‘গরুর বাট কেটে দিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা’

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৫৬

‘২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে তার ভাই বর্তমান জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানের খামারের গরুর বান কেটে দিয়েছিল’ বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের এমপি শামীম ওসমান। এছাড়াও তিনি ওই সময় তাদের উপর নির্যাতনের চিত্রও তুলে ধরেছেন জনগণের মাঝে। নির্বাচনে মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার আগেই শামীম ওসমান নৌকার পক্ষে প্রতিদিন গণসংযোগ করে যাচ্ছেন।

শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার পাইলট স্কুল মাঠে নির্বাচন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, ‘২০০১ সালে নির্বাচনের পর আমার নারী পুলিং এজেন্ট হওয়ার অপরাধে বিএনপির লোকজন ধর্ষণ করেছিল। আমার অনেক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে এবং হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও আমার ভাই হওয়ার অপরাধে সেলিম ওসমানের ফ্যাক্টরিতে হামলা করা হয়েছিল। খামারের গরুর বাট কেটে ফেলা হয়েছিল। এমনকি আমার বাড়ি হীরা মহলে আগুন দেয়া হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘ওই সময় আমার দলের অনেক নেতাকর্মীর উপর অনেক অত্যাচার-নির্যাতন করেছিল বিএনপি জামায়াত। তাদের অত্যাচারে নেতাকর্মীরা বাড়িতে থাকতে পারেনি। তারপরও আমি বিএনপির কাউকে কিছু বলিনি। আমাদের সরকার আমলে বিএনপির লোকজন শান্তিতে বসবাস করছে এবং এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য করছে।’

শামীম ওসমান বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তারা যদি অতীতের মত কর্মকাণ্ড করে তাহলে কোন ছাড় দেয়া হবে না। এমন কিছু করার চিন্তা করবেন না। ভোটের সময় ভোট চাইবেন কোন সমস্যা নাই। বিএনপির অনেকে এদিক-সেদিক ছুটাছুটি করছে। উল্টাপাল্টা চিন্তা মাথায় আনবেন না। আমরা কিন্তু বিএনপির কাউকে একটা ফুলের টোক্কা দেইনি। কারো সাথে খারাপ আচরণ করেনি, বরং বিএনপির লোক নিয়ে কাজ করেছি। বিএনপির চেয়ারম্যান আমার সাথে মিলেমিশে কাজ করে গেছেন। তারপরও ভিন্ন চিন্তা করবেন না। পুরনো কথা মনে করাবেন না। পুরনো বুকের জ্বালা তুলবেন না। যদি পুরনো জ্বালা বুকে তুলে দেন, তাহলে পরিণতি ভাল হবে না। আমার কাছে খবর আছে অস্ত্র কেনার জন্য চেষ্টা করছেন। এমন কিছু করবেন না, জনগণ আপনাদের ছাড় দেবে না। তখন কিন্তু আমাকে দায়ী করতে পারবেন না।’

শামীম ওসমান আরো বলেন, ‘আমি টাকা দিয়ে, মানুষকে ধোকা দিয়ে ধান্ধাবাজি করে নির্বাচনে ভোট চাইব না। আমি অভয় দিচ্ছি, না বুঝে কাউকে সমর্থন করবেন না। নির্বাচন আসছে অনেকেই এসে নাটক করবে, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ টাকা অনুদান করবে। কিন্তু আমি বলছি, কারো ধোঁকাবাজিতে পা দেবেন না। মনে রাখবেন আপনার এলাকার জনপ্রতিনিধি ভুল ব্যক্তি হলে সমাজ নষ্ট হয়ে যাবে এবং উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যাবে। সন্ত্রাস চাঁদাবাজি বেড়ে যাবে। দেখেন, আমার দলের এমপি (সারাহ বেগম কবরী) মসজিদের টাকা খেয়ে ফেলছে। আওয়ামী লীগ হলে যে কেউ ভাল হবে তা আমি বলতে পারব না। ভাল-মন্দ সবার মধ্যে রয়েছে। প্রতীকের চিন্তা না করে আগে ব্যক্তিকে চিনেন। মন থেকে ধানের শীষের কথা বাদ দিয়ে এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিতে বসবাসের কথা ভাবেন।’

‘মাদক ব্যবসায়ী ইবলিশ শয়তানের চেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এমপি একেএম শামীম ওসমান। তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখনো সময় আছে ভাল হয়ে যান। নতুবা পুলিশের বন্ধুকের গুলির বারুদ মাদকের বিরুদ্ধে তৈরি হয়ে আছে। মাদক ব্যবসায়ী আমার দলের হলেও ছাড় পাবে না। সন্ত্রাস মাদক ব্যবসায়ী হলে আমার দরকার নেই। খারাপ লোক নিয়ে আমি রাজনীতি করতে চাই না। খারাপ লোক একশ জন না হয়ে ১০ জন ভাল মানুষ আমার দরকার।’

ফতুল্লা ইউনিয়নের ১, ২, ৩নং ওয়ার্ড এলাকায় নির্বাচনী আলোচনা সভায় ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ লিটনের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন- ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সানাউল্লাহ, সাংগঠনিক সস্পাদক মীর সোহেল, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রফেসর শিরিন আক্তার, নারায়ণগঞ্জ আদালতের পিপি এসএম ওয়াজেদ আলী খোকন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে ফতুল্লা ইউনিয়নের ১, ২, ৩নং ওয়ার্ড এলাকায় গণসংযোগ করেন শামীম ওসমান। তিনি প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী-পুরুষের সাথে কুশল বিনিময় করে নৌকায় ভোট প্রার্থনা করেন।

(ঢাকাটাইমস/১৭নভেম্বর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত