শঙ্কায় রাবির তিন শতাধিক বিসিএস পরীক্ষার্থী

রাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪৪

বাংলাদেশে কর্ম কমিশন (বিসিএস)-এর ৪০তম প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফরম প্রতারণা করে শিক্ষার্থীদের ভুলভাবে পূরণ করে দেয়ায় পরীক্ষায় বসতে পারা নিয়ে শঙ্কায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী।

যদিও অভিযুক্ত দোকানিদের পুলিশে সোপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে সরকারি কর্ম কমিশন প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীদের জন্য আদৌ কোন সুযোগ দেবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসার পর তাদের আটক করে প্রক্টর অফিসে দুপুর পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে দুপুর দুইটার দিকে তাদের মতিহার থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোপর্দকৃতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন মার্কেটের স্পন্দন কম্পিউটারের মালিক মোস্তাক আহমেদ মামুন ও ভাই ভাই কম্পিউটারের আরিফ হোসেন ও রফিকুল ইসলাম।

অভিযুক্তদের পুলিশে সোপর্দ করা হলেও বিসিএসের এবারের পরীক্ষায় আদৌ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বসতে পারবেন কিনা এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে জামাল উদ্দিন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ফরম পূরণের সময় দেয়া আছে। পিএসসি নিজেদের মতো করে চলে। তারা যদি আমাদেরকে সুযোগ না দেয় বা এর মধ্যে যদি বিষয়টি ঠিক করা না যায়, তাহলে পরীক্ষায় বসা অনিশ্চিত হয়ে যাবে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের আশঙ্কার কোন কারণ নেই বলে জানিয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা লায়লা আরজুমান বানু বলেন, ‘পিএসসির সাথে আমাদের কথা হয়েছে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা পাঠানোর কথা জানিয়েছে তারা। পাঠানোর পর পিএসসি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য টাকা প্রদানের ৭২ ঘণ্টা সময় বাড়ানো হবে।’

এদিকে ভুক্তভোগী হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মোমিন হোসেন বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর লুৎফর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করে টাকা নিয়েছে। দোকানিদেরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি আমরা। এর আগে তাদের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যেটি শিক্ষার্থীদেরকে ফেরত দেয়া হবে। পিএসসির সাথে কথা হয়েছে শিক্ষার্থীদের কোন সমস্যা হবে না বলে আশাবাদী আমরা।’

সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবন্ধী না হওয়া স্বত্ত্বেও প্রায় তিন শতাধিক প্রার্থীকে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য ইচ্ছাকৃত প্রতিবন্ধী কোটায় ফরম পূরণ করে দিয়েছে অভিযুক্ত দোকানিরা। যদিও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোটা ব্যতিত কর্মকমিশন নির্ধারিত ফি ৭০০ টাকা নিয়েছে দোকানি। আর প্রতিবন্ধী কোটায় ১০০ টাকায় ফরম পূরণ করায় দোকানির পকেটে গেছে বাকি ৬০০ টাকা। সকালে দোকানির উদ্দেশ্যমূলক এমন কাজের বিষয়টি চক্ষুগোচর হলে সাংবাদিকসহ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেন। এর প্রেক্ষিতে তাদের আটক করে প্রক্টর দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে পুলিশে দেয়া হয় তাদের।

(ঢাকাটাইমস/১৫নভেম্বর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত