আবার কাদের-মওদুদ লড়াই

তানিম আহমেদ
 | প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ১০:৫৬

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কয়টি আসনে দৃষ্টি থাকবে সবার, তার মধ্যে নোয়াখালী-৫ একটি। এখানে লড়বেন দুই প্রধান দলের ডাকসাইটে প্রার্থীরা। একজন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, অন্যজন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ।

আসনটিতে দুই দলের অবস্থানই শক্তিশালী। মওদুদ একাধিকবার ভোটে লড়েছেন দুটি দল থেকেÑবিএনপি ও জাতীয় পার্টি। আর ওবায়দুল কাদের ১৯৯১ সাল থেকেই নৌকা নিয়ে লড়ছেন সেখানে।

নব্বই-পরবর্তী গণতান্ত্রিক নির্বাচনে এই দুই নেতার প্রথম দেখা ১৯৯১ সালে। সেই থেকে মোট চারবার পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছেন তারা। দুবার করে জয় পেয়েছেন দুজনই। এবার একজনের এগিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ।

ওবায়দুল কাদের রাজনীতিতে জড়ান ছাত্রজীবনে। ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি। নেতৃত্বের একেকটি সিঁড়ি পেরিয়ে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় শীর্ষ পদে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন। বর্তমানে তিনি ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে আইন পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে মওদুদ আহমেদ রাজনীতিতে আসেন বিএনপির জন্মের পর। ১৯৭৯ সালে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে জেতেন। কিন্তু এরশাদের সামরিক শাসনামলে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে পরের নির্বাচনে লড়েন লাঙ্গল প্রতীকে। হন এরশাদ সরকারের প্রধানমন্ত্রী। এরশাদ সরকারের পতনের পরও ১৯৯১ সালে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জয় পান তিনি।

১৯৯৬ সালে মওদুদ জাতীয় পার্টির হয়ে লড়ে হেরে যান কাদেরের কাছে। এরপর তিনি চলে যান বিএনপিতে। পরের দুটি নির্বাচনে তিনি অংশ নেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে।

১৯৯১ সাল থেকে অংশগ্রহণমূলক চারটি নির্বাচনেই ওই আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী ওবায়দুল কাদের ও মওদুদ আহমদ। এর মধ্যে ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে জয় পান কাদের। ১৯৯১ আর ২০০১ সালে মওদুদ।

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার দুই পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ও নেয়াজপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসন। ভোটারসংখ্যা তিন লাখ ৩১ হাজার ৬৯। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৮ এবং নারী এক লাখ ৬৩ হাজার ৩৩১ জন।

এই আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে একমাত্র মনোনয়ন ফরম তুলেছেন ওবায়দুল কাদের। অন্যদিকে বিএনপির হয়ে মওদুদ ছাড়াও ফরম নিয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা বজলুল করিম চৌধুরী এবং ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম। তবে তাদের দুজনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না দলের নেতারা।

কাদের ও মওদুদের লড়াই বরাবরই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। ১৯৯১ সালে মওদুদ জেতেন চার হাজারের কম ভোটে। ১৯৯৬ সালে কাদের জেতেন ১২ হাজারের কিছু বেশি ভোটে। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থীর ভোট মিলিয়ে মওদুদের চেয়ে পাঁচ হাজার বেশি ছিল। ভোট ভাগাভাগির সুযোগে জিতে যান বিএনপির নেতা। আবার ২০০৮ সালে কাদের জেতেন এক হাজারের কিছু বেশি ভোটে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাদের সংসদ সদস্য হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

কোম্পানীগঞ্জে কাদেরের ভাই বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল আওয়ামী লীগ নেতার হয়ে প্রচার ও গণসংযোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কাদেরও এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত ও খোঁজখবর নেন। নেতা-কর্মীদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ সরাসরি।
আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘এই আসনে ওবায়দুল কাদেরের বিকল্প নেই। তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। বিশেষ কওে, কোম্পানীগঞ্জবাসীর দুঃখ নদীভাঙন রোধে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মুছাপুর ক্লোজার বাঁধ নির্মিত হয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে নোয়াখালী খালসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। নোয়াখালী-চট্টগ্রাম যাতায়াত সহজ করতে সোনাপুর-জোরালগঞ্জ সড়ক নির্মাণ ও একটি সেতুসহ ২৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন কাদের। তাই আমরা আশাবাদী, বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।’

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল বলেন, ‘প্রার্থী হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের তুলনা হয় না। তিনি শুধু এ আসনে নয়, সমগ্র বাংলাদেশে জনপ্রিয়। বিগত ৯ বছরের উন্নয়নে জনপ্রিয়তার অনন্য উচ্চতায় এখন ওবায়দুল কাদের।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান বলেন, ‘কাদের সাহেব এ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছি।’

প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী মওদুদের বিজয় নিয়েও আশাবাদী দলের স্থানীয় নেতারা। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই সেলিম বলেন, ‘আমরা শতভাগ আশাবাদী। মওদুদ সাহেব এমপি থাকাকালে এলাকার অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন করেন। কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাটে ওনার বিকল্প নেই। আমরা সবাই ওনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত