হাইব্রিডে এগিয়ে টয়োটা প্রিয়াস

আলাউদ্দিন আল আজাদ আলিফ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:২৬ | প্রকাশিত : ১২ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:১৯

দেশে টয়োটার সেডান কারের প্রিমিয়াম সেগমেন্টে জনপ্রিয় মডেল প্রিমিও। অথচ ইউরোপ ও  যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রিমিও, এলিয়ন মডেল বিলো-স্ট্যান্ডার্ড গাড়ি হিসেবে বিবেচ্য। তাই গাড়িগুলো উন্নত বিশ্বে জনপ্রিয় নয়। তাহলে এই মডেলের গাড়িগুলোর বিকল্প কোন গাড়ি? টয়োটা প্রিয়াস হাইব্রিড হতে পারে আপনার সেরা পছন্দ। 

কেন প্রিয়াস গাড়ি কিনবেন? পাঠকদের এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ইনস্টিটিউট অব মোটর ইন্ডাস্ট্রি, ইউকে (আইএমআই) সনদপ্রাপ্ত হাইব্রিড গাড়ি বিশেষজ্ঞ মো. আশফাকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রিয়াস ১৮০০ সিসি ইঞ্জিনের গাড়ি হওয়া সত্ত্বেও সম্পূরক শুল্ক হ্রাস পাওয়ার কারণে এই সেগমেন্টে গাড়িটির মূল্য ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা কমেছে। মধ্যবিত্তদের ক্রয়সীমার মধ্যে এই গাড়ির রয়েছে প্রিমিয়াম লুক। গাড়িটির ইন্টেরিয়র, সিট, আধুনিক কার্ভড ড্যাশবোর্ড, কালার মিটার ডিসপ্লে, ইলেকট্রিক গিয়ার, বিগ স্ক্রিন মাল্টিমিডিয়াসহ অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলো গাড়িতে চড়ার সেরা অনুভূতি দিবে। চলতি পথে সাউন্ডলেস ড্রাইভ আপনার যাত্রাপথকে নিরাপদ এবং আরামদায়ক করবে। 

তিনি জানান, হাইব্রিড গাড়ি হওয়ার কারণে শহরে এই গাড়িটি প্রতি লিটারে ১৫ থেকে ১৮ কিলোমিটার এবং হাইওয়েতে ২৩ থেকে ৩২ কিলোমিটার মাইলেজ পাওয়া যাবে। প্রতিবছর প্রিয়াসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ট্যাক্স লাগলেও সারা বছরের ফুয়েল, ইঞ্জিন অয়েল, অয়েল ফিল্টারসহ গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে এর দ্বিগুণ টাকা খরচের হাত থেকে মুক্তি মিলবে। দিন শেষে ১.৮ লিটার ইঞ্জিনের পারফরমেন্সের সঙ্গে সাশ্রয়ী গাড়ি চালানোর সুবিধাও পাওয়া যাবে।

১৯৯৬ সালে টয়োটা সর্বপ্রথম প্রিয়াস মডেলের গাড়িটি অবমুক্ত করে। প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় জেনারেশনের ইঞ্জিন আপডেট করে এখন গাড়ি জগতে চতুর্থ জেনারেশনের হাইব্রিড প্রিয়াস রাজত্ব করছে। এরও উন্নত সংস্করণ হিসেবে রয়েছে হাইব্রিড প্লাগইন গাড়ি। 

প্রিয়াস ২০১৫ হাইব্রিড গাড়িতে সাইনার্জি দুইটি মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। গাড়িটির এক্সিলারেশন অসাধারণ। ০-৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি তুলতে প্রিয়াসের প্রয়োজন মাত্র ১০ সেকেন্ড। গাড়িটির ব্যাকলাইটটি বাঁকানো আকৃতির। ফলে পেছন থেকেও গাড়িটিকে অন্যান্য গাড়ি থেকে আলাদা মনে হবে। 

উন্নত বিশ্বে হাইব্রিড গাড়ির অত্যাধুনিক সংস্করণ হিসেবে প্লাগইন হাইব্রিড এবং ইলেকট্রিক কারের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। গাড়ি উৎপাদনকারী দেশ জাপানে প্রিমিও, এলিয়নের উৎপাদন হ্রাস পেয়ে হাইব্রিড মডেলের গাড়ি নির্মিত হচ্ছে।

প্রিয়াসে রয়েছে ১৫ ইঞ্চির অ্যালয় চাকা। এই মডেলে চাইলে ১৭ ইঞ্চির অ্যালয় চাকার গাড়িও নেয়ার সুযোগ থাকছে। গাড়িটির পেছনে ২৪ ইঞ্চির বুট স্পেস রয়েছে। যেখানে অনায়েসে পাঁচটি স্ট্যান্ডার্ড লাগেজ বহন করা যাবে। এছাড়া পিছনের সিট ফোল্ড করে এর স্টোরেজ দ্বিগুণ করা যাবে। তখন ১১টি লাগেজ একসঙ্গে বহন করা যাবে। 

প্রিয়াসের ব্যাক লুক সেডান এবং হ্যাচব্যাকের সমন্বয়ে তৈরি। ফলে অনেক গাড়ির ভিড়ে আলাদা করে গাড়িটি নজর কাড়বে।

গাড়িটির গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৬৫ মিলিমিটার। ৪ সিলিন্ডারের ইঞ্জিন রয়েছে প্রিয়াসে। এতে ‘ইকো’, ‘ইভি’ এবং ‘স্পোর্টস’ নামে তিনটি ড্রাইভিং মোড আছে। নিরাপত্তার জন্য গাড়িটিতে সাতটি এয়ারব্যাগ বিভিন্ন স্থানে সংযোজন করা হয়েছে।

পার্কিং অ্যাসিসট্যান্ট, ৬.১ ইঞ্চি মাল্টিমিডিয়া প্লেয়ার, রিমোট কি, হিল এসিস্ট, ট্রাকশন কন্ট্রোল, এবিএস, লেদার সিট, ক্রুইস কন্ট্রোলসহ অসংখ্য ফিচার রয়েছে প্রিয়াস ২০১৫ মডেলের গাড়িটিতে। 

প্রিয়াসের দৈর্ঘ্য ৪৫৪০ মিমিমিটার, প্রস্থ ১৭৬০ মিলিমিটার এবং উচ্চতা ১৪৯০ মিলিমিটার। গাড়িটির ওজন ১৭৯০ কেজি। এর ফুয়েল ট্যাঙ্কে ৪৩ লিটার তেল ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। ৫.১ মিটার টার্নিং রেডিয়াস রয়েছে আকর্ষণীয় এই বাহনটির। 

গাড়িটি ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। রাজধানীর মালিবাগের হোসাফ টাওয়ারে গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ম্যাভেন অটোস সাশ্রয়ী মূল্যে গাড়িটি আমদানি করছে।

(ঢাকাটাইমস/১২নভেম্বর/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত