টপ অর্ডারে ধারাবাহিকতা ফিরবে কবে

হিমু আক্তার
 | প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৪:৪৬

১৩, ২, ১০, ৯, ১, ০, ১৫।  এই সংখ্যাগুলো শুধু নিছকই কিছু সংখ্যা নয়। এই সংখ্যাগুলো হলো সদ্য শেষ হওয়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের টপ অর্ডার জুটির পার্টনারশিপ। ১৫ নভেম্বর ১-১ সমতা দিয়ে শেষ হয়েছে জিম্বাবুয়ে সিরিজ। সিলেট টেস্টে লজ্জাজনকভাবে হেরে মিরপুরে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু এই জয়ে কতটুকু রঙিন ছিলেন বাংলাদেশের টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা? দুই টেস্টের চার ইনিংসে কেবল একবার ৫০ পেরিয়েছে ওপেনিং জুটি। বাকি তিনবারের দুটি ১০ এর নিচে, আরেকটি ১৩ রানের।

শুধু কি ওপেনিং? উদ্বোধনী জুটির পর দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ উইকেট জুটিতেও ব্যর্থ ব্যাটসম্যানরা। জুটিগুলো ভেঙেছে তাসের ঘরের মতো। দুই টেস্টেই ২০ এর ঘর পার করতে পারেনি শুরুর জুটিগুলো। সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে যথাক্রমে ৬, ৫, ০ রানে ভেঙেছে দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ জুটি। দ্বিতীয় ইনিংসে ১১, ১৬, ১৯ রানে শেষ এই তিন জুটি। দ্বিতীয় টেস্টেও পরিত্রাণ মেলেনি। প্রথম তিন জুটি ভাঙ্গে ১৩, ৩ ১০ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে আরো বেহাল অবস্থা। ৯, ১, ০ মোট ১৫ রানে ভাঙে প্রথম চারটি জুটি। সাদা পোশাকে বারবার কেন ব্যর্থ টাইগার ব্যাটসম্যানরা? এই ব্যর্থতার শেষ কোথায়? উত্তরটা হয়তো তাদের নিজেদেরও অজানা!

এশিয়া কাপের দুর্দন্ত ফর্ম নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে নামে বাংলাদেশ। নিজেদের প্রিয় ওয়ানডে ফরম্যাটে লাল-সবুজদের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। ধারাবাহিক ছিলেন ওপেনাররাও। পুরো ওয়ানডেতে ইমরুল কায়েসের ব্যাট ছিল অপ্রতিরোধ্য। তিন ইনিংস মিলিয়ে দুই সেঞ্চুরি সহ ৩৪৯ রান করে সিরিজ সেরা হন তিনি। প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ৮৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন আরেক ওপেনার লিটন কুমার দাস। তৃতীয় ম্যাচে লিটনের ব্যর্থতার অভাব পূরণ করেন দীর্ঘদিন জাতীয় দলে আসা-যাওয়ার মাঝে থাকা সৌম্য সরকার। ৯২ বলে ১১৭ রানের ইনিংস খেলে জিতিয়ে দেন বাংলাদেশকে। টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সাফল্যতে ৩-০ তে ওয়ানডে সিরিজ জিতে টাইগাররা।

কিন্তু প্রিয় ফরম্যাট ছেড়ে টেস্টে ফিরতেই আবারও পথ হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ-মুমিনুলরা ভালো করেছেন ঠিকই কিন্তু দুই ম্যাচে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কি হলো! ব্যাটসম্যানদের বাজে পারফরম্যান্সে সিলেটে প্রথম টেস্টে জিম্বাবুয়ের কাছে পেতে হয় ১৫১ রানের বড় হারের লজ্জা। 

অবশ্য সিলেট টেস্টের আগেই শেষ কয়েকটি টেস্টে খুব বাজে ছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স। সর্বশেষ ছয় ইনিংসে চরম ব্যর্থ ছিলেন তারা। দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবালের পরিসংখ্যানে তাকানো যাক। শেষ ছয় ইনিংসে একটি ফিফটিও আসেনি তার ব্যাট থেকে। শেষ ছয় ইনিংসে তার রান (৪, ২, ৪, ১৩, ৪৭, ০)। এবার আসা যাক মুমিনুলের পরিসংখ্যানে। মিরপুর টেস্টে রানে ফিরলেও তার আগে শেষ ছয় ইনিংসে তার রান (০, ৩৩, ১, ০, ০, ১৫)। সমানভাবে মলিন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটও। মিরপুর টেস্টে সেঞ্চুরি করা রিয়াদের আগের শেষ ছয় ইনিংসে রান (০, ১৫, ০, ৪, ০, ১৬)। তাছাড়া রানে নেই ওপেনার লিটন কুমার দাসও। যার ফল হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে জায়গা মেলেনি তার।

টপ অর্ডারদের ব্যর্থতা নিয়ে চিন্তার রেশ ফুটে ওঠে বিসিবি সভাপতির কথাতেও। জিম্বাবুয়ে সিরিজ শেষে বিসিবি বস নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘এই টেস্ট যদি দেখেন, ওপেনিংয়ে বেশ সংগ্রাম করেছি আমরা। দল বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল। আপনার টপ অর্ডার ব্যর্থ হলে, শুরুতেই তিনটি উইকেট পড়ে গেলে দল অনেক চাপে পড়ে যায়। টপ অর্ডারে আমি শুধু ওপেনিংয়ের দুজনের কথা বলছি না। এর আগের যে টেস্ট ম্যাচটি খেলেছি সেখানে আমরা মুশফিক, রিয়াদের কাছ থেকেও রান পাইনি। এটি আসলে অনেক চিন্তার বিষয়।’

আগামী ২২ নভেম্বর শুরু হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ। জিম্বাবুয়ের চেয়ে নিঃসন্দেহে কঠিন প্রতিপক্ষ তারা। লাল বলে বাংলাদেশের চেয়ে বহুগুণে পরিণত ক্যারিয়ানরা। তাদের ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং তিন বিভাগই সমানভাবে শক্তিশালী। সেখানে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা তো আছেই, পাশাপাশি জিম্বাবুয়ে সিরিজে দেখানো বাজে ফিল্ডিং, পেস আক্রমণও যোগ হয়েছে। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও মিলছে না টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার সমাধান। ঠিক কবে কাটবে বাংলাদেশের টপ অর্ডারের এই ব্যর্থতা? সেটার উত্তর ভবিষ্যতের উপর ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত