ভোটেও নেই ফালু

বোরহান উদ্দিন
 | প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:৫০

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা মোসাদ্দেক আলী ফালু এবার ভোটের আলোচনায় নেই। এর আগে দলে ভাইস চেয়ারম্যান পদ পেয়েও নেননি তিনি। রাজনীতি থেকে তার এই দূরে থাকা নিয়ে আছে নানা আলোচনা।

২০০৪ সালে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে ফালু ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ছিল। আর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাননি। কারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় তার পক্ষে ভোটে দাঁড়ানো সম্ভব ছিল না। পরে অবশ্য বর্তমান সরকারের আমলে ফালু কারাগার থেকে মুক্তি পান।

গুঞ্জন ছিল ঢাকা-১২ (তেজগাঁও-রমনা ও শেরেবাংলা নগরের একাংশ) আসন থেকে ধানের শীষে নির্বাচন করবেন মোসাদ্দেক আলী ফালু। তবে দলের মনোনয়ন ফরম কেনেননি। এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে ফরম বিক্রি এবং জমা নেওয়ার পালা। ফলে তিনি ভোট করছেন নাÑএটা প্রায় নিশ্চিত।

এই আসন থেকে বিএনপির ফরম নিয়েছেন যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও মহানগর বিএনপির নেতা আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার।

ফালু অবশ্য নিজেকে আড়ালে রাখতেই পছন্দ করছেন। তিনি কোথায় আছেন, সেই তথ্যটিও দিচ্ছেন না তার ঘনিষ্ঠজনেরা। এদের একজন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘তিনি বিদেশে আছেন, কিন্তু কোথায় আছেন, সেটা জানলেও বলতে পারছি না। আর তিনি নির্বাচন করছেন না, এটা আমরা আগে থেকেই জানি।’
কেবল ভোট নয়, রাজনীতিতেও আগ্রহ নেই ফালুর। ২০১৬ সালের ৬ আগস্ট তাকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়। কিন্তু পদ পাওয়ার পরপরই জানিয়ে দেন, তার আগ্রহ নেই। পরে পাঠিয়ে দেন পদত্যাগপত্র।

তখন চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকেই এক ফ্যাক্স বার্তায় তিনি পদত্যাগপত্র দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেন। তবে তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছিল কি না, তা জানা যায়নি।

বিএনপির আগের কমিটিতে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মোসাদ্দেক আলী। রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিতি আছে তার। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সমিতি অ্যাটকোর সভাপতি ছিলেন। সিকিউরিটিজ, আবাসন, অ্যাগ্রো, আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় জড়িত এই ব্যবসায়ী এনটিভির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

সর্বশেষ ফালুকে প্রকাশ্যে দেখা গেছে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ দেশে আসার পর। এর পর থেকে আর হদিস নেই মোসাদ্দেক আলী ফালুর। তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ দুদকের বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে অর্থ পাচারের এক মামলায় অসহযোগিতার অভিযোগে ফালুর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। গত বছরের মে মাসে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বনানীর বাসায় দুদকের দল গিয়েও ফিরে আসে বাড়িটি তালাবদ্ধ থাকায়।

ঢাকাটাইমস/১৮নভেম্বর/বিইউ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত