বিআইডিএসের গবেষণা প্রতিবেদন

মিথেনের জালে ঢাকার আকাশ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
 | প্রকাশিত : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২২:০৮
প্রতীকী ছবি

সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে ভয়াবহ মিথেন গ্যাসের ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকাসহ দেশের শহরগুলো। এ গ্যাস কার্বন-ডাই অক্সসাইডের চেয়েও ২১গুণ বেশি বিপজ্জনক।

সোমবার বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) দুই দিনব্যাপী গবেষণা সম্মেলনের শেষ দিনে ‘অর্গানিজ সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড দ্য আরবান পুওর ইন ঢাকা সিটি’ শীর্ষক এক গবেষণায় এসব বিষয় উঠে এসেছে। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন করেন মিতালী পারভিন এবং আনোয়ারা বেগম।

গবেষণায় বলা হয়, দিনে দিনে ঢাকায় শহরে ব্যাপক জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ব্যাপক পরিমাণে অর্গানিজ (সবজি বা অন্যান্য পচনযোগ্য বর্জ্য) বর্জ্য উৎপাদন হচ্ছে অর্থাৎ যেসব বর্জ্য পচে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ঢাকা সিটি করপোরেশনের সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় এই ঝুঁকি দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠী এই ক্ষতির শিকার বেশি হচ্ছে।

রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত সস্মেলনে এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ টি এম নুরুল আলম। অধিবেশনে আরও বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

প্রফেসর নুরুল আলম বলেন, অর্গানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নজর দেয়া খুবই প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সরকারিভাবে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরে জনসংখ্যার ঘনত্ব বাড়ছে। এক্ষেত্রে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতি স্কয়ার কিলোমিটারে ১৯৯১ সালে জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল ১৫ হাজার ৩৩৩ জন। সেটি বেড়ে ২০০৪ সালে হয়েছে ১৮ হাজার ৫৫ জন। ২০১১ সালে জনসংখ্যার এই ঘনত্ব আরও বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ২৯ জনে। ফলে ঢাকা শহরে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেকারত্ব, জ্বালানি শক্তির সংকট, পরিবেশ দূষণ এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

ঢাকা শহরে প্রতি জন মানুষ প্রতিদিন ০.৫৬ কেজি বর্জ্য উৎপাদন করছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতিদিন ৩ হাজার ৮০০ টন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশই অর্গানিক বর্জ্য। এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত দুর্বল। ফলে বর্জ্য পচে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এর সঙ্গে মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে। যা জনস্বাস্থ্যসহ গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ায় ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করছে।

প্রতিবেদনে, ঢাকার বাইরে পুরো দেশের শহরাঞ্চলের বর্জ্য উৎপাদনের একটি চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালের দেশের শহরগুলোতে প্রতিদিন ৬ হাজার ৪৯৩ টন বর্জ্য উৎপাদন হতো। ২০০৫ সালে এসে সেটি বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৩০০ টনে। আবার আগামী ২০২৫ সালে সেটি বেড়ে গিয়ে দাঁড়াতে পারে ৪৭ হাজার ৫৪ টনে (সম্ভাব্য)। এ অবস্থায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষ করে অর্গানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, প্লাস্টিক, সিলভারসহ এ ধরনের বর্জ্যগুলো এখন কিছুটা রিসাইক্লিনিং করে পুনরায় ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু পুরো বর্জ্যরে মধ্যে ৭৮ শতাংশ অর্গানিক বর্জ্যরে কোনো ব্যবস্থাপনা হচ্ছে না। ঢাকা সিটি করপোরশেনের জনবল কম থাকায় তারা বর্জ্য সংগ্রহ করে জমিতে ফেলছে। ফলে সেখানে বর্জ্য পচে গিয়ে মাটি এবং ভূ-অভ্যন্তরীণ পানির উৎস এবং বাতাস দূষিত করছে।

প্রতিবেদনে এসব জন্য ছোট আকারে মানুষ তাদের বাড়ির ছাদের ওপর মাত্র দুটি গাড়ির টায়ার ব্যবহার করে বায়োগ্যাস উৎপাদন করতে পারে। এতে পরিবারের রান্নার জ্বালানি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এখন থেকে যেসব বর্জ্য উৎপাদন হবে তা জৈবসার হিসেবে গাছে ব্যবহার করা যাবে। এটি বড় আকারে সরকারিভাবে যদি উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলে অর্গানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বায়োগ্যাস উৎপাদন করা হলে মিথেন গ্যাস উৎপাদন বন্ধ হবে। পাশাপাশি কৃষকরা জমিতে জৈবসার হিসেবে উচ্ছিষ্টগুলো ব্যবহার করতে পারবে।

জমিতে জৈবসার ব্যবহার করা হলে তা রাসায়নিক সারের ব্যবহার ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ কম ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ৩০ শতাংশ, বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

ঢাকাটাইমস/১৩নভেম্বর/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত