‘হাসিমুখ’ স্কুলে শীতবস্ত্র বিতরণ

আরিফ হাসান, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:৩০ | প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৩৫

‘শিশির জমা দুর্বাঘাসে শশীর আলো পড়ে, দীপ্ত দ্যুতি ঝলমলিয়ে সবার মন কাঁড়ে।’ কবির এ কথার রেশ ধরেই যেন মাঝ হেমন্তে শীতের বার্তা এলো শিশিরে। সেই বার্তা পেয়েই শিক্ষার্থীদের জন্য শীতবস্ত্রের ব্যবস্থা করে ফেলল ‘হাসিমুখ সমাজ কল্যাণ সংস্থা’। শনিবার বিকালে তারা ১৫০ জনেরও বেশি অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মাঝে শীতের নতুন পোশাক বিতরণ করেন। এ সময় সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক নুসরাত একাসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে শুধু এ বছরই নয়, প্রতি বছর শীত এলেই বাচ্চাদের গায়ে শীতের নতুন পোশাক জড়িয়ে দেয় সংস্থাটি। এসব কাজে তাদের পাশে দাড়ায় বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন। এ বছর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তারা পাশে পায় ‘ইনার হুইল ক্লাব অব ধানমন্ডি’কে। শনিবার বিকালে ক্লাবটির সকল সদস্য স্কুল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে ‘হাসিমুখ’ স্কুলের দেড় শতাধিক বাচ্চার হাতে শীতের নতুন পোশাক তুলে দেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রয়োজনে সব সময় তারা পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস দেন।

এ ব্যাপারে ‘হাসিমুখ সমাজ কল্যাণ সংস্থা’র সাধারণ সম্পাদক নুসরাত একা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘২০১১ সালে থেকে আমাদের সংগঠনটির যাত্রা শুরু। প্রতি বছরই আমরা বাচ্চাদের জন্য শীতের পোশাকের ব্যবস্থা করি। শীতের বার্তা পাওয়া মাত্রই আমরা নিজেদের আগে সুবিধাবঞ্চিত এসব বাচ্চাদের গায়ে শীতের নতুন পোশাক জড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করি। আমরা চাই, ‘হাসিমুখ’ স্কুলে পড়তে আসা একটা বাচ্চাও যেন শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট না পায়।’

স্কুল থেকে পাওয়া শীতের পোশাক গায়ে হাসিমুখে দাড়িয়ে ছিল ‘হাসিমুখ’-এর চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী হোসেন আলী। অভাবের তাড়নায় এই বয়সেই সে বাংলামটরের একটি টাইলসের দোকানে কাজ করে। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্কুল থেকে পাওয়া পোশাকটি দিয়েই সে পুরো শীত মৌসুম পার করে দিতে পারে। এছাড়া লেখাপড়ার খরচ এবং অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ যোগাড়ের জন্যও তার পরিবারকে ভাবতে হয় না। সবকিছুই সে ‘হাসিমুখ’ স্কুল থেকেই পেয়ে থাকে।

সংগঠনের অন্য সদস্যরা জানান, তারা শুধু শীতের পোশাকই নয়, ঈদের সময় বাচ্চাদের জন্য নতুন পোশাকেরও ব্যবস্থা করেন। এছাড়া রমজানের রোজা উপলক্ষ্যে প্রতিদিনই থাকে ভালো ইফতারের ব্যবস্থা। এ সময় পুরো মাসজুড়ে তারা স্কুল প্রাঙ্গণে বাচ্চাদের সঙ্গে বসেই ইফতার সেরে ফেলেন। ঈদের আগে বাচ্চাদের পরিবারের জন্য থাকে দুধ, সেমাই, চিনি, নুডুলস এবং পোলাও চালের ব্যবস্থা। দেয়া হয় মেহেদী এবং সাবানও।

সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নানা সুযোগ সুবিধা ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে এই সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে তারা ‘হাসিমুখ’ নামের স্কুলটি পরিচালনা করেন। শুক্রবার বাদে প্রতিদিন বিকাল চারটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত পরিবাগ ওয়াবদা কোয়ার্টারের সমানের রাস্থায় চট বিছিয়ে চলে স্কুলটির কার্যক্রম। এখানকার দেড় শতাধিক বাচ্চাদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে প্রতিদিনই নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এক ডজনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক।

তবে শুধু শিক্ষা নয়, শিক্ষার সকল উপকরণও বাচ্চারা এই সংগঠনটি থেকে পেয়ে থাকে। এছাড়া বাচ্চাদের কারিগরি জ্ঞানে দক্ষ করে তুলতে সংস্থাটি থেকে একটি কম্পিউটার ল্যাবও পরিচালনা করা হয়। প্রতিদিন সেখানে বাচ্চাদের আইটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন একটি দক্ষ আইটি টিম। এছাড়া দেশের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে বাচ্চাদের পরিচিত করাতে ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের মতো জাতীয় দিবসগুলো পালন করে সংগঠনটি। পালন করা হয় পহেলা বৈশাখ এবং পহেলা ফাল্গুনও।

ঢাকা টাইমস/১৭ নভেম্বর/এএইচ    

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত