নেত্রকোণা- ৪

আ.লীগে এগিয়ে শফি, বিএনপিতে বাবরপত্নী

নেত্রকোণা প্রতিনিধি
| আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:৩১ | প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ১২:১৫

মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণী। ফলে আলোচনা উঠেছে, বাবরের পরিবারেই ধানের শীষ থাকছে কি না।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ফাঁসির দণ্ড পাওয়া বাবরকে ২০০৮ সালে প্রার্থী করেনি বিএনপি। এবারও তিনি ফরম তোলেননি।

১৯৯১ সালের পর থেকে জাতীয় নির্বাচনের পরিসংখ্যান আসনটিতে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপিরও শক্তিশালী অবস্থানই নির্দেশ করে। ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে এখান থেকে জেতেন বাবর। আর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আবদুল মোমিন এবং ২০০৮ সালে তার স্ত্রী রেবেকা মোমিন জেতেন নৌকা নিয়ে। দশম সংসদ নির্বাচনেও জয় পান রেবেকা দলটি।

এবার আসনটি ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে বিএনপি চায় পুনরুদ্ধার করতে। এখানে আসনটিতে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী তেমন কোন তৎপরতা নেই।

তিন উপজেলার মধ্যে মদন ও মোহনগঞ্জে আওয়ামী লীগের অবস্থান সুদৃঢ। তবে খালিয়াজুরীতে রয়েছে কোন্দল।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন রেবেকা মমিন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা শফি আহমেদ, জেদ্দা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ হোসেন চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এম মনজুরুল হক।

রেবেকা এলাকায় কম আসেন। এই সুযোগে শফি আহমেদ তার প্রভাব বাড়িয়েছেন। মনোনয়ন দৌড়ে তিনি অনেকটা এগিয়ে। যদিও রেবেকা বলছেন, তিনি যে উন্নয়ন কাজ করেছেন সেটা এর আগে কেউ করেনি।  

বর্তমান সংসদ সদস্য ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘তিন উপজেলায় শিক্ষা স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। গত সাড়ে ৯ বছরে নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক কোন সহিংস ঘটনা ঘটেনি। আমি সাধারণ জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। আবার নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করব।’

শফি আহমেদ বলেন, ‘জোট সরকারের নির্যাতন মোকাবেলায় এলাকার কর্মীদের আগলে রেখেছি। এলাকার মানুষদের পাশে সবসময় থেকেছি। আওয়ামী লীগের রাজনীতির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। আমাকে মনোনয়ন দিলে এ আসনটি শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’

মমতাজ হোসেন চৌধুরী ২০০৮ সাল থেকেই মনোনয়ন চেয়ে আসছেন। প্রতীক না পেলেও তিনি মাঠ ছাড়েননি। এবারও তিনি কর্মিসভা, গণসংযোগ করে যাচ্ছেন।
মমতাজ চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। আশা করি দলীয় হাইকমান্ড বিষয়টি বিবেচনা করে আমাকে মনোনয়ন দেবে। মনোনয়ন না পেলেও দলের হয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করব।    

বিএনপিতে আলোচনায় বাবরপত্নী- ছেলে
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বাবর পতœী শ্রাবণী। তিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদেরকে নিয়েই তিনি মনোনয়ন ফরম তুলেছেন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে। বাবরপুত্র লাবিব ইবনে জামানও নিয়েছেন মনোনয়ন ফরম।

আরও আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ কৃষি-বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-ফারুক, জেলা বিএনপির নেতা মাসুদ রানা চৌধুরী, শিল্পপতি কে এম জহির ফারুক।

চৌধুরী ফারুক বলেন, ‘দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশে নিয়ে এলাকায় কাজ করছি। জেল খেটেছি দীর্ঘদিন, আমি পরীক্ষিত সৈনিক। মনোনয়ন পেলে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে সমর্থ হবো।’

শিল্পপতি জহির ফারুক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নিজ নির্বাচনী এলাকার বেকার যুবকদের দেশ বিদেশে যোগ্যতা অনুসারে চাকরির ব্যবস্থা করেছি। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত