বাবা হত্যার বিচার না পেয়ে বিএনপি জোটে কিবরিয়াপুত্র

পাবেল খান চৌধুরী, হবিগঞ্জ থেকে
 | প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৩১

বাবা শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার বিচার শেষ করতে না পারার ক্ষোভ থেকে আওয়ামী লীগবিরোধী শিবিরে গিয়ে ভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রেজা কিবরিয়া। তিনি ভোট করতে চান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। যদিও বিএনপির শাসনামলেই গ্রেনেড হামলায় প্রাণ গেছে তার বাবার।

রেজা কিবরিয়ার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামার ইচ্ছা নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে হবিগঞ্জে। স্থানীয় লোকদের কাছে এটি অবিশ্বাস্য ছিল। শুরুতে বিষয়টি গুজব হিসেবে দেখা হলেও কিবরিয়াপুত্র নিজে বলার পর কেন এই সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে হবিগঞ্জে গ্রেনেড হামলায় আহত হন কিবরিয়া। তখন সরকারের কাছে আবেদন করার পরও হেলিকপ্টার পাঠানো হয়নি। সে সময় সরকারের বিরুদ্ধে বহু কথা বলেছেন রেজা। তারপরও তিনি কেন ধানের শীষে ভোট করতে চাইছেনÑএই প্রশ্ন বিরাট হয়ে দেখা দিয়েছে।

রেজা অবশ্য সরাসরি বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন না, তিনি মনোনয়ন ফরম তুলেছেন কামাল হোসেনের গণফোরাম থেকে। তবে এই দলটি ভোটে প্রতীক হিসেবে ধানের শীষ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর গণফোরামের প্রার্থী হিসেবে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসন থেকে ভোটে দাঁড়াতে চান রেজা।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের মেয়াদকালীন সময়ে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন শাহ এ এম এস কিবরিয়া। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন তিনি।

কিবরিয়া হত্যার দুই মামলায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গউছসহ ৩২ জনের বিচার চলছে। এক যুগেরও বেশি সময়েও বিচার শেষ করতে না পারায় আক্ষেপ আছে কিবরিয়া পরিবারে।

বিএনপি জোটের হয়ে অংশ নেওয়ার আগ্রহের বিষয়ে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমার বাবাকে ২০০৫ সালে হত্যার পর বিএনপি এবং পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বিচার করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারও ১০ বছরে এ মামলার কোনো সুষ্ঠু তদন্ত বা বিচার করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। উল্টো অবহেলা পেয়েছি।’

আওয়ামী লীগের বর্তমান শাসনামলের সঙ্গে একমত নন জানিয়ে কিবরিয়াপুত্র বলেন, ‘আমার বাবা শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আদর্শ লালন করতেন, আওয়ামী লীগ এখন সেই জায়গা থেকে সরে গেছে।’

কিবরিয়া নির্বাচন করতেন সদর (হবিগঞ্জ-৩) আসন থেকে। তবে তার মৃত্যুর পর কিবরিয়াপুত্র নির্বাচন করতে চাইছিলেন হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে। বাবা যে আসন থেকে ভোট করতেন, সেটার বদলে কেন অন্য আসন বেছে নিচ্ছেনÑএমন প্রশ্নে রেজা বলেন, ‘বাবার স্বপ্ন ছিল হবিগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচন করার। আমি সেই স্বপ্ন এবার বাস্তবায়ন করতে চাই। এই এলাকাটি অবহেলিত একটি জনপদ। এলাকার মানুষের জীবনমানে গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই।’

এই আসনে একাধিকবার নৌকা প্রতীক চেয়েছিলেন রেজা। তবে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয় দেওয়ান ফরিদ গাজীকে। পরে ২০১০ সালে দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর ২০১১ সালের উপনির্বাচনেও কিবরিয়া পরিবারে মনোনয়ন যায়নি। নৌকা দেওয়া হয় মুশফিক হোসেন চৌধুরীকে। কিন্তু হেরে যান তিনি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় পার্টির এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু এ আসন থেকে নির্বাচিত হন।

রেজা কিবরিয়া ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। ১৯৫৭ সালের ৬ মার্চ তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের জালালসাপ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব কেটেছে সেখানেই। কৈশোর আর যৌবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে বিদেশে। তিনি বর্তমানে জাতিসংঘে কাজ করছেন এবং কম্বোডিয়া সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে এখনো কর্মরত আছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত