আয়ারল্যান্ডে অন্তর্বাস আন্দোলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪৬

আয়ারল্যান্ডে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়ার এক সপ্তাহ পর এ নিয়ে বিক্ষোভ চলছে। বিচার চলাকালে আদালতে অভিযুক্ত-পক্ষের আইনজীবী বিচারকদের বলেন, ‘ধর্ষিত কিশোরী নিম্নাঙ্গে নজরকাড়া অন্তর্বাস পরেছিল। এতেই বেশ বোঝা যাচ্ছে মেয়েটির যৌন সম্পর্কে সম্মতি ছিল।’ আপত্তিকর এই মন্তব্য নিয়ে ঝড় উঠেছে আয়ারল্যান্ডে।

দেশের আদালতে ধর্ষণে অভিযুক্ত সংশ্লিষ্ট ২৭ বছরের যুবকটি ছাড় পেয়ে গেছে। তাতে আরও খেপে গিয়েছে আয়ারল্যান্ড। হাজার হাজার নারী টুইটারে নিজেদের অন্তর্বাসের ছবি দিয়ে হ্যাশট্যাগ (#) দিসইসনটকনসেন্ট (এটা সম্মতি নয়) লিখে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

ঘটনাটি ৫ নভেম্বরের। কর্ক-এর সেন্ট্রাল ক্রিমিনাল কোর্টে খালাস করে দেওয়া হয় ওই যুবককে। রাস্তায় ১৭ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। কিন্তু তার হয়ে কোর্টে দাঁড়ানো নারী আইনজীবী এলিজ়াবেথ ও’কনেল বিচারকমণ্ডলীর কাছে বলেছিলেন, ‘অভিযুক্তের প্রতি মেয়েটি আকৃষ্ট হয়েছিল— সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে এই সম্ভাবনা কি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায়? মেয়েটি কী পরেছিল সেটাও দেখতে হবে। নকশা কাটা থং (এক ধরনের অন্তর্বাস) ছিল তার দেহে।’

আনন্দবাজার জানায়, আট পুরুষ এবং চার নারী বিচারকমণ্ডলী ৯০ মিনিটের শুনানি শেষে সর্বসম্মতভাবে রায় দিয়ে ওই যুবককে মুক্তি দেন। কিন্তু ও’কনেলের মন্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান নারী অধিকার রক্ষায় যুক্ত কর্মীরা। ধর্ষণের বিচার যেভাবে হচ্ছে, তা পাল্টানোর দাবি ওঠে। গত মঙ্গলবার এই প্রতিবাদ ছুঁয়ে যায় আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্টকেও।

পশ্চিম ডাবলিন থেকে নির্বাচিত নিম্ন কক্ষের এমপি রুথ কপিঙ্গার বিতর্কের সময়ে পার্লামেন্টে থং নিয়ে আসেন। পরে বলেন, ‘এখানে এই অন্তর্বাস দেখানো লজ্জাজনক মনে হলেও আমি বলতে চাই, একবার ভেবে দেখুন, কোর্টে সেটা প্রমাণ হিসেবে হাজির করার পরে ধর্ষিতার মনের অবস্থা কী হয়েছিল।’ বুধবার ডাবলিনের পথে নেমে প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিয়েছেন রুথ। তাদের স্লোগান ছিল, ‘কোর্টে নির্যাতিতাকে দোষারোপ করা বন্ধ হোক।’ কর্ক-এর সেই আদালতের সিঁড়িতে অন্তর্বাস বিছিয়ে সেখানে মিছিল করেন দুশো জন।

বিক্ষোভের মুখে আয়ারল্যান্ডের বিচার ও সাম্যের মন্ত্রী চার্লি ফ্ল্যানাগান জানিয়েছেন, যেভাবে ধর্ষণের মামলার বিচার হয়, তা নিয়ে আইন পাল্টাতে তার কোনও আপত্তি নেই। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ‘রিভিউ কমিটি’ গড়ে তার মতামত নিতে হবে।

(ঢাকাটাইমস/১৬নভেম্বর/এসআই)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত