সব হারিয়েও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প ‘হাসিনা: অ্যা ডটার’স টেল’

আব্দুল্লাহ আল হাদী
| আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:৪০ | প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ১০:২০

যারা জীবনে নানা ট্রাজেডির কারণে স্তম্ভিত হয়ে গেছেন সেই মানুষগুলোকে ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে ডকুফিল্ম ‘হাসিনা অ্যা ডটার’স টেল। পরিবার-পরিজন সব হারানোর পরও অদম্য ইচ্ছা ও মানসিক শক্তির জোরে মানুষ যে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন তারও জ্বলন্ত উদাহরণ প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে নিয়ে তৈরি এই ফিল্মটি।

মুক্তির প্রথম দিনে দেখা হয়নি। তাই মনে কিছুটা আফসোসও কাজ করেছে। কিন্তু তাই বলে প্রধানমন্ত্রীর জীবন সংগ্রাম নিয়ে তৈরি সিনেমা দেখবো না তা কি হয়? ৩১তম বিসিএসের ব্যাচমেটদের নিয়ে ছুঁটে গেলাম বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে। মন নিয়ে দেখলাম বাবা, মা, ভাইসহ পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যদের হারানো বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার জীবনের প্রতিটি সংগ্রামের কাহিনি।

৭০ মিনিটের ডকুফিল্মটিতে থাকা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানার আবেগঘন কণ্ঠ, জাতির পিতার হত্যার ঘটনা, দুই বোনের নির্বাসিত জীবনের কথাগুলো আমার মত যে কাউকে নাড়া দিবে। শেখ হাসিনার জীবনের যে সংগ্রাম সেটা কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে সহ্য করা, হজম করা সম্ভব নয়। কিন্তু তিনি একজন নারী হয়ে, সাধারণ মানুষ হয়ে এই সামাজিক আবর্জনাগুলোকে হজম করে একটা সুন্দর দেশ উপহার দিয়েছেন জাতিকে। সেটাও দেখানো হয়েছে এখানে।

শুধু তাই নয়, ডকুফিল্মটিতে প্রধানমন্ত্রী নয় বরং ব্যক্তি শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার জীবনের কিছু চিত্রই ফুটে উঠেছে। যা হয়তো অনেকের কল্পনারও বাইরে। এখানে একাধারে শেখ হাসিনাকে একজন মমতাময়ী মা, আদর্শ স্ত্রী, বোন, যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান, জনগণের নেত্রী হিসেবে দেখা গেছে। সঙ্গে তাদের জীবনের উত্থান-পতনের কাহিনিও ব্যথিত করবে দর্শককে।

সবকিছুর পরে একজন মানুষ যখন সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে, তার ভেতর থেকে কীভাবে সামনে এগিয়ে চলতে হয়, সেই অনুপ্রেরণা পাওয়া যাবে ফিল্মটি দেখলে। বিভিন্ন দিক নির্দেশনাও পাওয়া যাবে এখান থেকে।

পুরো জায়গায় বাবার হত্যাকারীদের নিজ হাতে শায়েস্তা করতে শেখ রেহানার যে বক্তব্য সিনেমাটিতে শোনা গেছে এটাও সব হারানো মানুষের মনে সাহসের সঞ্চার করবে।

তবে দীর্ঘ পাঁচ বছর সাধনার পর যেহেতু ডকুফিল্মটি করা হয়েছে, তাই আরো কিছু বিষয় এখানে আনা যেত বলে মনে হয়। বিশেষ করে, শেখ হাসিনার উপর শুধু ২১ আগস্টই নয়, চট্টগ্রামে হামলা হয়েছে, সাতক্ষীরার কলারোয়াতে হামলা হয়েছে। এমন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ট্রাজেডিও এতে স্থান পেতে পারত। শেখ হাসিনার কিছু কাজ, কিছু মুহুর্তের কথা যা সবাই সবিস্তারে জানেন সেগুলো না এনে আরো গভীরে যাওয়া যেত।

সর্বোপরি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) ও অ্যাপলবক্স ফিল্মস এবং এমন চমৎকার একটি উদ্যোগকে সফল করার জন্য জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ জানাব। সবাইকে ডকুফিল্মটি দেখার জন্য বলব। পাশাপাশি বাণিজ্যিক চিন্তাকে পাশে রেখে সবাই যেন দেখতে পারেন, জানতে পারেন, সেজন্য ইউটিউবে এটা প্রকাশের দাবি করব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত