মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়াচ্ছে স্থূলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:২৭ | প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:০২

বাংলাদেশে শহর এলাকায় প্রতি চার জনের একজনই ওজনই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। আর এ কারণে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় প্রভাব পড়ছে কর্মক্ষমতায়। পাশাপাশি হচ্ছে জটিল রোগ।

এসব কারণে চিকিৎসক ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়টিকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন। তারা জানান, ২০১৫ সালেই স্থূলতাকে রোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে সচেতনতা গড়ে উঠেনি।

শনিবার জাতীয় জাদুঘরে ‘স্থূলতা সম্পর্কিত’ বিশেষ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, গ্রামাঞ্চলে স্থূ’লতার হার শতকরা ৮ শতাংশ এবং শহরে এটি শতকরা ২৩।

এই বিষয়টির জন্য শহরাঞ্চলে শিশুদেরকে অতিরিক্ত খাবার দেয়া, পাশ্চাত্বের খাবারের প্রতি মোহকে দায়ী করেন বক্তারা। সেই সঙ্গে ব্যায়াম না করার প্রবণতার বিষয়টি তুলে ধরেন। বলেন, এটি খুবই ক্ষতিকর।

ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ২০২০ সালের মধ্যে ঢাকাবাসীর দুই লাখ কেজি ওজন কমানোর ঘোষণা দেয়া হয়।
এই অনুষ্ঠানে ২০ থেকে ৪০ কেজি ওজন কমানো তিন জন বক্তব্য রাখেন। আরিফুজ্জামান শান্তর ওজন ছিল ১১১ কেজি। চার মাসে তিনি ওজন কমান ৩২ কেজি। পরে কমান আরও ১০ কেজি। তানিয়া মৃধা তিন মাসে ৮৮ কেজি থেকে ওজন কমিয়ে ৭৩ কেজিতে নামিয়েছেন। উম্মে হাবিবা সুপ্তিও কমিয়েছেন ২০ কেজি।    

অনুষ্ঠানে পুষ্টিবিদ শাহীন আহমেদ বলেন, ‘স্থূলতা বাড়লে অনেক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ডায়াবেটিস, হাইপার টেনশন, কিডনি ও গলব্লাডারে সমস্যা হতে পারে। অতএব পরিমিত খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হতে হবে। বাইরের মুখোরোচক তৈলাক্ত খাবার খাওয়া চলবে না। সবজি বেশি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।’

বাড়ডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা আখতারুন নাহার আলো বলেন, ‘বাচ্চা জন্মের পর থেকেই মায়েরাই বাচ্চাদেরকে অতিরিক্ত খাওয়ান। সেই প্রবণতা সবসময়ই থেকে যায়। স্থূলতা কমাতে মায়েদেরই তাই সচেতন হতে হবে সবার আগে।’

‘বর্তমানে পাশ্চাত্য খাবারের প্রতি প্রবণতা আমাদের সমাজে একটি ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রবণতা খুবই ক্ষতিকর। এটা কমাতে হবে।’
পুষ্টিবিদ আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘আজকাল অনেকেই মনে করেন ডায়েট মানে না খাওয়া বা স্বল্প খাওয়া। আসলে তা নয়। ডায়েট মানে পথ্য। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘অনেক ধরনের রোগের উৎস-ই হচ্ছে স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধি। ওজন কম হলেও সমস্যা, বেশি হলেও সমস্যা। সে জন্যই প্রয়োজন ভারসাম্য।’

বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান এস কে রায় বলেন, ‘বর্তমানে শরীরচর্চার রীতি প্রায় উঠে গেছে বলা যায়। ফলে স্থূলতার হার বাড়ছে।’

‘স্থূলতা তখনি বৃদ্ধি পায়, যখন মানুষ বুদ্ধির দ্বারা পরিচালিত না হয়ে জিহ্বার দ্বারা পরিচালিত হয়। অর্থাৎ মানুষ তার খাওয়া কন্ট্রোল করার ব্যাপারে কোনো তাগিদই অনুভব করে না।’

ঢাকাটাইমস/১৭নভেম্বর২০১৮/ডিআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত