বাংলাদেশের মানবাধিকার ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের নিন্দার প্রতিবাদ

ইউরোপ ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২১:০৪

ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নিন্দার প্রতিবাদ জানিয়েছেন সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামিম হক।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়ে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট একটি রেজুলেশন পাস করেছে। এ বিষয়ে সংসদে আলোচনার পরে এই রেজুলেশন পাস হয়।

এই প্রসঙ্গে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাওয়া মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নতির জন্য সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে ওই রেজুলেশনে।

বাক-স্বাধীনতা ও সমাবেশ করার ক্ষমতা হ্রাস, আইন-বহির্ভূত হত্যা, গুম, অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ ও শ্রমাধিকার লঙ্ঘনের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করে রেজুলেশনে এর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ওই রেজুলেশনে ইউরোপিয়ান প্রতিষ্ঠান অ্যাকর্ড যেন বাংলাদেশে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে জোরালো বক্তব্য দেয়া হয়। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে অ্যাকর্ডের কার্যক্রম বন্ধের নিন্দা জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশে কাজ করতে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে শামিম হক প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সাফল্য ও উন্নয়নকে পাশ কাটিয়ে নানামুখী অপপ্রচার করা হয়। এই সব অপপ্রচারের ইন্ধনদাতা ৭১ এর পরাজিত শক্তি। এ বিতর্কে বক্তব্য রাখেন অস্ট্রিয়ার রাজনীতিক জোসেফ ভাইদেনহোলজার, বৃটিশ কনজারভেটিভ দলের চার্লস টনোক, চেক রাজনীতিক টমাস জেকোভস্কি, বৃটিশ রাজনীতিক সাজ্জাদ করিমসহ অন্যান্য ব্যাক্তিবর্গ। বিতর্ক শেষে ভোটের মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব গৃহিত হয়। এতে বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। মানবধিকার পরিস্থিতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সেই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়। এই বির্তকের খসড়া প্রস্তাবে গত দশ বছরে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন ও বদলে যাওয়া বাংলাদেশের কথা উপেক্ষা করা হয়েছে। ইতালির রাজনীতিক ইগনাসিও করাও মানবধিকার পরিস্থিতির দিক থেকে বাংলাদেশকে ফিলিপাইন ও সৌদি আরবের সাথে তুলনা করেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমি কারাও সাহেবকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলতে চাই- বাংলাদেশের মানবধিকার পরিস্থিতি কোনভাবেই ফিলিপাইন বা সৌদি আরবের মত নয়। আমি আপনাকে সবিনয় বাংলাদেশ ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, আপনি আসুন এবং চোখে দেখে পর্যবেক্ষণ করুন। পরাজিত শক্তির তাবেদারি করতে গিয়ে নিজের অবস্থান নষ্ট করা উচিত না। বাংলাদেশ সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদানের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তথ্য প্রবাহের অবাধ স্বাধীনতা মানে অন্য কোন দেশ সম্পর্কে মিথ্যা অপপ্রচার করা, এটা হতে পারে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূলমন্ত্র ‘সদা সত্য কথা বলিব, মিথ্যা কথা বলিব না’।

বিশ্ব গণতন্ত্রের তীর্থস্থান ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে আপনি পার্লামেন্টকে অবমাননা করেছেন। ইইউ পার্লামেন্ট অবমাননা করার অধিকার আপনার নেই। আপনি ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট কলঙ্কিত করেছেন, আপনাকে ক্ষমা চাইতে হবে।

যারা বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, তারা যদি একটু লক্ষ্য করেন তাহলে বুঝতে পারবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিতর্কের খসড়া প্রস্তাব এবং ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগগুলো প্রায় একই। তাহলে একটি প্রশ্ন এসেই যায়, তবে কি ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোন পক্ষকে সুবিধা দিতে এই বিতর্কের আয়োজন করেছে? বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি এই বিতর্কে ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পেলে অবাক হওয়ার কিছু দেখছি না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলেছেন খুবই ভাল প্রস্তাব, বর্তমান বাংলাদেশ সরকারও একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করার ব্যাপারে খুবই আন্তরিক।সরকার ইতোমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট এবং দলের সঙ্গে দফায় দফায় সংলাপ করেছে। নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচনের তপসিল ঘোষণা করেছে এবং ঐক্যফ্রন্টের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচনের তারিখ পিছিয়েছে। বিরোধী জোটের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে। বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হাজার হাজার নেতাকর্মী দলীয় মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ করছে। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ অনেকটাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে এবং সব মহলেই শেখ হাসিনা প্রশংসিত হচ্ছেন। সবকিছু বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে বাংলাদেশে বর্তমানে নির্বাচনের উৎসব বিরাজ করছে। বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আশ্বস্ত করতে চাই শেখ হাসিনা তার দূরদর্শী রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় বাংলাদেশে একটি মডেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং আপনারাও পর্যবেক্ষক হিসাবে উপস্থিত থাকার সুযোগ পাবেন।
সমসাময়িক বৈশ্বিক রাজনীতিতে বাংলাদেশ আজ সবার কাছে বিস্ময় এবং উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সুইডেনের আদলে দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়েছেন। ইমরান সামনের পাঁচ বছরের মধ্যে পাকিস্তানকে সুইডেনে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখিয়েছেন দেশবাসীকে। এ প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের ক্যাপিটাল টিভির টকশোতে এক আলোচনায় আলোচকদের একজন জায়গাম খান বলেন, ‘সুইডেন বানাতে হবে না। আল্লাহর ওয়াস্তে আমাদেরকে বাংলাদেশ বানিয়ে দিন। পাঁচ বছর নয়, ১০ বছরে আমাদের বাংলাদেশ বানিয়ে দিন। তাহলেই হবে। কিন্তু জানি এটা হবে না।’
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণ ঘটেছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি (সিডিপি) গত ১৫ মার্চ এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের জন্য মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক এ তিনটি সূচকের যে কোন দুটি অর্জনের শর্ত থাকলেও বাংলাদেশ তিনটি সূচকের মানদণ্ডেই উন্নীত হয়েছে।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসক) মানদণ্ড অনুযায়ী এক্ষেত্রে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় তার থেকে অনেক বেশি অর্থাৎ ১৬১০ মার্কিন ডলার। মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২ দমমিক ৯। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক হতে হবে ৩২ ভাগ বা এর কম যেখানে বাংলাদেশের রয়েছে ২৪ দশমিক ৮ ভাগ।
‘যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণ- যেখানে রয়েছে এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়ার ইতিহাস’ সরকারের রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের এটি একটি বড় অর্জন। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাহসী এবং অগ্রগতিশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের ফলে যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত রূপান্তর ও উল্লেখযোগ্য সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে নিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
নারীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে “জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা-২০১১”। নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিকস্তর পর্যন্ত চালু করা হয়েছে উপবৃত্তি কার্যক্রম। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারী অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করতে গৃহীত হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। প্রযুক্তি জগতে নারীদের প্রবেশকে সহজ করতে ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্রের মতো ইউনিয়নভিত্তিক তথ্যসেবায় উদ্যোক্তা হিসেবে একজন পুরুষের পাশাপাশি নিয়োগ দেয়া হয়েছে একজন নারী উদ্যোক্তাকেও। “জাতীয় শিশু নীতি-২০১১” প্রণয়নের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হয়েছে শিশুদের সার্বিক অধিকারকে। দেশের ৪০টি জেলার সদর হাসপাতাল এবং ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপন করা হয়েছে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল। দুঃস্থ্, এতিম, অসহায় পথ-শিশুদের সার্বিক বিকাশের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ১৫টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের নারী ও শিশুর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভূষিত করা হয়েছে জাতিসংঘের সাউথ–সাউথ এওয়ার্ডে। হতদরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি বিস্তৃত করতে বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত ও দুঃস্থ মহিলা ভাতা, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃকালীন ভাতাসহ ভাতার হার ও আওতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০০৮-২০০৯ সালে এই খাতে মোট বরাদ্দ ছিল ১৩ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা, বর্তমানে এ কার্যক্রমে বরাদ্দের পরিমাণ ২৫ হাজার ৩৭১ কোটি (১) টাকা। খানা আয়-ব্যয় জরিপ, ২০১০ এর সমীক্ষায় দেখা গেছে, মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৪.৫% সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতাভুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় উঠে আসে জন্মের ৫০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে কীভাবে বাংলাদেশ দ্রুতগতিসম্পন্ন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মতো সফলতা দেখাতে যাচ্ছে। উঠে আসে জাতির পিতা কীভাবে সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতার জন্য একতাবদ্ধ করেছিলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ থেকে কীভাবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব, দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা, এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, কৃষি, দারিদ্র্যসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, পোশাক শিল্প, ঔষধ শিল্প, রপ্তানি আয় বৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক সূচক। পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশের মেগা প্রকল্পসমূহ। এতে প্রদর্শন করা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদাত্ত আহ্বান, ‘আসুন দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’
প্রবাসী বাঙালিরা বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রায় গর্বিত অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ইউরোপ সফরের সময় তার স্বভাবসুলভ মাতৃত্বের স্নেহবন্ধনে প্রবাসীদের আবদ্ধ করে রাখেন। তার নির্দেশনায় ইউরোপের মাটিতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সমন্বিত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করার কথা থাকলেও অনেকের ব্যক্তি স্বার্থ, অদক্ষতা ও অযোগ্যতার কারণে ইউরোপ আওয়ামী লীগ আজ বহু ধারায় বিভক্ত হয়ে পরেছে। এতে ৭১ এর পরাজিত শক্তি ছোবল মারার সুযোগ পায়। সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এ দায় আমিও এড়াতে পারি না। বিগত দিনে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট অনুষ্ঠিত শুনানিতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদসহ প্রবাসী আওয়ামী লীগের নেতারা অংশ গ্রহণ করেছিলেন, ওই শুনানিতে আমিও উপস্থিত ছিলাম। তখন সেই শুনানিতে উপস্থিত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। আমাদের ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতিতে বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র মুখ থুবরে পড়ে। আমি বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ আমাদের হারাতে পারবে না। ঘটনাচক্রে একটু যদি পেছনে তাকাই তাহলে দেখতে পাব ২০১৪ সালের দশম জাতীয় নির্বাচনের আগের মুহূর্তেও ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এমন একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তখনও এইচ টি ইমাম, মসিউর রহমান, সাবের চৌধুরী, আব্দুল মতিন খসরু, মসিউর রহমান, সাদেকা হালিম অংশ নেন। সাবের হোসেন চৌধুরী বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের বাস্তবচিত্র তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন। তার বক্তব্যের কথাগুলো ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা মন্ত্রমুগ্ধ মতো শুনেছিলেন। সেদিনের ওই শুনানিতে বিএনপি-জামায়াত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলেও ইউরোপে বসবাসরত মুজিব সৈনিকদের সরব উপস্থিতিতে পিছু হটে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি পরাজিত অপশক্তির যে কোন ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে। ঐক্যবদ্ধতার কোন বিকল্প নাই।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সরকার, একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও ‘৭৫ এর ঘাতকদের সমর্থক বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে জঙ্গিবাদের উত্থানকে কঠোর হস্তে দমন করেছে। পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সিক্ত জনগণের সম্বন্বিত প্রচেষ্টায় এবং দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দৃঢ়তায় আজ সাময়িক নিষ্ক্রিয় হলেও তারা গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যেকোন মূল্যে এই ষড়যন্ত্র কে নস্যাৎ ও নির্মূল এবং অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে হলে প্রয়োজন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সিক্ত সরকারের ধারাবাহিকতা। এটাই এখন দেশপ্রেমিক প্রবাসীদের আকাঙ্ক্ষা ও সময়ের দাবি।

(ঢাকাটাইমস/১৭নভেম্বর/সিকে/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত