মাগুরা-১

আ.লীগে সম্ভাবনা উজ্জ্বল শিখরের

মোখলেছুর রহমান, মাগুরা
 | প্রকাশিত : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:৫১

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের যে এলাকা থেকে ভোটে দাঁড়ানোর কথা উঠেছিল, সেখানে ক্ষমতাসীন দল থেকে ১৩ জন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর।

শিখর ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আছাদুজ্জামানের ছেলে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর খুবই ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শিখর নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ভোট ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসব তৎপরতাও বাড়িয়েছেন। জেলা, উপজেলা, পৌরসভা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও তার সঙ্গে আছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম ছাড়ার পর পর এই আসন থেকে সাকিব আল হাসানের ফরম তোলার কথা ছড়ায়। আর এমনটি হলে তিনিই হতেন প্রার্থী। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে আপাতত খেলা চালিয়ে যেতে বলেছেন। এতে শিখরের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিখরের প্রার্থিতা প্রসঙ্গে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত সাইফুজ্জামান শিখর ভাইকে মাগুরা-১ আসনের যোগ্য প্রার্থী মনে করছি। তার বাবা আছাদুজ্জামান ছিলেন আমার রাজনীতির দীক্ষাগুরু। দেশ ও জেলার মানুষের জন্যে তিনি তার জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। সাইফুজ্জামান শিখরের মধ্যে সেই আত্মত্যাগ ও কর্মিবান্ধব মানসিকতা খুব স্পষ্ট। দলের ভেতরে বাইরে তার সর্বজনবিদিত একটি গ্রহণযোগ্যতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেটি নির্বাচনে সবচেয়ে প্রধানতম শক্তি হিসাবে কাজ করে। একারণে আমি তাকে মাগুরা-১ আসনে প্রার্থী হিসাবে পেতে চাই।’

‘তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব কারণে তাকে নিয়ে সর্বস্তরে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়েছে।’

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক শেখ মেহেদী হাসান সালাউদ্দিন বলেন, ‘মাগুরার মেডিকেল কলেজ, রেললাইন, অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম, ২৫০ শয্যা হাসপাতাল, বন্ধ হয়ে যাওয়া টেক্সটাইল মিল চালু, নবগঙ্গা ব্রীজ, মধুমতি নদীর ওপর নির্মিত শেখ হাসিনা সেতুসহ জেলার অন্তত অর্ধশত উন্নয়ন কার্র্যক্রম বাস্তবায়নে তার অবদান রয়েছে। জেলার খেলাধূলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করায় দলমত নির্বিশেষে তার প্রতি মানুষের ব্যাপক আস্থা তৈরি হয়েছে। এসব কারণে তাকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে পেতে চাই।’

মনোনয়ন পেয়ে জয়ী হয়ে জেলার উন্নয়ন আরো বেগবান করার করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী শিখর। বলেন, ‘জেলাবাসী চাইলে নির্বাচিত হয়ে আমার বাবার মতো দেশ ও মানুষের জন্য সব ধরনের আত্মত্যাগে আমি প্রস্তুত। সে লক্ষ্যেই ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত আমি সব সময় মাগুরার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। তাদের সুখ দুঃখের অংশীদার হয়েছি। সব কিছুর ঊর্ধ্বে থেকে আমি আজীবন মানুষের পাশে থাকতে চাই।’

মাগুরা সদর ও শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে নৌকা চেয়ে অন্য যারা ফরম জমা দিয়েছেন, তারা হলেন: বর্তমান সংসদ সদস্য এটি এম আবদুল ওয়াহহাব, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক পঙ্কজ সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তানজেল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুন্ডু, জেলা আওয়ামী লীগের দুই সহ-সভাপতি আবু নাসির বাবলু, সৈয়দ শরিফুল ইসলাম, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক রানা আমির ওসমান, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সিরাজুল ইসলাম, শ্রীপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কাজী রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমত আরা হ্যাপি এবং স্থানীয় নেতা এসএম শফিকুল ইসলাম।

১৯৯৬ সাল থেকেই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে। এখান থেকে পরপর চার বার নির্বাচিত হন চিকিৎসক সিরাজুল আকবর। ২০১৫ সালের ৯ মার্চ তার মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে জিতেন এটিএম আব্দুল ওয়াহ্হাব। তবে উপনির্বাচনের আগে জেলার রাজনীতিতে তার অংশগ্রহণ ছিল না।

ওয়াহ্হাব ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এমপি নির্বাচিত হবার পর আমি এলাকার উন্নয়নের নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত