নির্বাচনে গুজব ঠেকাতে প্রস্তুত র‌্যাব-পুলিশ

সিরাজুম সালেকীন
 | প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:০৪

নির্বাচনের আগে ও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ যেন গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পাওে, তার জন্য প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ধরনের অপরাধীদের ধরার জন্য সাইবার দুনিয়ায় বাড়ানো হয়েছে মনিটরিং। ইতিমধ্যে গুজব ছড়াচ্ছে এমন বেশ কিছু ফেসবুক আইডি, পেজ ও নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টালও চিহ্নিত করা হয়েছে।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গুজব ছড়িয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা-ভাঙচুর যাতে না হয়, সেজন্য নির্বাচন কমিশনে দেখাও করেছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা। তারা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে গুজব ছড়িয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করা হয়। কারণ, নির্বাচনে এক পক্ষকে ভোট দিলে অপর পক্ষ নাখোশ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে।

আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ফেসবুকের অপব্যবহার করে দেশে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয়ে অপপ্রচার, গুজব রটানো, আপত্তিকর, মানহানিকর, আক্রমণের উদ্দেশ্যে ছবি ও ভিডিও পোস্ট শেয়ার করাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে ফেসবুকের অপব্যবহার হচ্ছে, যা স্পষ্টত সাইবার অপরাধ। যারা এসব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ফেসবুক পেজ, গ্রুপ ও ইউটিউবে পুলিশের লোগো ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর নানা তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকা-ে জড়িত ছয়জনকে চিহ্নিতও করা হয়েছে। বাকিদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের উপকমিশনার (ডিসি) আলীমুজ্জামান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে কিছু কিছু গুজব ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে আমরা সেগুলো প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছি।’

নির্বাচনকে ঘিরে কিছু শনাক্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু কাজ করেছি। এটা চলমান প্রক্রিয়া।’

ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে রামু, নাসিরনগরের ঘটনা ছাড়াও রাজধানীতে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। গত ৪ আগস্ট ধানমন্ডির জিগাতলায় সংঘর্ষ বাধলে ফেসবুক লাইভে ও বিভিন্ন গ্রুপ থেকে দুই ছাত্রের মৃত্যু এবং দুজনের চোখ তুলে ফেলার গুজব ছড়ানো হয়। এ সময় অভিনেত্রী নওশাবা ছাড়াও ২০ জনের বেশি এই ঘটনায় শনাক্ত হন। পরে তাদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা হয় এবং গ্রেপ্তারও হন তারা।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্মোল রোজারিও ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় সবার জন্য আইন সমান। কিন্তু বিভিন্ন নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে সবার সতর্ক দৃষ্টি রাখা দরকার। সোশ্যাল মিডিয়ার ভালো দিকের পাশাপাশি খারাপ দিকও রয়েছে। রামু, নাসিরনগরের মতো ঘটনা ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়ানো হয়। সেই ঘটনার সূত্র ধরে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এবারও আমরা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার আশঙ্কা দেখছি। বিষয়গুলো নিয়ে ইসি ও সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি।’ তবে ২০০১ সালের নির্বাচনের সময়ের চেয়ে এখনকার অবস্থা অনেক ভালো বলে মনে করেন তিনি।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘অসত্য, বানোয়াট, ভুয়া এবং যেসব তথ্যের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা থাকে, সেগুলোই অপরাধ। সেসব অপরাধ বন্ধে র‌্যাবের পক্ষ থেকে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা আছে। এজন্য সাইবার নেটওয়ার্কে মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে। যারা এসব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

গুজব ছড়ানোর অপরাধে কোনো ফেসবুক আইডি বা পেজ বন্ধ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘যারা আইন অনুযায়ী দ-নীয় অপরাধ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আগেও নেওয়া হয়েছে, এখনো নেওয়া হচ্ছে।’

নির্বাচনকে ঘিরে সাইবার অপরাধে অস্থিতিশীলতা তৈরির কোনো আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘সাইবার ক্রাইম দিয়ে মানুষকে মেরে ফেলা যায় না। তবে নির্বাচন ঘিরে স্বার্থান্বেষী মহল মিথ্যা, বানোয়াট গুজব ছড়াতে চেষ্টা করে। এবারও গুজব ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে ও পরে গুজব ঠেকাতে র‌্যাব প্রস্তুত। এখন কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরাধ করলে তাকে ধরা হচ্ছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত