মানিকগঞ্জ-২

মমতাজের আসনে প্রার্থিতা নিয়ে নানা সমীকরণ

মঞ্জুর রহমান, মানিকগঞ্জ
 | প্রকাশিত : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ১০:৪৪

হরিরামপুর ও সিংগাইর উপজেলা এবং মানিকগঞ্জ সদরের তিন ইউনিয়ন (হাটিপাড়া, পুটাইল ও ভাড়ারিয়া) নিয়ে গঠিত আসনটিতে দুই প্রধান দলেই প্রার্থিতার একাধিক দাবিদার রয়েছেন। আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার আলোচনায় থাকা জাতীয় পার্টি এবং যুক্তফ্রন্টও আসনটিতে ছাড় চাইছে। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে এখানে নৌকার প্রার্থী না দিয়ে জাপাকে সমর্থন দিয়েছিল ক্ষমতাসীন দল। যদিও পরের নির্বাচনে বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে প্রার্থী করে তারা। মমতাজের বিপরীতে ভোটের লড়াই হয়নি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি। তবে এবার বিএনপি আসার ঘোষণা দেয়ায় পাল্টে গেছে পরিস্থিতি।

মমতাজের বিপরীতে আ.লীগে একাধিক প্রার্থী

মমতাজ আবার মনোনয়ন পাওয়ার আশায় মাঠে নেমেছেন। কিন্তু দলের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুলও নৌকা পাওয়ার দাবিদার। তিনি একবার এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে হেরেছিলেন।

বিজিএমইর সাবেক পরিচালক ঢাকা মহানগর (উত্তর) আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য গোলাম মনির হোসেন, হাটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যবসায়ী মনির হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মহিউদ্দীন ও সাবেক সংসদ সদস্য সামসুদ্দিন আহম্মেদও মনোনয়ন চান।

রিতা-শান্ত দ্বন্দ্বে বিএনপিতে বিভক্তি

জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা ও সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম খান শান্তর মধ্যে গত কয়েক বছর ধরেই চলছে বিরোধ। এক নেতা অন্যকে ঘায়েল করতে নানা চেষ্টা করে গেছেন। ভোটকে সামনে রেখেও চলছে এই বিভেদ। এর প্রভাবে তৃণমূলের কর্মীরাও দুই ভাগে বিভক্ত।

স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত মানিকগঞ্জে মোট আসন সংখ্যা ছিল চারটি। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এখানকার আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করে মানিকগঞ্জ-৪ নম্বর আসনটি ভেঙে মানিকগঞ্জ-২ আসনে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এ কারণে আসন সংখ্যা কমে হয়ে যায় তিনটি।

সে সময় মানিকগঞ্জ-২ আসনে হরিরামপুর উপজেলার সঙ্গে মানিকগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী এলাকা সিংগাইর উপজেলা ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে এই দুই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন প্রয়াত বিএনপি নেতা হারুনার রশিদ খান মুন্নু ও শামসুল ইসলাম খান নয়া মিয়া। নয়া মিয়ার মৃত্যুর পর তার এ আসনে উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তার ছেলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম খান শান্ত।

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের নির্বাচনে এই আসনে প্রার্থী হন জেলা বিএপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা। তাকে হারিয়ে জেতেন পার্টির নেতা এস এম আব্দুল মান্নান।

রিতা ও শান্ত দুই জনই এখানে মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়া হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল হুদা চৌধুরী শাতিল ও সিঙ্গাইর উপজেলা চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান রুমানও চান ধানের শীষ।

আ.লীগের ছাড় পাওয়ার দাবিদার দুই জন

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়ে বিজয়ী জাতীয় পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য এস এম আব্দুল মান্নান এবারও এই আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন।

আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনা চালিয়ে যাওয়া যুক্তফ্রন্টের নেতা গোলাম সারোয়ার মিলন এই আসন থেকে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থন চাইছেন। তিনি ছাত্রদলের প্রথম নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। তবে এরশাদ সরকারের আমলে যোগ দেন জাতীয় পার্টিতে। নির্বাচিত হন সংসদ সদস্য। সম্প্রতি তিনি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর হাতে ফুল দিয়ে যোগ দিয়েছেন যুক্তফ্রন্টের প্রধান দল বিকল্পধারায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত