কিশোরগঞ্জ-৬

দুর্গের দখল ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ পাপনের

রাজীবুল হাসান, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
 | প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:২২

ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের দখল নিতে বিএনপি এবার মরিয়া। তবে বরাবর আওয়ামী লীগের দখলে থাকা আসনটি ধরে রাখতে আত্মবিশ্বাসী বর্তমান সংসদ সদস্য বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

১৯৮৬ সাল থেকে অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনে একবারই এখান থেকে হেরেছে আওয়ামী লীগ। ১৯৯১ সালে অনেকটাই অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হন জিল্লুর রহমান। কিন্তু এর পরের তিনটি নির্বাচনের প্রতিবারই জিতেছেন তিনি।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর জিল্লুর রহমানকে করা হয় রাষ্ট্রপতি। ২০১৩ সালে তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে ছেলে নাজমুল হাসান পাপন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আর দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন।

ভৈরবে যাদের হাত ধরে উন্নয়ন হয়েছে তার মধ্যে জিল্লুর রহমান অগ্রগামী। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তিনি এলজিআরডি মন্ত্রী হয়ে তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক কাজ করেন। পাপনও বাবার কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

জিল্লুরপুত্র তার ক্রিকেট বোর্ড এবং ওষুধ কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মার ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়মিত নির্বাচনী এলাকায় আসেন। থাকার চেষ্টা করেন এলাকাবাসীর সুখ দুঃখে। একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও তিনিই আবার নৌকা পাচ্ছেন, এটা নিশ্চিত প্রায়।

বাবার মতোই পাপন সজ্জন মানুষ। মার্জিত ব্যবহার ও সাধারণ জীবন যাপনের কারণে তার সমালোচনা নেই তেমন একটা। দলেও অবস্থান সংহত।
তবে মনোনয়নের লড়াইয়ে আরও নেতা আছেন। ভৈরব পৌর আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি ইফতেখার হোসেন বেনু তাদের একজন। তার সঙ্গে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সাবেক নেতারা।

বেনু ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে ভৈরব কুলিয়ারচর আসনে মনোয়ন দেন, তাহলে বিপুল ভোটে জয়ী হব।’

তবে পাপনের অনুসারী ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সায়দুল্লাহ মিয়া বলেনম, ‘আগামী নির্বাচনেও নাজমুল হাসান পাপন দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন, এটা নিশ্চিত। তিনি নিয়মিত নির্বাচনী এলাকায় আসেন এবং ভৈরব কুলিয়ারচরের গ্রামগঞ্জে জনসংযোগসহ জনসভা করছেন।

লড়াই করতে চায় বিএনপি

১৯৯১ সালের নির্বাচনে জিল্লুর রহমানকে হারিয়ে এখান থেকে জিতেছিলেন বিএনপির আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া। এরপর থেকে আসনটি তাদের হাতছাড়া। এবার আসনটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করবে তারা।

নবম সংসদ নির্বাচনে এখান থেকে মনোনয়ন পান কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম।  এবারও তিনি মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। ওই নির্বাচনে এক লাখ ৪৪ হাজার ৫৯০ ভোট পেয়ে জিতেন জিল্লুর রহমান। শরীফুল পান ৮৯ হাজার ৮৩৭ ভোট।

জিল্লুর রাষ্ট্রতি হলে ২০০৯ সালের ৩ এপ্রিলের পাপন এক লাখ ৬ হাজার ১৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। শরীফুল পান ৬৮ হাজার ৩২৭ ভোট। ওই নির্বাচন থেকেই মূলত পাপন এবং শরীফুলের রাজনৈতিক দ্বৈরথ শুরু।
ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শরীফুল আলমের পক্ষে বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জে গণসংযোগ, জনসভা ও কর্মিসভা করছি। তবে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে তিনি মাঠে নামছেন না। মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পরই তিনি মাঠে নামবেন।’

নাজমুল হাসান পাপনের নিজ উপজেলা ভৈরব এবং শরীফুলের কুলিয়ারচর। এই আসনের দুই উপজেলা থেকে দুই প্রধান দলের প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় দলীয় হিসাবের বাইরে নির্বাচনে আঞ্চলিকতাও নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়াও বিএনপি থেকে মনোয়ন ফরম জমা দিয়েছেন দল থেকে বহিষ্কৃত ভৈরব উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন। তাকে সংসদ নির্বাচনে দুইবার মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। বহিষ্কৃত হলেও দলের একটি অংশ তার সঙ্গেই আছে।

ঢাকা টাইমসকে গিয়াস বলেন, ‘যদি দল আমাকে দলীয় মনোয়ন দেয়, তাহলে আমি বিএনপিকে বিপুল ভোটে  জয়ী করব।’

ভৈরব উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন এবং কুলিয়ারচর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে মোট ভোটার তিন লাখ ২৯ হাজার ১৪৮ জন। এর মধ্যে ভৈরবে এক লাখ ৯৭ হাজার ৮৪০ জন এবং কুলিয়ারচরে এক লাখ ৩১ হাজার ৩০৮ জন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত