তিন যুগ ধরে অন্ধকারে সরকারি বীজাগার!

বিনয় কর্মকার, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
 | প্রকাশিত : ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ২০:০৭

ভাঙাচোড়া কয়েকটি ঘরের একতলা ভবনের চারপাশজুড়ে ঘন জঙ্গল, ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। দেখলে মনে হয়, ভূতুড়ে বাড়ি। আসলে সেটি একটি সিড হাউস বা বীজাগার। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে সংস্কার বা ব্যবহার না থাকায় পরিত্যক্ত ভবনটির এই জীর্ণদশা।
এটি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন বীজাগারের বর্তমান চিত্র। দেশের স্বাধীনতার আগে ও পরে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে দুর্যোগ মৌসুমে কৃষিবীজ সংকট মোকাবেলায় উন্নতমানের বীজ সংরক্ষণ ও কৃষককে কৃষিতথ্য সরবরাহের লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছিল এ ধরনের ৯টি বীজাগার। একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় ও আবাসনসহ বীজাগারগুলো ছিল এক একটি কেন্দ্রও।
কলাগাছিয়া ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- গলাচিপা, আমখোলা, গোলখালী, ডাকুয়া, চিকনিকান্দি, পানপট্টি ও চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বীজাগার এবং উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ গোডাউন।

ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ ও কৃষি পরিষেবা সুবিধা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে গড়া বীজকেন্দ্রগুলো নানা সংকটে এখন অকার্যকর। স্থাপনের পর প্রথম কয়েক বছর চালু থাকলেও ৩৬ বছর ধরে পরিত্যক্ত সেগুলো। কার্যক্রম বন্ধ হয়ে থাকা এবং অবকাঠামোর বেহালদশায় বীজাগারগুলো কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কোনো কাজেই লাগছে না। কৃষি পরিষেবার জনগুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমটির এই হালে হতাশ কৃষকরাও।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আপৎকালের জন্য বীজ সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলো তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে অচল। সংস্কার না করায় অতি পুরনো পাকা স্থাপনাগুলো দিন দিন বেদখল হয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনোটি ধ্বংস¯ূÍপে পরিণত হয়েছে, কোনো কোনোটি ধসে পড়ার উপক্রম। সেখানে বীজ সংরক্ষণ, কৃষি প্রযুক্তি সুরক্ষা ও কৃষি বিভাগের কোনো দাপ্তরিক কার্যক্রমই চলছে না।

কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সফল কৃষক রহিম মীরা বলেন, এক সময় ইউনিয়ন বীজাগার থেকে আপৎকালে মানসম্মত বীজ সংগ্রহ ও কৃষি বিষয়ে নানা পরামর্শ সুবিধা পেতেন তারা। সেগুলো ফের চালু করলে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ্ ও কলাগাছিয়া কৃষিব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান বলেন, সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে বীজ সংরক্ষণ ও কৃষি তথ্যসেবার পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের আবাসনে সিড হাউসগুলো গড়ে তোলা হয়েছিল। কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে গড়ে তোলা এসব অবকাঠামোর সংস্কার ও কার্যক্রম না থাকায় কয়েক যুগ ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে এখন পরিত্যক্ত। জনগুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোসহ কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেয়ার পর বীজাগারগুলো কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশমালা পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত