‘মান্নার আসনে’ জামায়াতের ‘হানা’

প্রতীক ওমর, বগুড়া থেকে
 | প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:৪৬

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়া আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়ার যে আসন থেকে নির্বাচন করতে চান, সেখানে জামায়াতে ইসলামীও প্রার্থী দিতে চাইছে। বগুড়ায় মোট দুটি আসনে প্রার্থী দিতে চায় স্বাধীনতাবিরোধী দলটি, তার মধ্যে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনটিও আছে।

এই আসন থেকে মান্না ভোটে দাঁড়িয়েছেন মোট তিনবার। এর মধ্যে দুবার নৌকা প্রতীক নিয়ে এবং একবার অন্য একটি দলের হয়েছে। কখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেননি। আর যে বছর নৌকা ছাড়া দাঁড়িয়েছেন, সে বছর হারিয়েছেন জামানত।

আসনটিতে বিএনপি ও জামায়াত দুই দলেই বেশ ভালো ভোট আছে। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এখানে বিএনপিকে হারিয়েও দেয় জামায়াত। ১৯৯৬ সালেও তারা দ্বিতীয় হয়, ওই বছর তাদের ভোট আর বাড়েনি, যদিও বিএনপির ভোট বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়। এরপর ২০০১, ২০০৮ সালেও জয় পায় বিএনপি। তবে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসে আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালে আসনটিতে জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ জেতেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

এই আসনে এবার মান্নার ধানের শীষের প্রতীক পাওয়া অনেকটা নিশ্চিত। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সংস্কারপন্থী তকমা পাওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগে অবস্থান হারান এবং ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পাননি। এরপর আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে গঠন করেন নাগরিক ঐক্য আর ১৩ অক্টোবর বিএনপির সঙ্গে জোটেও যান মান্না।

এই জোট গঠনের পর থেকেই নাগরিক ঐক্যের নেতার বগুড়া-২ আসনে নির্বাচন করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে ওঠে। অবশ্য তিনি ওই আসনের পাশাপাশি ঢাকাতেও একটি আসনে মনোনয়নের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে বিএনপির আরেক জোট ২০ দলের শরিক জামায়াতের শাহাদাতুজ্জামান শিবগঞ্জ আসনে প্রার্থী হতে এরই মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবিরের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। তবে এখনো জমা পড়েনি কাগজ। এ সময় জামায়াতের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মান্নার আসনে জামায়াতের মনোনয়ন ফরম তোলায় শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। আবার মান্নাকে ছেড়ে দিলে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও কীভাবে নেয়, সেটি নিয়েও আছে প্রশ্ন।
এই উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান জামায়াতের। তিনি জিতেছেন বিএনপিকে হারিয়েই। ফলে জামায়াত মান্নাকে ছেড়ে কথা বলবে নাÑঢাকা টাইমসকে বলেছেন দলটির একজন নেতা।

জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী শাহাদাতুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ঢাকায় বড় নেতা (মান্না) হলেই এলাকায় ভোট পাওয়া যায় না। ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে।’

জোটগতভাবে যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে জামায়াত আলাদাভাবে নির্বাচন করেবে কি নাÑএমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে চুপ থাকেন জামায়াত নেতা।

মান্নার আসনে জামায়াতের ভোটের প্রস্তুতিকে সুযোগ হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ। আসনটিতে দলটির ভোট ধীরে ধীরে বাড়ছে। এই অবস্থায় প্রতিদ্বন্দ্বী জোটে ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তাকে কাজে লাগানো সম্ভব বলে মনে করছে দলটি।

আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ অবশ্য আবার জোট থেকে সমর্থন পাওয়ার আশায়। যদিও স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার দূরত্ব রয়েছে। আর আওয়ামী লীগ এবার নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চাইছে এখানে।

জামায়াতের দাবি আরও আছে

শিবগঞ্জ ছাড়াও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে জামায়াত নেতা ও কাহালু উপজেলা চেয়ারম্যান তায়েব আলী, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে শেরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান দবিবুর রহমান মনোনয়নপত্র তুলেছেন।

জামায়াত নেতারা জানান, জেলার সাতটি আসনের মধ্যে চারটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। এর মধ্যে অন্তত দুটিতে ছাড় দেওয়ার জোর দাবি করছেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত