খুলনা-৬

প্রার্থী হতে চান মশিউর

শেখ আবু হাসান ও সোহাগ দেওয়ান, খুলনা
 | প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:০২

সুন্দরবনের কোলঘেঁষা কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে খুলনা-৬ আসনে আওয়ামী লীগে এবার আছেন ডাকসাইটে প্রার্থী। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান এখানে নৌকার মাঝি হতে চান।

খুলনার এই আসনটিতে বিএনপির শরিক জামায়াতে ইসলামীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট আছে। একবার একক শক্তিতে এবং একবার বিএনপির সমর্থনে দলটি জিতে সেখানে। খুলনা মহানগর শাখার আমির আবুল কালাম আজাদকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছে দলটি। তিনি কিছুদিন আগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।  

১৯৯৯ সালে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত জোটবদ্ধ হওয়ার পর দুটি নির্বাচনে এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হননি। তবে এবার বিএনপি নিজেদের প্রার্থী চাইছে।

খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এস এম রফিকুল ইসলাম, কয়রা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোমরেজুল ইসলাম ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মন্টু প্রার্থী হতে আগ্রহী।

জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, তৃণমূলের নেতা কর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম। ভবিষ্যতেও থাকব। খুলনা-৬ আসনে নির্বাচন করার জন্য সব প্রস্তুতি রয়েছে আমার। দলের কাছে আমি এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইব।

আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ মো. নূরুল হক দুইবারের সংসদ সদস্য। তিনি ১৯৯৬ এবং ২০১৪ সালে জিতেছেন। তবে এবার একটি ঘটনায় তিনি বিতর্কিত হয়েছেন এলাকায়।

গতবছর পাইকগাছায় বিরোধপূর্ণ ৫০ শতক জমির চারপাশে উঁচু দেয়াল তুলে দেন কয়েকজন, যারা এই সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ। তাতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সেখানে বসবাসকারী আবদুল আজিজ গোলদারের পরিবার। তারা দীর্ঘদিন ধরে মই লাগিয়ে দেয়ালের ওপর দিয়ে এবং গর্ত খুঁড়ে দেওয়ালের নিচ দিয়ে চলাচল করতে থাকেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাতেও খবর হয়ে আসে ঘটনানি,  তৈরি হয় তোলপাড়। দেয়াল ভেঙে ফেলে উপজেলা প্রশাসন। দলীয় সভাতেও নুরুল হককে ভৎর্সনা করা হয়।

এবার প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান জোরেশোরে তৎপরতা চালাচ্ছেন এলাকায়। গত এক বছর ধরেই এলাকায় বিলবোর্ড, পোস্টার, ব্যানার ও প্রচারণা চলছে জোরেশোরে। আর শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ বিবেচনায় দলের একটি বড় অংশই তার সঙ্গে।

তবে ক্ষমতাসীন দলে আগ্রহী নেতা আরও আছেন। এরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাবু, সাবেক সংসদ সদস্য সোহরাব আলী সানা, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য প্রেম কুমার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব রশীদুজ্জামান মোড়ল।
 
আকতারুজ্জামান বাবু ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দীর্ঘ বছর ধরে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেয়া হলে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে সে বিষয়ে আমি আশাবাদী।’
 
সোহরাব আলী সানা বলেন, ‘আমি আশাবাদী মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে। বাকিটা নেত্রীর হাতে। দল আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে মনে করছি।’

১৯৭৩ সালে আসন থেকে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা স ম বাবর আলী। ১৯৭৯ সালে জেতেন বিএনপির শেখ রাজ্জাক আলী। ১৯৮৬ সালে জয় পান জাতীয় পার্টির মোমিন উদ্দিন নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত নেতা শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন আওয়ামী লীগের শেখ মো. নুরুল হক, ২০০১ সালের চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস আবার জিতেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাব আলী সানা নির্বাচিত হন। কিন্তু পরেরবার তার হাতে মনোনয়ন উঠেনি। ২০১৪ সালে এই আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের শেখ মো. নূরুল হক।

এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খুলনা জেলা সভাপতি গাজী নুর আহমদকে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি বা অন্য দলের কারও নাম শোনা যাচ্ছে না।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আসনটিতে পাইকগাছা উপজেলায় ভোটার দুই লাখ ১৮ হাজার ৫৬৬ জন। আর কয়রা উপজেলার ভোটার এক লাখ ৫৬ হাজার ৯০৪ জন।

ঢাকা টাইমস/১৪ নভেম্বর/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত