসনে ১৯৯১ সাল থেকেই আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি ছিল। এমনকি ২০০৮ সালেও দুই দলের ভোট আওয়ামী লীগের চেয়ে ৩৬ হাজার বেশি ছিল।

ওই নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ওদুদ পান এক লাখ ১২ হাজার ৮০২ ভোট। আর ধানের শীষে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হারুনুর রশীদ পান ৭৬ হাজার ১৭৮ এবং জামায়াতের লতিফুর রহমান পান ৭২ হাজার ২৯২ ভোট।

গত নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি-জামায়াত জোট অবশ্য এখনও ভোটে আসার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি, যদিও তারা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে নেতারা জানিয়েছেন। আর এই অবস্থায় এলাকায় সক্রিয় হয়েছেন দল দুটির নেতা-কর্মীরাই।

মনোনয়ন নিয়েও চলছে জল্পনা-কল্পনা। আর বিএনপিতে এখন পর্যন্ত হারুন ছাড়া আর কারও নাম শোনা যাচ্ছে না। জামায়াত আসনটিতে বহু আগেই প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। তবে আওয়ামী লীগে এবার সংসদ সদস্য ওদুদ ছাড়াও আরও নেতা আগ্রহী।

সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন। ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৮২ হাজার ৪৭৪ জন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দখলে ছিল। কিন্তু আমি বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার পরে নবম ও দশম জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগকে উপহার দেই। আর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের পর এবারও মনোনয়ন পাওয়ার আশা করি। আর মনোনয়ন পেলে উন্নয়নের ধরাবাহিকতা রেখে উন্নয়ন কাজ করে যাব।’

তবে জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও রুহুল আমিনও এবার মনোনয়ন চান। তিনি নেমে গেছেন আগাম প্রচারে। বলেন, ‘আমি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় ভোটের কৌশল জানি। জনগণের সেবাও করেছি। এবার সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করতে চাই।’

সাবেক ছাত্রনেতা ও ব্যবসায়ী সামিউল হক লিটনও আছেন মনোনয়নের লড়াইয়ে। বলেন, ‘টিকিট পেলে আওয়ামী লীগের জয় অবশ্যই ছিনিয়ে আসব।’

জেলা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ও স্বাচিপের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বলেন, ‘আমি সারাজীবন মানবসেবা করতে আসছি। সেজন্য দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। আর মনোনয়ন না দিলে দল যাকে দেবে তার হয়েই নৌকার পক্ষে কাজ করব।’

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক মঈন উদ্দীন ম-ল অবশ্য একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীকে সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দেবে জেলা আওয়ামলীগের সকল নেতাকর্মী তার হয়ে কাজ করবে।’

বিএনপিতে হারুন

সাবেক সাংসদ ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদ এবারও বিএনপিতে একক প্রার্থী। তিনি ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে এই আসন থেকে নির্বাচিত হন। দুই বারই জামায়াত হয়েছিল দ্বিতীয়, তৃতীয় হয় আওয়ামী লীগ।

হারুনকে ধরেই এখানে আবার আগাচ্ছে বিএনপি। এই নেতা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নেতাকর্মীরা নির্দেশের অপেক্ষায়। ভোটে আসার ঘোষণা এলে ঝাঁপিয় পড়বে, তবে এখনও প্রচার থেমে নেই। কোথায় কারা কী দায়িত্ব পালন করবেন, তা ঠিক করা হচ্ছে।

জামায়াতে বুলবুল

১৯৯১ সালে আসনটিতে জয় পায় জামায়াত। জিতেন লতিফুর রহমান। পরের দুইবার তিনি হন দ্বিতীয়। কিন্তু ২০০৮ সালে হন তৃতীয়। এরপর হারেন পৌরসভা নির্বাচনেও। তাই তার ওপর আর ভরসা রাখছে না দল।

স্বাধীনতাবিরোধী দলটি তার কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল ইসলাম বুলবুলকে আসনটির জন্য বাছাই করেছে। তবে নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় তাকে স্বতন্ত্র অথবা ২০ দলের শরিক দলের কোনো একটির প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়তে হবে।

আসনটিতে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তিও যেমন আছে, তেমনি ভোটও আছে ভালো। যদিও তা আনুপাতিক হারে ধীরে ধীরে কমছে। প্রতি নির্বাচনে মোট ভোটার বাড়ায় ভোট বেড়েছে তিন দলেরই। তবে জামায়াতের ভোট আনুপাতিকহারে কম বেড়েছে। সবচেয়ে বেড়েছে আওয়ামী লীগের, এরপর বিএনপির।
১৯৯১ সালে জয় পাওয়ার সময় দলটি আসনটি থেকে ভোট ৫৮ হাজার ৩৩৩টি, বিএনপি পায় ৪৪ হাজার ৩৮১ আর আওয়ামী লীগ পায় ২৯ হাজার ৪৪৫।
পরের নির্বাচনে ৯৬ সালে বিএনপির ভোট বেড়ে হয় ৭৭ হাজার ৯২৯। জামায়াতের ভোট কমে দাঁড়ায় ৪৭ হাজার ৪৮ ভোট। আর আওয়ামী লীগের বেড়ে হয় ৩৫ হাজার ৮৩৬।

২০০১ সালে বিএনপির ভোট আরও বেড়ে হয় ৮৫ হাজার ৪৮৯, আওয়ামী লীগের বেড়ে হয় ৫৭ হাজার ২১৯। জামায়াতের হয় ৬০ হাজার ৪৬০।
এর পরের বার হারুনের ভোট কমে জামায়াতের কিছু বাড়ে আর আওয়ামী লীগের হয় প্রায় দ্বিগুণ।

(ঢাকাটাইমস/১১নভেম্বর/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত