সেতুতে ওঠার সড়ক নেই, দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ
 | প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:০০

তিন বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও উদ্বোধন করা যায়নি কালনি সেতু। আজ পর্যন্ত নির্মিত হয়নি এর দুই পাশের সংযোগ সড়ক। ফলে দুর্ভোগ কমার বদলে বেড়েছে সুনামগঞ্জের দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলার হাজার হাজার মানুষের।

দিরাই উপজেলার চাঁনপুরে কালনি নদীর ওপর ২০১৩ সালে শুরু হয়ে দুই বছরে নির্মিত হয় ২১০ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটি। কিন্তু গত সাড়ে চার বছরেও সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সংযোগ সড়ক না থাকায় বাঁশের মাচা তৈরি করে যাতায়াত করছেন স্থানীয় লোকজন। আর তাতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে চলাচল।
শফিক, পবিত্র, শঙ্করসহ দিরাই ও জগন্নাথপুরে চলাচলকারী ব্রিজসংলগ্ন গ্রামগুলোর বেশ কয়েকজন জানান, সেতুটি নির্মাণের পর থেকেই তাদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি তাদের কোনো কাজে আসছে না, দুর্ভোগেরও শেষ হচ্ছে না।

তারা বলেন, সেতুটি দিয়ে চলাচল শুরু হলে দিরাই ও জগন্নাথপুরের মাঝে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। জগন্নাথপুর থেকে আমরা কম খরচে পণ্য আনতে পারবো।

লোকজনের অভিযোগ, সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বেঁচে থাকাবস্থায় এই সেতু-সড়কের কাজ শুরু হয়। শুরুতে কাজে অগ্রগতি ছিল। এমনকি দুই বছরে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার পর কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। এমনকি দিরাই-শাল্লার সব উন্নয়নমূলক কাজও ধীরগতিতে চলছে।

তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) জানায়, এ প্রকল্পের প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৮ কোটি ৭২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। পরে ব্যয় বেড়ে প্রায় ২২ কোটি টাকা নির্ধারিত হয়। সরকারি অর্থায়নে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও অর্থ বরাদ্দের ধীরগতিতে কাজ শুরু করা যায়নি।

এখন সেতু প্রকল্পের উদ্বৃত্ত অর্থের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের বরাদ্দে সংযোগ সড়কসহ জগন্নাথপুরের কলকলিয়া পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। সড়কটির নির্মাণ শেষ হলে দিরাই থেকে সিলেটের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার কমে আসবে।

দিরাই উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেকার হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। পাশাপাশি কালনি ব্রিজ থেকে জগন্নাথপুরের কলকলিয়া পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণ করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। নির্মাণকাজে ১০০ কোটি টাকা সহায়তা করছে বিশ্বব্যাংক। সুনামগঞ্জের একমাত্র বন্যামুক্ত সড়ক হবে ২৪ ফুট প্রস্থের সড়কটি।

তিনি জানান, এ সড়কের প্রাক্কলনের কাজ শেষে দরপত্র আহ্বানের অপেক্ষায় রয়েছে। এখন ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।  

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ সড়কের ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ বাবদ ক্ষতিগ্রস্তদের দিতে প্রায় আড়াই কোটি টাকাও হস্তান্তর করা হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যেই সংযোগ সড়কসহ এ সড়কের নির্মাণ কাজ শেষে সেতুটিসহ উদ্বোধন করা হবে বলে জানায় স্থানীয় প্রশাসন।

ঢাকাটাইমস/১৮নভেম্বর/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত