সাতক্ষীরা- ৪: আ.লীগের মনোনয়নে এগিয়ে জনপ্রিয় জগলুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৩৯ | প্রকাশিত : ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৫১

শ্যামনগর ও কালীগঞ্জের একাংশ নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৪। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার। আগামীতেও তিনি এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইতিমধ্যে দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছেন। তবে মহাজোটে নির্বাচন হলে এই আসনে কে মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশায় রয়েছে এলাকার জনগণ। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ জগলুলকেই এই আসনে চায়। তারা কোনোভাবে এখানে শরিকদের ছাড় দিতে রাজি নয়।

এ ছাড়া সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন জরিপে জগলুল হয়দারকেই এই আসনে এগিয়ে রাখা হয়েছে। এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে তারপক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

এক যুগেরও বেশি সময় পর ২০১৪ সালে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন জগলুল হায়দার। এক সময়ে শক্ত অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামীর অবস্থা অনেকটা নড়বড়ে করে দেন তিনি। জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কর্মসূচি ও তৎপরতায় স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন জগলুল।

আগামী নির্বাচনে আসনটি মহাজোটের শরিকদের না দিতে একাট্টা স্থানীয় আওয়ামী লীগ। শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের ২০টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একত্রে দলীয় সভাপতির কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, দলীয় স্বার্থে এই আসনটি শরিকদের ছাড় দেবেন না বঙ্গবন্ধুকন্যা।

এই আসনটি জাতীয় পার্টি চাচ্ছে। তবে এর কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা জানান, ২০০১ সালে এই আসনে জাতীয় পার্টি চরমোনাই পীরের দল ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সঙ্গে জোট করে মাত্র ১২ হাজার ৮৪৯ ভোট পায়। সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম রেজার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তিনি ভোট পান ৮.৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পান ৫৬ হাজার ৫৫৪ ভোট। যা প্রাপ্ত ভোটের ৩৬.৬৭ শতাংশ। সে নির্বাচনে জামায়াত ইসলামী পায় ৮৪ হাজার ৬১৩ ভোট অর্থাৎ ৫৪.৮৬ শতাংশ। তবে বিকল্পধারা গঠনের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে কুলা প্রতীকের প্রার্থী হয়ে গোলাম রেজা ভোট পান ৪৯৯টি। যা প্রাপ্ত ভোটের ০.১৫ শতাংশ। তবে জাতীয় পার্টির সেই সামান্য ভোটও (০.১৫%) আর নেই।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী লীগ এখানে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। জগলুল হায়দারকে পুনরায় মনোনয়ন দেয়া হলে নৌকা প্রতীককে আবারও বিজয়ী করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

তারা জানান, দলের ভোটব্যাংকের পাশাপাশি, ব্যক্তিগত ইমেজ, পারিবারিক ভোট ব্যাংক ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে অনায়াসেই জগলুল হায়দার নৌকাকে বিজয়ী করে আনতে পারবেন।

জগলুল হায়দার ঢাকা টাইমসকে বলেন,  ২০১২ ও ২০১৩ সালে জামায়াতের সহিংসতার বিরুদ্ধে হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে আমি ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তুলি। গত পাঁচ বছর জামায়াত-শিবির এখানে মাঠে নামতে পারেনি। এলাকার জনগণ জামায়াত ইসলামী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এ কারণে জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থা নড়বড়ে। স্বাধীনতা পরবর্তী অন্য কোনো সময়ে এত অসহায় অবস্থা জামায়াত ইসলামীর দেখা যায়নি। সাংসদ জানান, তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি এখানে নৌকাকে আবার বিজয়ী করে আনতে পারবেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দলীয় সভাপতি তাকে বাদ দিয়ে কোনো শরিককে আসনটি ছাড় দেবেন না।

গত পাঁচ বছরে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সারাদেশে আলোচিত হন সাংসদ জগলুল। তিনি দিনমজুরদের সঙ্গে কাজে যোগ দিয়ে, তাদের সঙ্গে বসে খাবার খেয়ে, গরিব-দুস্থদের বাড়িতে বাজার নিয়ে হাজির হয়ে; মৌসুমি ফল খাইয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি এসব কর্মকা-ের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। প্রতিটি এলাকার সাংসদ যেন তার মতো জনদরদি হন সেই প্রত্যাশা করেন অনেকেই। এলাকাবাসী তার মতো জনদরদি প্রতিনিধিকে আবারও সংসদে চান।

জানা যায়, জাতীয় পার্টির তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম রেজা পার্টি প্রধান হুসাইন মুহাম্মাদ এরশাদের কাছের মানুষ হওয়ায় ২০০৮ সালের নির্বাচনে এক প্রকার জোর জবদস্তি করে আসনটি আওয়ামী লীগের কাছ থেকে নিয়ে তাকে প্রার্থী করা হয়। সে নির্বাচনে মাত্র ০.১৫ শতাংশ ভোট ব্যাংক নিয়ে নৌকার ঘাড়ে চেপে গোলাম রেজা জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা দেয়ায় দীর্ঘ পাঁচ বছর নিরব থাকার পর মহাজোট হতে মনোনয়ন লাভের আশায় বিশ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (জাফর) হতে বিকল্পধারায় যোগ দেন গোলাম রেজা।  ২০০৮ সালে  বিকল্পধারার প্রার্থী ছিলেন তরুণ কর্মকার। তুলা প্রতীক নিয়ে তিনি ভোট পেয়েছেন ৪৯৯টি।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য আবারো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির বহিস্কৃত  নেতা গোলাম রেজা।  কিন্তু হুসাইন মুহাম্মাদ এরশাদ তাকে কোনভাবেই ছাড় দিতে নারাজ। জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্রে জানা যায়, মূলত এরশাদের আপত্তির কারণে ৮ নভেম্বর শ্যামনগরে গোলাম রেজার ডাকা জনসভায় যোগ দেয়ার জন্য বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিমানবন্দরে গেলেও তার হেলিকপ্টার উড়তে দেয়া হয়নি।

এদিকে গোলাম রেজা বিকল্পধারায় যোগ দিয়ে মহাজোটের প্রার্থী হতে পারেন এমন সংবাদে তাকে ঠেকাতে এ আসনে এরশাদ নিজেই নির্বাচন করার ঘোষনা দেন। তবে জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্রে জানা যায়, এ আসনে এরশাদের কোন ভোট ব্যাংক না থাকায় তিনি নিজে প্রার্থী হতে আগ্রহী নন। শুধুমাত্র গোলাম রেজাকে ঠেকাতে তিনি এ কৌশল নিয়েছেন। রেজা যেন কোন ভাবেই মহাজোটের শরিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে না পারেন তা নিশ্চিত হতে চান তিনি। কারণ দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত পিএস এবং সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্যগোলাম রেজার বিরুদ্ধে এরশাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বেহাত করা এবং প্রতারণার আশ্রয় নেয়ার অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সূত্র আরো জানায়, এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচন করলে তাদের কোন আপত্তি নেই। তবে রেজাকে কোন ভাবেই মহাজোটের প্রার্থী করা যাবে না এটাই এরশাদের সাফ কথা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারনী পর্যায়ের একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিকল্পধারা মহাজোটে আসলেও এ আসনে কোন ভাবেই মাহাজোট থেকে রেজাকে প্রার্থী করবে না আওয়ামী লীগ। কারণ তার নিজের কোন ভোট ব্যাংক নেই,পারিবারিক ঐতিহ্যও নেই। দলের কোন অস্তিত্বও এ আসনে খুঁজে পাওয়া যায় না। এছাড়া জাপা প্রধান এরশাদের ব্যক্তিগত বিষয় হওয়ায় দুর্দিনের এই মিত্রকে তারা গুরুত্ব সহকারে দেখেন। যে কারণে কোনভাবেই রেজা মহাজোটের প্রার্থী হতে পারবেন না।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, গোলাম রেজা এমপি থাকাকালীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অংগ সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে কোন্দল ও বিভেদ সৃষ্টি করা হয়। যে কারণে নেতা কর্মীরা তার প্রতি চরমভাবে ক্ষুদ্ধ।

এছাড়া ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীকে গ্রেফতার করা হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে জগলুল হায়দার শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। যে কারণে সে সময়ের সরকারের রোষানলে পড়েন তিনি। এছাড়া ২০০২-২০০৭ সাল পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ কারণেও তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়, নির্যাতন করা হয়। ২০০১-২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি বাড়ীতে ঘুমাতে পারেননি।

(ঢাকাটাইমস/১৫নভেম্বর/এমএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত