জলপ্রপাতের খাদে চীনের ১৭ তলা হোটেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৫৩ | প্রকাশিত : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২১:২৭

আবার তাক লাগিয়ে দিল চীন। একটি অব্যবহৃত বিশালাকার গর্তেই মধ্যে নির্মিত হয়েছে বিলাসবহুল বহুতল হোটেল। বৃহস্পতিবার এই গভীর হোটেলটির উদ্বোধন হয়েছে। ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল সাংহাই ওয়ান্ডারল্যান্ড’ নামে হোটেলটির রয়েছে ৩৩৬টি কক্ষ। ৮৮ মিটার (২৯০ ফুট) গভীর এবং থিম পার্ক সমন্বিত এই হোটেল নির্মাণে খরচ হয়েছে ২৮৮ মিলিয়ন ডলার।

এনডিটিভি জানায়, চীনে সাহসী স্থাপত্য নকশাগুলির ক্রমবর্ধমান সংখ্যাগুলির মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে এই হোটেলটি। জলপ্রপাতের খাদের মধ্যে এই হোটেলের একটি দিক গাঁথা রয়েছে ওই খাদের দেয়ালে, আর অপর দিকটি জলপ্রপাতের দিকে উন্মুক্ত। ১৭ তলা এই হোটেল সাংহাই থেকে সড়কপথে প্রায় এক ঘন্টায় পৌঁছানো যাবে। এই হোটেলে থাকতে হলে খরচা শুরু হবে ৪৯০ ডলার থেকে।

জলস্তরের নিচে এই হোটেলের একটি স্যুইট অবস্থিত। তবে খাদের গভীর সরাসরি দেখতে পাওয়ার আশা করবেন না। কারণ বড় জানালাগুলি বিশালাকার ফিশ ট্যাঙ্ক দিয়ে ঢাকা।

শিমাও প্রপার্টি রিয়েল এস্টেটের মুখ্য প্রকৌশলী চেন জিয়াওজিয়াং বলেন, ‘কেন আমরা বলি যে কোয়ারি হোটেল প্রজেক্টের তুলনায় পৃথিবীতে আর কিছুই নেই? এটি একটি এমন প্রকল্প যা পুরোপুরি নতুন, এমন একটি প্রকল্প যার আমরা আগে কখনও সম্মুখীন হইনি। সকল সমস্যার সমাধান করার জন্য আমাদের কোনও রেফারেন্স কেস বা অভিজ্ঞতা নেই। কারও কাছ থেকে কিছুই শিখতে পারিনি।’

স্বাভাবিকভাবেই কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৩ সালে নির্মাণ শুরু হওয়ার আগে, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নিকটবর্তী নদীর পানি খাদের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল, যার ফলে খাদ অর্ধেক পানিতে ভর্তি হয়ে গিয়েছিল। চেন বলেন, ‘যদি নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে এমন কিছু ঘটত তাহলে বিধ্বংসী ব্যাপার হতো।’

ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করার জন্য খাদের প্রান্তের চারদিকে একটি বাঁধ নির্মাণ করেছেন নির্মাণকারীরা। পানির স্তর নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার জন্য একটি পাম্প হাউসও ব্যবহার করা হয়।

জলপ্রপাত এই হোটেলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্যগুলির একটি। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী অতিথিরা এখানে রক ক্লাইম্বিংও করতে পারেন। ‘এটি একটি সম্পূর্ণ অনন্য ধারণা। ভুলে যাওয়া, অব্যবহৃত কোনও সাইটে নতুন কী এমন করা যায় এবং একে নতুন জীবন দিতে কীভাবে কী করা যায় তা ঠিক করার ধারণাটাই অনবদ্য। আমি কখনোই আমার বিশ্বাস হারিয়ে ফেলিনি যে একদিন এর কাজ সম্পন্ন হবে। আমি সম্পূর্ণরূপে উত্তেজিত এবং বিস্মিত!’- বলেন ব্রিটিশ স্থপতি মার্টিন জচম্যান। ১২ বছর আগে যখন এই প্রকল্প শুরু হয় সেই থেকেই কাজের সঙ্গে যুক্ত তিনি।

(ঢাকাটাইমস/১৬নভেম্বর/এসআই)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত